১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এরশাদকে মুক্তি না দিলে লাগাতর হরতাল অবরোধের হুমকি
মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » রংপুর

১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এরশাদকে মুক্তি না দিলে লাগাতর হরতাল অবরোধের হুমকি

Rangpur জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মুক্তির দাবিতে রংপুর এখন উত্তাল। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সাথে যোগ হয়েছে রংপুরের আবালবৃদ্ধ বণিতা। শনিবার দুপুরে বিশাল বিক্ষোভ শেষে সমাবেশে স্থানীয় জেষ্ঠ্য নেতারা ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এরশাদকে মুক্তি না দিলে ১৭ ডিসেম্বর থেকে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে লাগাতর অবরোধ এবং অবস্থান করার হুমকি দিয়েছেন। এছাড়াও মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করলেও তা গ্রহন না করাকে তামাশা উল্লেখ করে নেতারা একতরফা নির্বাচন প্রতিহতেরও ঘোষণা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে জাতীয় পার্টির দুর্গ বলে খ্যাত রংপুরে নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। শুক্রবার সন্ধায় এরশাদের বিশেষ উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজের বিবৃতির পর আন্দোলনে নামার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারা। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এরশাদকে মুক্তি এবং বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরকারকে সরে আসার দাবিতে গতকাল শনিবার দুপুরে বিশাল বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে জাতীয় পার্টি। বেলা সাড়ে ১২ টায় মিছিলটি নগরীর সেন্টাল রোডস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পায়রা চত্বরে সমাবেশ করে তারা।

প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং রংপুর জেলা ও মহানগর সভাপতি সাবেক এমপি মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, সবাই বলে এরশাদ স্যার স্বৈরাচার, আর ভোট আসলে উনি হন দুই নেত্রীর আমের আচার। কারণ ওনারা জানেন এরশাদ স্যার যেদিকে যান। সেদিকেই সরকার গঠন হয়। ১৯৯৭ সালেও আওয়ামী লীগ এরশাদ স্যারকে আটক করে রেখেছিল। কিন্তু রংপুরের মানুষের গণআন্দোলনের মুখে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। আমরা আন্দোলন করেই এবারও স্যারকে মুক্ত করে আনবো।

তিনি ঘোষণা করেন, আপনারা লাঠি নিয়ে প্রস্তুত থাকুন। বঙ্গবন্ধুর মতো আমিও ঘোষণা করছি, আপনাদের যার যা আছে তা নিয়েই প্রস্তুত থাকুন। কর্মসূচি দেওয়া মাত্রই পাড়া-মহল্লা, জেলা-উপজেলা, নগর-বন্দর, ইউনিয়ন-ওয়ার্ড সবখানেই লাঠি নিয়ে মিছিল বিক্ষোভ সমাবেশ করে রাস্তায় অবস্থান নিবেন। আগামি ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে স্যারকে মুক্তি দেওয়া না হলে লাগাতার অবরোধ করা হবে। রাজপথ, রেলপথসহ সমস্ত জায়গায় অবস্থান নেওয়া হবে। সারা বাংলা অচল করে দেওয়া হবে।

রংপুরের জেষ্ঠ্য নেতাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে আশংকা প্রকাশ করে রাঙ্গা বলেন, স্যার যেহেতু আটক হয়েছে তাই আমি, করিম  ভরসা, নান্টু, কাদেরীসহ সকল নেতাকে আটক করা হতে পারে। আমরা গ্রেপ্তার হলে তো নির্দেশ দিতে পারবো না। তাই এখনই নির্দেশ দিয়ে রাখলাম। আমরা গ্রেপ্তার হলে আপনারা নিজেরাই নেতা হিসেবে নির্দেশ দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ সাবেক এমপি করিম উদ্দিন ভরসা আঞ্চলিক ভাষায় ঘোষণা করেন, হামার স্যার একতরফা ভোটত যাবান নয়, আর স্বৈরাচার সরকার তাক ছাইরবার নয়। এবার আন্দোলন কাক্ কয় বুজি দেমো। স্যারোক ছাড়ি না দিলে উত্তরবঙ্গ অচল করি দেমো। হামরা সেজন্য প্রস্তুত আচি।

রাঙ্গা সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, রংপুরের আসনগুলো থেকে স্যারসহ আমরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছি। কিন্তু সরকার আমাদেরকে প্রত্যাহার করেন নি। এটা এক ধরণের তামাশা এবং ব্যাক্তির অধিকার হরণ। আপনারাও বিভ্রান্ত হবেন না।

তিনি বলেন, আপনাদের বুঝতে হবে যে মহাজোট ৫ বছরে আমাদের মাত্র ১ জন মন্ত্রী দিল। তারা আবার রাতারাতি ভালো হয়ে কয়েকদিনের জন্য কেন ৬ জন মন্ত্রী দিয়েছে। আসলে এর মাধ্যমে তারা একতরফা নির্বাচন আমাদেরকে দিয়ে জায়েজ করতে চাইছে।  তাই এই প্রহসনের নির্বাচনে স্যার না যাওযার ঘোষণা দিয়েছে। আমরাও যাবো না। এই অবৈধ নির্বাচন আমরা সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করবো। এ সময় নেতাকর্মীরা মুহুর্মহু শ্লোগান দিয়ে জেষ্ঠ নেতাদের বক্তব্যকে স্বাগত জানায়। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মাসুদ চৌধুরী নান্টু, মহানগর সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন কাদেরী প্রমুখ। এ সময় মিছিলে মহানগর জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ