আসছে লাগাতার অবরোধ হরতাল!

Oborodh_strikeদশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল স্থগিত,তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান ও ১৮ দলের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে এবার লাগাতার অবরোধ-হরতাল কমসূচি আসতে পারে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট ৩৬ ঘন্টা, ৪৮ ঘন্টা ও ৯১ ঘন্টার অবরোধের পর এবার লাগাতার অবরোধে যাওয়ার কথা ভাবছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ  শনিবার বিএনপির শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে। সন্ধ্যায় বেগম জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামি ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অবরোধ ও হরতালের কর্মসূচি দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত একরকম নেওয়াই আছে। এখন এটি চূড়ান্ত করার পালা। আর সেটি করতেই দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ও কয়েকজন শীর্ষ নেতা সন্ধ্যায় বৈঠক করবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের আইন উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন,  ১৭ ডিসেম্বরের পর বাংলাদেশকে অচল করে দেওয়া হবে। সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে ঢাকা।

তার আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্কট  সমাধান নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা। সে বৈঠক সফল না হলে বিএনপি সমঝোতার সব আশা ছেড়ে দিয়ে কঠোর আন্দোলনের পথে যাবে।

তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কমসূচির বিষয়ে বিএনপির কোনো নেতাই কিছু বলতে রাজী নন। দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, ১৪ ডিসেম্বর শনিবার সারাদেশে জেলা, উপজেলা, থানা ও সকল মহানগরীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস পালন করা হবে। রোববার রাজধানীসহ সারাদেশে সকল ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা, জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সোমবার যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করবে বিএনপি।

কিন্তু বিজয় দিবসের পর বিএনপি কোন পথে যাবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। পল্টন এলাকার মুদি দোকানি নাজমুল বলেন,‘ব্যবসা বানিজ্য সব অবরোধে ভাইস্যা গেছে। রিক্স নিয়া দোকান খুললেও বেচা বিক্রি নাই।দোকানের জিনিস পত্র সব নষ্ট হইতাছে। এরকম চলতে থাকলে দোকান বন্ধ কইরা গ্রামে যাওনগা লাগব।’

এদিকে দেশের  রাজনৈতিক অবস্থার চরম অবনতি হলেও দীর্ঘ দিন কোনও আলোচনায় বসতে পারেনি প্রধান দুটি দল আ.লীগ ও বিএনপি। কিন্তু জাতিসংঘ মহাসচিবের দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর মধ্যস্থতায় ইতোমধ্যে দু’দলের মহাসচিব পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়ে গেলেও কাটেনি রাজনৈতিক সংকট। তারা এখনও সমাধানে পৌছান নি।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল জানান,বিএনপি সরকারি দলের কাছে যেসব প্রস্তাব দিয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে আজ  আ.লীগ তাদের অবস্থান জানাবে। এখনও পর্যন্ত কোনও ফলপ্রসু সমাধান আমরা পাইনি। শেষ চেষ্টা হিসেবে আজ  শনিবার বিকেলে আবারও দু’দলের মধ্যে সংলাপ হবে বলেও জানান তিনি।

গোটা জাতি এখন রাজনৈতিক সংকটের ফলপ্রসু সমাধানের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সৈয়দ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ চায়, আমরাও চাই। এই দাবিকে মেনে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে, অন্যথায় গণঅভ্যুত্থানে তার পতন নিশ্চিত। এ দাবি বাস্তবায়নে যা করার দরকার তার সবই করবে ১৮ দলীয় জোট।