দিনাজপুরে জামায়াত শিবিরের তাণ্ডব

Dinajpur_jamat_Clash_1যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের পর শুক্রবার দিনাজপুরে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে জামায়াত শিবির কর্মীরা। এসময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত আটজন।

জামায়াত শিবির কর্মীরা জেলার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে রাখে শিবিরের নেতা কর্মীরা। তারা রাস্তা কেটে ও গাছের গুড়ি ফেলে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এর ফলে জেলার সব রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে নিরাপত্তার অভাবে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং দিনাজপুর সরকারী কলেজসহ বিভিন্ন ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ করতে শুরু করেছে।

ক্ষুব্ধ জামায়াত-শিবিরকর্মীরা খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলার ৩টি স্থানে পাকা সড়ক খনন এবং চিরিরবন্দর কারেন্টেরহাট বেইলি ব্রিজের ৩টি পাটাতন খুলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িক বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন।

খানসামা উপজেলার নির্বাচন অফিসে জামায়াত-শিবির দু’দফা হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংর্ঘষের ঘটনায় কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৯ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ।

এদিকে, দিনাজপুর-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আজিজুল হক চৌধুরীর নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া বাজারস্থ বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন বিক্ষুব্ধরা। এসময় আজিজুল হক বাড়িতে ছিলেন না। এ ঘটনার পর ফের হামলার আশঙ্কায় বাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তার স্ত্রী।

এসময় ওই এলাকার একটি ফিলিংস্টেশনে রাখা ৬টি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে জামায়াত-শিবির।

এছাড়া, চিরিরবন্দর উপজেলার বিন্যাকুড়ি হাটে ১২টি দোকান, খানসামা উপজেলার পাকেরহাট এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই নেতার বাড়ি ও মার্কেটসহ শহরের বেশ কিছু স্থানে দোকানপাট ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক আহমদ শামীম আল রাজী।

অপরদিকে, চিরিরবন্দর উপজেলার পুরাতন ভূষিবন্দরে মোটর পরিবহন মালিক সমিতিরি জেলা সভাপতি ভবনী শঙ্কর আগরওয়ালার ৬টি বাসে অগ্নিসংযোগ করেছেন ক্ষুব্ধ জামায়াত-শিবিরকর্মীরা।

খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃষ্ণ কুমার সরকার ও চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবের সত্যতা নিশ্চিত  করেছেন।

জেলা জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করেছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।