শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২০
Home App Home Page স্ন্যাপচ্যাটের আইপিও: অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু

স্ন্যাপচ্যাটের আইপিও: অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু

স্ন্যাপচ্যাটের আইপিও: অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটের মালিক স্ন্যাপ ইনকরপোরেশনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আইপিওতে আসার সময় প্রসপেক্টাসে কিছু তথ্য আড়াল করা হয়েছে, পাশাপাশি কিছু ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই অভিযোগকে গুরুত্বে সঙ্গে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। সংস্থাটি ওই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে তদন্তে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ- ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিজ। খবর সিএনএন, বিজনেস ইনসাইডার

তদন্তের অংশ হিসেবে আগামী ১০ ডিসেম্বর স্ন্যাপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইভান স্পাইজেলকে শুনানীতে ডাকা হয়েছে।

snap-inc.jpg

এদিকে তদন্তের খবর প্রকাশের পরের দিনই নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে স্ন্যাপের শেয়ারের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে যায়। অবশ্য আইপিওতে আসার কিছুদিন পর থেকেই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম নিম্নমুখী। আইপিওতে স্ন্যাপ ইনকরপোরেশন ১৭ টাকা দরে শেয়ার বিক্রি করেছিল। এপ্রিলে স্ন্যাপে একটি বড় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক বিনিয়োগ করার ঘোষণা দিলে এর শেয়ারের দাম বেড়ে ২৭ ডলারে উঠে। এর কয়েকদিন পর শুরু হয় দরপতন। এরপর আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি স্ন্যাপের শেয়ার। বুধবার শেয়ারটির দাম নেমে আসে ৬ দশমিক ৪৫ ডলারে।

গত বছরের মার্চ মাসে আইপিও’র মাধ্যমে ৩৪০ কোটি ডলার সংগ্রহ করে স্ন্যাপ ইনকরপোরেশন। বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা।

আইপিওর দুই মাস পর একজন বিনিয়োগকারী লসএঞ্জেলসের ডিস্ট্রিক্ট জজ কোর্টে স্ন্যাপ ইনকরপোরেশনের বিরুদ্ধে আইপিওতে তথ্য আড়াল করার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে।

অভিযোগে বলা হয়, বাজারে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফেসবুক এর মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রাম অ্যাপের কারণে স্ন্যাপ ইনকরপোরেশনের ব্যবসায় কী প্রভাব পড়ছে আইপিওর প্রসপেক্টাসে তা উল্লেখ করেনি স্ন্যাপ। এটি বড় ধরনের প্রতারণা। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

গত মঙ্গলবার বিকালে স্ন্যাপ ইনকরপোরেশন এক বিবৃতিতে তাদের আইপিও নিয়ে এসইসি ও জাস্টিজ ডিপার্টমেন্টের তদন্তের বিষয়টি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্ত এখনো দৃশ্যমান নয়। তবে তারা আইপিও সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে তদন্ত করছেন বলে জানানো হয়েছে। আইপিওর সময় তথ্য আড়ালের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ঠিক নয় বলে দাবি করা হয় বিবৃতিতে।

উল্লেখ, স্ন্যাপচ্যাট হচ্ছে একটি ছবি শেয়ারিং অ্যাপ। ২০১৬ সালের আগস্টে এই আত্মপ্রকাশ করার কিছু দিনের মধ্যে সারাবিশ্বে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠে। স্ন্যাপ চ্যাটের যাত্রা শুরুর আট মাস পর বাজারে আসে একই ধরনের অ্যাপ ইনস্টাগ্রাম। শুরু থেকেই ইস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে স্ন্যাপের আইডিয়া চুরি ও নকলের অভিযোগ উঠতে থাকে।
ফেসবুক ইনস্টাগ্রামকে কিনে নেওয়ার পর থেকে আইডিয়া চুরির প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। কিন্তু চুরি করা আইডিয়া দিয়েই বাজার দখল করে নিতে সক্ষম হয় ইনস্টাগ্রাম। মূলত ফেসবুকের জনপ্রিয়তা, তার নেটওয়ার্ক ও আগ্রাসী মার্কেটিং এর কারণে স্ন্যাপচ্যাটের চেয়ে এগিয়ে যায় ইনস্টাগ্রাম। ধীরে ধীরে গ্রাহক (ব্যবহারকারী) হারাতে থাকে স্ন্যাপ। স্ন্যাপের গ্রাহকদের অনেকেই ইনস্টাগ্রামে স্থানান্তরিত হয়।
সর্বশেষ প্রান্তিকে প্রায় ৫০ লাখ ব্যবহারকারী হারিয়েছে স্ন্যাপ। বর্তমানে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লাখের মতো। অন্যদিকে ইনস্টাগ্রামের ব্যবহারকারী প্রায় ৪ কোটি, যা স্ন্যাপের দ্বিগুনেরও বেশি।
স্ন্যাপের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এই বিষয়টিকেই তুলে আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, ইনস্টাগ্রামের কাছ থেকে কী ধরনের ব্যবসায়িক হুমকি আসছে তা স্পষ্ট করা হয়নি স্ন্যাপের আইপিও ডকুমেন্টসে। ইনস্টাগ্রামের কাছে নিজেদের গ্রাহক হারানোর বিষয়টিও আড়াল করে যাওয়া হয়।

এদিকে স্ন্যাপের শেয়ারের দর পতনের জন্য বেশির ভাগ বিশ্লেষক তদন্তের চেয়ে কোম্পানিটির গ্রাহক হারানোর বিষয়টিকে বেশি দায়ি করেছেন। যদিও আইপিওর পর থেকে কোম্পানিটি ব্যবসা ভালো করছে এবং তার লোকসানের পরিমাণ অনেক কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে; তবু কোম্পানির ভবিষ্যত নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, গ্রাহক সংখ্যা বাড়াতে না পারলে আগামি দিনে ব্যবসাও কমে যাবে কোম্পানিটির। তাতে কোনোদিনই হয়ত মুনাফায় ফিরতে পারবে না তারা।