ArthoSuchak
শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

৭০০ বছর আগের ইতিহাস জানতে যেতে পারেন কর্ণাটক

অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের মাটিতে মিশে রয়েছে হাজার হাজার ইতিহাস। যা অনেকেই জানেন আবার অনেকেই জানেন না। ভারতে প্রধানত মন্দিরের সংখ্যা বেশি। আর তাছাড়া বাকি সবটাই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে৷ কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের সামনে একবার গিয়ে দাঁড়ালেই টের পাওয়া যায় ৭০০ বছর আগে কেমন ছিল এই দেশ।

ভারতের কর্ণাটকের হাম্পি এখন নিতান্তই একটি ছোট শহর। কিন্তু আজ থেকে প্রায় ৭০০ বছর আগে এই হাম্পি ছিল মধ্যযুগের হিন্দু রাজ্য বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজধানী। তুঙ্গভদ্রার তীরে হাম্পি দর্শন করতে গিয়ে প্রথমেই চোখে পড়বে একাধিক মন্দিরে। আর তারও কিছুটা দূরে দক্ষিণ দিকে একাধিক রাজকীয় প্রাসাদ। শহরে ঢুকতেই প্রথমে বিরূপাক্ষ মন্দির বা পম্পাপতির মন্দিরে দেখা মিলবে। বলা হয়ে থাকে, হাম্পির সবচেয়ে পুরনো মন্দির এটিই।

এই মন্দিরটির বিশেষত্ব হল, মন্দিরের প্রবেশ পথে দু’টি গোপুরম এবং দু’টি বৃহত্‍ প্রাঙ্গণ। মন্দিরের গর্ভগৃহটি গোপুরমের একেবারে সোজাসুজ। দ্বিতীয় গোপুরমটি রায় গোপুরম হিসেবে পরিচিত। এটি পেরোলেই যে প্রাঙ্গণটিতে ঢুকবেন সেখান থেকে কিছু দূর এগোলেই বাঁদিকে পড়বে পাতালেশ্বরের মন্দির, মুক্তি নরসিংহ এবং সূর্যনারায়ণের মন্দির। আর ডান দিকে পড়বে লক্ষ্মীনরসিংহ ও মহিষাসুর মর্দিনীর মন্দির।

আস্তে আস্তে মন্দিরে প্রবেশ করলে দেখতে পাবেন পাথরের তৈরি বিরূপাক্ষ অর্থাৎ শিবলিঙ্গ বিরাজ করছেন মন্দিরজুড়ে। এঁনারই নাম পম্পাপতি। সেজন্য জায়গার নাম পম্পাক্ষেত্র বা হাম্পি৷ এবার এর উত্তর দিকে এগোলে পাবেন দু’টি মন্দির। একটি হল পম্পাদেবী আর অন্যটি ভুবনেশ্বরী মন্দির। মন্দির ঘোরা শেষ, মন্দিরের ইতিহাস জানাও প্রায় শেষ। এবার মন্দির থেকে বেরিয়ে এলেই দেখতে পাবেন পশ্চিমে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে মাতুঙ্গা পাহাড়। সেখানেও রয়েছে আরও একটি মন্দির যার নাম বীরভুবনেশ্বরের মন্দির। এখানে উঠলেই বিধ্বস্ত হাম্পির পুরো দৃশ্য ধরা পড়বে আপনার চোখে।

ইতিহাস ঘাটলে জানতে পারবেন, এই মন্দির চত্বরে এক সময় নানা রকমের দামী দামী পাথর ও মুক্তোর বাজার ছিল। এখান থেকে আরও কিছুটা পূর্বদিকে হাঁটলেই কিংস ব্যাল্যান্স পড়বে। সেখানে রাজা নিজের ওজনের সমান মণি-মুক্তো-রূপো পাল্লায় মেপে ব্রাহ্মণ ও গরীবদের যৌতুক দিতেন। কিংস ব্যাল্যান্সকে পিছনে রেখে আর একটু গেলেই পড়বে হাম্পির সব চাইতে অমূল্য সম্পদ বিধালা মন্দির। শহরে ঢুকতে না ঢুকতেই অনেক মন্দিরের ইতিহাস জানা হল। তবে বাকি থেকে গেল আপনার আসল মন্দির দর্শন। আসল মন্দির দর্শন করতে যেতে গেলে নিতে হবে একটি গাড়ি৷

যখন পথ দিয়ে গাড়িতে করে আসল মন্দির দেখতে যাবেন, তখন শুধু চোখে পড়বে সারি সারি নানা রকম কীর্তির ধ্বংসস্তূপ। এই মন্দিরের ঠিক সামনেই আছে পৃথিবী বিখ্যাত গ্রানাইট পাথরের রথ। এমনকি ইতিহাস বলছে, কোণারকের রথ এই রথ খোদাই করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। যাক আবার ফিরে আসা যাক বিরূপাক্ষ মন্দিরে। এবার দক্ষিণ দিকে হাঁটলে পড়বে হেমকুন্টা নামে একটি জায়গা। যেখানে অনেকগুলি ছোট ছোট মন্দির আছে। হেমকুন্টা থেকে পূর্ব দিকে হেঁটে দক্ষিণ দিকে ঘুরলেই দেখতে পাওয়া যাবে বিশালাকার গণেশ মূর্তি। একশিলার তৈরি প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার এই মূর্তিটি সত্যিই আশ্চর্যের।

এখান থেকে প্রায় এক কিমি দূরত্বে কমলাপুরে রয়েছে বড় শিবলিঙ্গ। গোটা হাম্পি শহরে এটিই সব চাইতে উচ্চতায় বড়। আর এই শিবলিঙ্গটি জলের মধ্যে স্থাপিত। কারণ একটি জল প্রবাহ মন্দিরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বড় শিবলিঙ্গের কাছেই আছে নৃশিংহদেবতার মূর্তি। তবে বিদেশি হানায় এই মূর্তিটি এখন অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত। এবার দক্ষিণ দিকে এগোলে চোখে পড়বে বিশাল বিধ্বস্ত রাজপ্রাসাদের অস্তিত্ব। এখানকার লোটাস মহল, কুইনস বাথ এককথায় অনবদ্য। কুইনস বাত বা মহারাণীর স্নানাগারটির স্থাপত্যশিল্প হিন্দু-মুসলিম শৈলীর মিশ্রণে।

অর্থসূচক/এসএফ

এই বিভাগের আরো সংবাদ