ভৈরবে আগাম সবজি চাষে কৃষকের মুখে হাসি
সোমবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » কৃষি

ভৈরবে আগাম সবজি চাষে কৃষকের মুখে হাসি

শীতকালীন সবজির আগাম চাষ করে এবার ভালো আয় করেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের কৃষকরা। বর্ষা মৌসুমের বাজারে সবজির আকালের সময়ে বিভিন্ন জাতের সবজির চাষ করে তারা এবার বেশ লাভবান হয়েছেন। আর স্থানীয় কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে সবজী চাষে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অলাভজনক ফসল চাষ বাদ দিয়ে এখানকার কৃষকরা আগাম সবজি চাষে উৎসাহিত হবে বলে অভিমত কৃষি বিভাগের। এতে করে কৃষকরা লাভবান হবার পাশাপাশি বর্ষাকালে বাজারে সবজির চাহিদা পূরণে রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

Bhairab vegetable

ভৈরবের বিভিন্ন এলাকার মাঠে মাঠে এখন শীতকালীন বিভিন্ন সবজির সমারোহ। লাউ, মুলা, ডাটা, লালশাক, ধুন্দল, করলা, ঢেড়স, শষা, শিম, বরবটি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, কাকরল, জালি-কি নেই? শীতকালীন এইসব সবজিতে এখন বাজার সয়লাব। আর সেইসব সবজিজমির পরিচর্যা, সবজি সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি ইত্যাদি কাজে ভীষণ ব্যস্ত কৃষকসহ কৃষাণী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা।

কৃষকরা জানান, আগাম সবজিতে ভালো মুনাফা হওয়ায় তারা এ সময় সবজি চাষ করে থাকেন। এ সময় বাজার দর চড়া থাকায় অল্প খরচে চাষ করা সবজি বিক্রি করে অধিক লাভবান হন তারা। অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় দিন দিন তরা এই আগাম সবজি চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠছেন বলেও জানান।

উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ছনছাড়া গ্রামের আগাম সবজি চাষী আবু তাহের মিয়া জানান, তিনি প্রায় দুই বিঘা জমিতে ঢেড়স, ডাটা, মূলার চাষ করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার সবজী বিক্রি করেছেন। আর ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করা যাবে বলে জানিয়ে তিনি জানান, তার মোট খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকার মতো।

একই এলাকার কৃষক আবু কালাম জানান, তিনি ১০ শতক জমিতে লাউয়ের চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। তিনি ইতোমধ্যে ডগাসহ লাউ বিক্রি করেছেন ৩০ হাজার টাকার মতো। বাকী দিনগুলিতে আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Bhairab vegetable 2

কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আৎকাপাড়া গ্রামের আশরাফুল আলম জানান, ৭ কাঠা জমিতে ডাটা শাকের চাষ করে তিনি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। অথচ তার খরচ হয়েছিলো মাত্র ১৫শ টাকা।

একই এলাকার আব্দুল মোতালিব মিয়া ১৫ শতক জমিতে লাউ এবং দুই বিঘা জমিতে জালিকুমড়া, শষা, করলা, ধুন্দলের মিশ্র আবাদ করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে দেড় লাখ টাকার মতো সবজি বিক্রি করেছেন জানিয়ে জানান,পুরনো মাচায় আবাদ করায় তার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকার মতো।তিনি অবশিষ্ট দিনগুলোতে আরও ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন।

Bhairab vegetable 3

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়,আগাম চাষ করা সবজির বাজার মূল্য ভালো থাকায় এখানকার কৃষকরা এইসব সবজি চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছে। ফলে দিন দিন অলাভজনক ফসল চাষের পরিবর্তে এখানকার কৃষকরা শীতকালীন বিভিন্ন সবজির আগাম চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠছে। ফলে এখানে দিন দিন বাড়ছে আগাম সবজির আবাদ। আর উৎপাদিত ওইসব সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আশে পাশের জেলা-উপজেলাসহ রাজধানী শহর ঢাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে এখানকার কৃষকরা দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন বলে অভিমত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো:জালাল উদ্দিন প্রধানের।

কৃষকদের সহায়তায় স্থানীয় কৃষি বিভাগ বিভিন্ন প্রকার কারিগরি সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ সরবরাহের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করে যাচ্ছেন বলেও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ