ArthoSuchak
সোমবার, ৩০শে মার্চ, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়

মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্তদের নাম

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ১৯ জনকে যাবজ্জীবন ও বাকি ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন।

এ রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুকে। এ ছাড়া আরও ১৭ জনকে একই সাজা দিয়েছেন আদালত। এই ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন কারাগারে আছেন, বাকি দুজন পলাতক।

কারাগারে থাকা ১৭ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআই মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম, মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মো. আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ ও মো. উজ্জ্বল ওরফে রতন।

আর পলাতক দুজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন, আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই ও জঙ্গিনেতা মাওলানা মো. তাজউদ্দীন এবং হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার জীবিত ৪৯ আসামির মধ্যে এই ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, সাবেক সাংসদ কায়কোবাদসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া এই ১৯ আসামির মধ্যে ১৩ জনই পলাতক রয়েছেন। আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন ছয়জন।

আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা ১৯ জন হলেন, শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল (উপস্থিত), মাওলানা আবদুর রউফ ওরফের আবু ওমর আবু হোমাইরা ওরফে পীরসাহেব (উপস্থিত), মাওলানা সাব্বির আহমদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির (উপস্থিত), আরিফ হাসান ওরফে সুজন ওরফে আবদুর রাজ্জাক (উপস্থিত), হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া (উপস্থিত), আবু বকর ওরফে হাফে সেলিম হাওলাদার (উপস্থিত), মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ (উপস্থিত), মহিবুল মোত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন (পলাতক), আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন (পলাতক), মো. খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম বদর ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর (পলাতক), মো. ইকবাল (পলাতক), লিটন ওরফে মাওলানা লিটন (পলাতক), তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া (পলাতক), হারিছ চৌধুরী (পলাতক), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আবদুল হাই (পলাতক) এবং রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে বাবু ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক)।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার জীবিত ৪৯ আসামির মধ্যে এই ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পাওয়া ১১ জন : ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে আট পুলিশ ও তিন সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই বছর করে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন নৌবাহিনীর লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক (খালেদা জিয়ার ভাগনে), লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন, সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা, সাবেক আইজিপি শহুদুল হক, সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান (সাবেক ডিসি পূর্ব), সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন (তদন্ত কর্মকর্তা) ও সাবেক পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান খান। রায়ের একটি আদেশে দুই বছরের এবং আরেকটি আদেশে তিন বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন সাবেক আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী, সিআইডির সাবেক সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান ও সাবেক এএসপি আবদুর রশীদ।

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শোভাযাত্রায় গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। এছাড়া আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী।

মামলার অভিযোগপত্রে ৫২ জনকে আসামি করা হয়েছিলো। এর মধ্যে জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল আলম বিপুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের নাম বাদ দেয়া হয়। আজ ৪৯ জনের মধ্যে ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনকে যাবজ্জীন কারাদণ্ড সাজা দেওয়া হয়। এছাড়া ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদেণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

অর্থসূচক/এসকে

এই বিভাগের আরো সংবাদ