ডব্লিউটিও ছেড়ে যাওয়ার হুমকি ট্রাম্পের
সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ডব্লিউটিও ছেড়ে যাওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাচ্ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি সংস্থাটি থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

ডব্লিউটিও’র অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নিজের অবস্থান পরিবর্তন না করলে সেখান থেকে সরে আসাই শ্রেয় হবে। খবর বিবিসি ও গার্ডিয়ানের।

গতকাল বৃহস্পতিবার ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডব্লিউটিও ছাড়ার হুমকি দেন তিনি। ওই সাক্ষাতকারে দেওয়া ট্রাম্পের বক্তব্যকে উধৃত করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো সংবাদ প্রকাশ করেছে।

বিশ্বের বাণিজ্য-সংক্রান্ত নীতি প্রবর্তন এবং সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দূর করার লক্ষে কাজ করে থাকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা। এর মূল উদ্দেশ্য মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রসার। বাণিজের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল অবস্থান থেকে সদস্য দেশগুলোকে বের এনে তাদের বাজার অন্যদের জন্য খুলে দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে এই সংস্থা।

Trump

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ডব্লিউটিও’র সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।বর্তমানে ১৬৪টি দেশ এর সদস্য।

কোনো সদস্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিধিমালা লংঘন করলে অথবা অন্য সদস্য দেশের পণ্য আমদানিতে অযৌক্তিক শুল্ক আরোপ করলে ডব্লিউটিও’র কাছে নালিশ করা যায়। ভারত বাংলাদেশের ব্যাটারির ওপর এন্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করলে ডব্লিউটিওতে অভিযোগ করেছিল বাংলাদেশ। শুনানী শেষে ওই শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছিল বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা। ফলে ভারত ওই শুল্ক প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল। দেশটিতে ফের বাংলাদেশী ব্যাটারি রপ্তানি শুরু হয়েছিল।

বিভিন্ন দেশের দায়ের করা এমন অসংখ্য মামলায় নানা সময়ে হেরেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাছাড়া ডব্লিউটিও’র বিধান অনুসারে উন্নত দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর পণ্যে ব্যাপক শুল্কছাড় দিতে হচ্ছে। তাই দীর্ঘদিন ধরেই সংস্থাটির প্রতি নাখোশ ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ মনোভাব তিনি কখনো আড়ালও করেননি।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ডব্লিউটিও’র বিরুদ্ধে আরও জোরেশোরে লেগেছেন। গত বছর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ‘ডব্লিউটিও থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাদে সবাই সুবিধা পায়। আমরা ডব্লিউটিওতে কোনো মামলায় জিততে পারি না।’

সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডব্লিউটিওর বিরোধ নিষ্পত্তিপদ্ধতিতে নতুন বিচারকের নির্বাচনকে স্থগিত করেছে। যার ফলে সংস্থাটির বিচারব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লিথিজার অভিযোগ করেন, মার্কিন সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করছে সংস্থাটি।

গত কয়েকমাসে অন্যান্য দেশের সাথে বাণিজ্য বিষয়ক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেশ কঠোর অবস্থান নিতে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

সবচেয়ে বেশী আলোড়ন তুলেছে চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুইটি অর্থনৈতিক শক্তি বিশ্ববাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদানি হওয়া অনেক পণ্যের ওপর শুল্ক ধার্য করেছেন ট্রাম্প।

মার্কিন সিদ্ধান্তের জবাবে চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ধার্য করা শুল্কের সমান অর্থমূল্যের শুল্ক চীনও আরোপ করেছে তাদের দেশে আমাদানি করা মার্কিন পণ্যের ওপর। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগও করেছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায়।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আগ্রাসী ভূমিকায় ট্রাম্প। তাঁর রক্ষণশীল মনোভাবের কারণে মিত্রদের সঙ্গেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির। চীন, ইউরোপ এমনকি বহুদিনের বন্ধুরাষ্ট্র কানাডাও ট্রাম্পের খড়্‌গের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। তাঁর একটাই নীতি, ‘সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র’। শুল্ক ও পাল্টা শুল্ক আরোপের মাধ্যমে চলছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ।

ডব্লিউটিও এবং উদার নৈতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রতি ট্রাম্পের আক্রোশের কারণে বিশ্ব বাণিজ্য বড় ধরনের হোঁচট খেতে পারেন বলে আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমনকি ট্রাম্পের এমন অবস্থানের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখেও পড়তে পারেন বলে তাদের আশংকা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ