রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ৩২০ প্রকল্প বাতিলের দাবি

ছবি : জয়নাল আবেদিন।

বিশ্ব ঐতিহ্য স্বীকৃত সুন্দরবন রক্ষায় রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ পরিকল্পিত ৩২০ প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি।

আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর-রুনি মিলনায়তন “সুন্দরবন রক্ষায় অবিলম্বে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বেপরোয়া শিল্প স্থাপন বন্ধের” দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি জাতিসংঘের মানবাধিকার ও পরিবেশ সংরক্ষণে নিয়োজিত বিশেষ রেপোরটিয়ার প্রদত্ত সুন্দরবন বিষয়ক সর্বশেষ বিবৃতির প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাপা’র সহ-সভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ এর সভাপতিত্বে এবং বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল মতিন এর সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাপা’র সহ-সভাপতি ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। এতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম, টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাপা’র নির্বাহী সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল প্রমূখ।

ছবি : জয়নাল আবেদিন।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সুন্দরবনের এই প্রকল্পটি অস্বচ্ছ, দুরভিসন্ধি ও গণবিধ্বংসী। সরকার কার স্বার্থে এবং কাকে খুশি করার জন্য আত্মঘাতী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে তা আমার বোধগম্য নয়। বর্তমানে বাংলাদেশের বনভূমি, নদী ও নারী ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তিনি সরকারের কাছে সুন্দরবনবিধ্বংসী প্রকল্প বন্ধ করার জোর দাবি জানান।

এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, সুন্দরবন বিনাশী একের পর এক সরকারি পদক্ষেপে আমরা আজ খুবই  উদ্বিগ্ন। বর্তমানে বায়ুদূষণ এমন মাত্রায় গেছে যার ফলে বাংলাদেশের মানুষের আয়ু কমে যাচ্ছে। কারণ সুন্দরবন হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুসফুস।

ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, আমরা আশা করবো বিশেষ মহলের স্বার্থ রক্ষা না করে, দেশের সম্পদ-পরিবেশ ও জনস্বার্থে সুন্দরবন বিনাশী কার্যক্রম বন্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নেবেন।

অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, আমরা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সুন্দরবন নিয়ে আন্দোলন করে আসছি। এমনিতেই পরিবেশ দূষণের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭৯তম। তার ওপর সুন্দরবন ধংস হলে এর ফল কি দাঁড়াবে তা কল্পনা করা যায় না। তিনি বাংলার জনগণের স্বার্থে এই আত্মঘাতী প্রকল্প থেকে সরে আসার জন্য সরকারে প্রতি আহবান জানান।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা কখনই উন্নয়নের পরিপন্থি নই। উন্নয়নের নামে ব্যবসায়ীদের হাতে বাংলাদেশের পরিবেশ আজ জিম্মি। তিনি সরকারের কাছে সুন্দরবনের ভিতরে শিল্প কারখানা বন্ধের জোর দাবি জানান।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আমাদের আশঙ্কাই গবেষণার তথ্যে আবারও প্রমাণিত হয়েছে। আমরা বারবার বলে আসলেও সুন্দরবন বিনাশী কার্যক্রম চলছেই। বিদ্যুৎ উৎপাদনের তকমা ঝুলিয়ে সুন্দরবন ধংস করবেন না। তিনি অবিলম্বে এই প্রকল্প বন্ধ করার আহবান জানান।

শরীফ জামিল বলেন, সুন্দরবনের উপর অনাকাঙ্খিত অত্যাচারের শেষ নাই, এটি এখন ধ্বংসের সর্বোচ্চ হুমকির সম্মুখীন। এটা এখনই বন্ধ না করলে দেশের পরিবেশ ধংস হয়ে যাবে। তিনি সুন্দরবন বিধ্বংসী প্রকল্প বন্ধের জোরালো দাবি জানান।

অর্থসূচক/জেডএ/জেডআর