কুষ্টিয়াতে পুলিশের আবাসন সংকট
বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » রংপুর

কুষ্টিয়াতে পুলিশের আবাসন সংকট

Kushtia চরমপন্থী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে খ্যাত কুষ্টিয়া পুলিশের আবাসন ব্যবস্থা দিন দিন সংকট থেকে চরম সংকটের দিকে যাচ্ছে। সরকারি সংরক্ষিত কোয়াটার বা বাসভবনের অভাবে ভাড়া করা বাড়িতে এক প্রকার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে এ জেলার বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।

জানা যায়, গুটি কয়েক অফিসার ও কনষ্টেবলদের আবাসনের ব্যবস্থা থাকলে ও বেশির ভাগ পুলিশের আবাসনের কোনো ব্যবস্থা নেই। এ সকল পুলিশ সদস্যের অনেকে থাকেন ভাড়া করা বাসায় অথবা দুরের কোনো আত্নীয়ের বাড়িতে। তবে, সরকারিভাবে পুলিশের জন্য নতুন নতুন ভবন নির্মাণের নির্দেশনা আসছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পুলিশের এক তথ্য মতে, পুলিশ লাইনের মোট পুলিশ সদস্য সংখ্যা ৫’শ। এছাড়া শহর এলাকার ফাঁড়ি, থানা এবং ক্যাম্প দিয়ে ২’শ পুলিশ সদস্য রয়েছে। কে কোথায় থাকেন এমন তথ্য নিতে পুলিশ লাইনে গেলে জানা যায়, পুলিশ সুপারের বাসভবন শহরের পিটিআই সড়ক সংলগ্ন পুলিশ সুপারের বাংলো, এএসপির বাস ভবন পুলিশ লাইনের পেছনে, এএসপি (হেডকোয়াটার) থাকেন পুলিশ লাইনের সামনে ফয়সাল-১ এ ভাড়া করা বাসায়, এএসপি (সার্কেল) থাকেন পুলিশ লাইনের ভিতরে উত্তর-পূর্ব দিকে পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসকের বাসভবনে। সেখানে অফিস ও বাসা একই ভবনে। আর আই থাকেন পুলিশ লাইনের ভেতরে আরআইর জন্য নির্মিত নিজস্ব কোয়াটারে। বাকি অফিসারদের আবাসিকভাবে থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। এদিকে পুলিশ লাইনে প্রবেশ করতেই ডান দিকে কনষ্টেবলদের থাকার জন্য দুটি ব্যারাক আছে। যার একটি মধুমতি অন্যটি গড়াই। এ দুটি ব্যারাকে ১৬০ জন সদস্য বসবাস করে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকেন থানার দ্বিতীয় তলার ২টি রুমে। তার নিজস্ব কোয়াটারের কোনো সংস্কার না করায় সেখানে আরও ৬ জন কনস্টবল থাকে অতিকষ্টে। ডিবি ওসি ও সদর ওসি (তদন্ত) থাকেন শহরের কুঠিপাড়াস্থ পুলিশ ফাঁড়ির জরাজীর্ণ ভবনে। সেখানে সেই বৃটিশ আমলে নির্মিত ভবনের গাঁ থেকে বালি আর সিমেন্ট খসে খসে পড়ছে। যে কোনো সময় ভেঙ্গে যেতে পারে। এমন চিত্র পুলিশ লাইনের ভেতরে পাক আমলে নির্মিত ব্যারাক পুলিশ হাসপাতালেরও। তবে পুণঃসংস্কারের ফলে সার্কেল অফিসের বিল্ডিংয়ের সামান্য রং তুলির ছোঁয়া লেগেছে।

এসপি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, পুলিশ সবসময় জনগণের মঙ্গলে কাজ করে চলেছে। কিন্তু তাদের নিরাপত্তা নিয়ে অনেকটা সংশয় রয়েছে। রাতে কোনো অভিযান পরিচালিত করে ভাড়া করা বাসায় গেলে সেখানে নিরাপত্তা নিয়ে অনেক সংশয় থাকে। আবার অনেক সময় যে সকল পুলিশ সদস্য ভাড়া বাসায় থাকেন সেখানে বাসার মালিকের কো্নো আত্মীয় স্বজন অন্যায় করলেও কৌশলে তারা পার পেয়ে যায়। তবে এটা পরিস্কার পুলিশের এ আবাসন সংকটের কারণে বড় বড় অভিযান অনেক সময় ভেস্তে যায়। কুষ্টিয়ার সন্ত্রাস দমনে যে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি সে পুলিশের জন্য এখানে আবাসন ব্যবস্থা আরও উন্নত হলে পুলিশী অভিযান এখানে আরও জোরদার হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ