ArthoSuchak
বুধবার, ১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

তথ্যপ্রযুক্তি খাত উন্নয়নে ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা কমেছে

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ মিলিয়ে ৬ হাজার ৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে এই প্রস্তাব পেশ করেন তিনি।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে গত বাজেটের তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ কমেছে এক হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের জন্য এই বিভাগে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দুই হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে এককভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তিন হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা।

আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদকে বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর ব্যানারে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ও বহুমুখী ব্যবহার আমাদের অভীষ্ট প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং দারিদ্র্য হ্রাস ও সামাজিক গতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করছে। সামনের দিনগুলোতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা সুসংহত ও টেকসই করার জন্য জিডিপিতে শিল্পখাতের তুলনামূলক অবদান বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর দিকে নজর দিতে চাই। ফলে সামনের দিনগুলোতে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভরতা আরো বাড়বে।

তিনি বলেন, চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমরা নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণের কাজ চলমান রেখেছি। ৬টি বিভাগ হতে ঢাকা পর্যন্ত ৪.৪০৮ জিবিপিএস এবং জেলা হতে বিভাগ পর্যন্ত মোট ৫.৯২৮ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ প্রদান এবং ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক (4G, LTE) স্থাপনের উদ্যোগ। দেশব্যাপী বিস্তৃত তথ্যপ্রযুক্তি কাঠামোর নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানোর জন্য Cyber space এবং Internet ভিত্তিক সাইবার ক্রাইম পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিহত করাসহ সকল প্রকার তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

যুগের চাহিদার সাথে সংগতি রেখে তরুণদের নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করা, তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উদ্ভাবিত সামগ্রী ব্র্যান্ডিং ও বাণিজ্যিকীকরণ, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে আমরা ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছি। উদ্ভাবনভিত্তিক ব্যক্তি উদ্যোগের বিকাশ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থানে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি সেবা সহজীকরণে Utility Payment Platform (UPP) স্থাপন করা হচ্ছে; উপবৃত্তির টাকা পৌঁছানোর জন্য ২০ লক্ষ ‘মা’ কে দেয়া হচ্ছে টেলিটকের সিম।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের চার মেয়াদের ২০তম এবং ব্যক্তিগতভাবে অর্থমন্ত্রীর ১২তম বাজেট। এর মধ্য দিয়ে একাধারে দশবার বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য এই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় মন্ত্রিসভা কক্ষে বিশেষ বৈঠকে বাজেট ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।

এরপর মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবিত বাজেটে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

অর্থসূচক/এসবিটি

এই বিভাগের আরো সংবাদ