১২ বছর পর প্রথম শিশুর জন্ম যে দ্বীপে
বুধবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

১২ বছর পর প্রথম শিশুর জন্ম যে দ্বীপে

ব্রাজিলের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি দ্বীপ ফার্নান্দো দে নরোনহা। মাত্র তিন হাজার মানুষের বাসিন্দা সেখানে। তবে সেই দ্বীপের মানুষ এখন উৎসবের আমেজে রয়েছে। কারণ, ১২ বছর প্রথম কোনো শিশুর জন্ম হয়েছে সেখানে।

গাছগাছালি ঘেরা প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্রের কারণে দ্বীপটি ২০০১ সাল থেকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে।  বিরল উদ্ভিদ এবং জীবজন্তু সমৃদ্ধ দ্বীপটি একটি সংরক্ষিত অঞ্চল। কিন্তু দ্বীপটিতে সন্তান প্রসব নিষিদ্ধ থাকায় এতদিন দ্বীপটির ভূখণ্ডে কোন শিশুর জন্ম হয়নি। সূত্র বিবিসি বাংলা।

সেখানে হঠাৎ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ২২ বছর বয়সী এক নারী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই নারী বলেন, তিনি জানতেনই না যে তিনি গর্ভবতী। এমনকি তার পরিবারও জানতো না এ ব্যাপারে।

তিনি বলেন, হঠাৎ খুব পেট ব্যথা করছিলো। টয়লেটে যাওয়ার পর দেখি দুই পায়ের মাঝখান দিয়ে কি যেন একটা বের হচ্ছে। এর পর শিশুটির বাবা এসে উদ্ধার করলেন এই নারীকে। তিনি জন্ম দিয়েছেন একটি কন্যা শিশুর।

এই সন্তানের জন্ম দিয়ে তিনি এক অর্থে আইন অমান্য করেছেন। তবে এ নিয়ে কর্তৃপক্ষ বা দ্বীপের বাসিন্দা কেউই মাথা ঘামাচ্ছেন না। বরং সবাই তাকে সহায়তা করছেন। শিশুর জন্য দরকারি জিনিসপত্র ও কাপড় কিনে দিচ্ছেন।

ফার্নান্দো দে নরোনহা দ্বিপটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যেও পরিচিত। কিন্তু দ্বীপটিতে সন্তান প্রসব নিষিদ্ধ ছিল একটা কারণে। কারণটা হল দ্বীপটিতে রয়েছে একটা মাত্র হাসপাতাল আর সেখানে মায়েদের প্রজনন স্বাস্থ্য বিভাগ নেই।

 

তাই গর্ভবতীদের দ্বীপের বাইরের কোন হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কোন ধরনের জটিলতা তৈরি হওয়ার ভয়ে সেখানে প্রসবের উপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এই দ্বীপটি সম্পর্কে আরেকটি চমক জাগানো তথ্য হলো এটি কোন পৌরসভা বা প্রশাসনের অধীনে নেই। যা আধুনিক বিশ্বে বিরল।

তবে দ্বীপটিতে রয়েছে সুন্দর সমুদ্র সৈকত। যার অনেকগুলো বিশ্বের মধ্যে সবচাইতে অতুলনীয় বলে খেতাব পেয়েছে। রয়েছে ডলফিন, তিমি, বিরল পাখি আর কচ্ছপ সহ আরো নানা প্রাণীর সংরক্ষণ।

এসব প্রাণী সংরক্ষণের জন্যেও দ্বীপটিতে জনসংখ্যা কম রাখার ব্যাপারে সরকারী চাপ রয়েছে।

অর্থসূচক/এসবিটি

এই বিভাগের আরো সংবাদ