কুড়িগ্রামে খাস জমি বিতরণে অনিয়ম

Kurigram khas কুড়িগ্রামে খাস জমি বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ৪টি মৌজায় গত ১৯ নভেম্বর রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ দেলোয়ার বখত ৬৪ জন ভুমিহীনদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩২ একর জমির কবুলিয়ত হস্তান্তর করেন। কিন্তু কবুলত নামা প্রাপ্তরা কেউ ভুমিহীন নয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই পরিবার ভুক্ত পিতা ও প্ত্রুসহ একাধিক ব্যক্তি খাসজমির কবুলিয়ত নামা গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।

এছাড়াও খাসজমি বিতরণের লক্ষ্যে যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে সেখানেও একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। যারা আদৌ ভুমিহীন নয়।

খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুত কৃত তালিকা এবং যারা ইতোমধ্যে এই খাস জমির কবুলিয়ত গ্রহণ করেন তাদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৬২ রেকর্ডে নাম না থাকায় এই সুযোগ নিয়েছে তারা। কিন্তু তারা পৈত্রিক সূত্রে অনেক জমির মালিক। তাদের নাম ৬২ রেকর্ডে না থাকলেও তাদের পিতা ও দাদাদের নামে প্রত্যেকটি মৌজায় অনেক বড় বড় খতিয়ানভুক্ত জমি রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে তারা ওই সব জমির মালিক। সেই সূত্র ধরে  ডিপি খতিয়ানে তাহাদের নাম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।

৬০ নং কবুলিয়ত গ্রহিতা মো. আনছার আলী। পিতা মৃতঃ আফছার আলী। আনছার আলীর নাম ৬২ রের্কডে না থাকলেও পিতা আফছার আলী ও দাদা জেনাতুল্লা ব্যাপারীর নামে ৬২ও ব্রিটিশ রের্কডে, পিপুল বাড়ী, আরাজী পিপুল বাড়ী, রহমত পুর, কালির আলগা, ভগবতিপুর, ঢাকডহর এবং ডুমর দহ, প্রত্যক টি মৌজায় বড় বড় খতিয়ান  রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে সবগুলো মৌজায় ডিপি খতিয়ানে আনছার আলীর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আনছার আলীর অর্বতমানে তাদের দুই পুত্র পুরো সম্পত্তির মালিক।

একই পরিবারভুক্তপিতা আনছার আলীসহ তিন পুত্রকে যে মৌজায় কবুলিয়ত হস্তান্তর করা হয়েছে সেই পিপুল বাড়ি মৌজাতেই ডিপি খতিয়ানে আনছার আলী খতিয়ান নং-৪৬ ডিপি খং নং ৪৫৪ জমির পরিমান ১.৪৪ একর। খং নং-১২৩, ডিপি খংনং ৪৫৪ জমির পরিমান ০.৯৪ একর। খংনং-৩১৩৭ ডিপি খংনং ৪৫৪ জমির পরিমান ১.৪৫ একর। খংনং-৬২৬ ডিপি খংনং ৪৫৪ জমির পরিমান ৬.২৮ একর।
অনুরুপ ভাবে প্রত্যেকটি মৌজায় তাহার নামে ডিপি রের্কড রয়েছে। এছাড়াও উক্ত তালিকায় পিতাঃ ৬০নং মোঃ আনছার আলী পিং মৃতঃ আফছার ব্যাপারী, পুত্রঃ ৫৮নং মোঃ কুদ্দুস আলী ৫৯নং মোঃ সিরাজুল হক ৬৩নং মোঃ সহিদুল ইসলাম দ¦য়ের পিতা মোঃ আনছার আলী সাং বড়–য়া পিপুল বাড়ী। পুত্রদ্বয়ের নামে কুড়িগ্রাম শহর সংলগ্ন সাব কবলা দলিল নং ৪৭৯৭ তারিখ-১১/১০/২০০৯ইং মৌজাঃ সরা। জমির পরিমান ঃ .৩৬ একর। যার বর্তমান মুল্যঃ ১৮,০০০০০(আঠার লক্ষ) সাব কবলা দলিল নং ৪৮০১ তারিখ-১১/১০/২০০৯ইং মৌজাঃ সিতাইঝাড়, জমির পরিমানঃ .৩৮ একর। যার বর্তমান বাজার মুল্য প্রায় ১১,৪০০০০(এগার লক্ষ চল্লিশ হাজার) পিতা এবং পুত্রদ্বয় মিলে সঠিক তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্যদিয়ে ভুমিহীন সেজে হাতিয়ে নিয়েছে সরকারের জমি।

জেলা ভুমি অফিস সুত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলায় খাস জমির পরিমান ৬৭৬৯.৭৯ একর। এর মধ্যে দখলী ৩২৭.৭৪ একর। বেদখলী ৩৭১.১৪একর জমি নিয়ে মামলা চলছে। এই মামলা চলার পিছনে কারন নদী ভাঙ্গনের ফলে ্ঐ সব জমি সরকারে খাস খতিয়ানে চলে আসে ফলে ভুমি দস্যুরা ভুমিহীন সেজে কবুলিয়ত নামা গ্রহন করে যবর দখল করতে গেলে পুর্ব মালিকদের সাথে সংঘাতের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি মামলায় রুপনেয়। এভাবে বন্দোবস্ত দেয়া চলতে থাকলে দিন দিন সংঘাত বারতে থাকবে বলে এলাকাবাসি জানায়।
যাত্রাপুর ইউনিয়নের রলাকাটা গ্রামের নুর মোহাম্মদ, রজব আলী ও আইজুল ইসলাম জানান, আমাদের গ্রামে ভুমির মালিকদের মাঝে খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়ায় আমরা অবাক হয়েছি। এটা কিভাবে হলো আমরা জানিনা।

সদর উপজেলার যাত্রপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, আমার ইউনিয়নে ভূমিহীন খুঁজে না পাওয়ায় যারা এসেছে তাদের নামেই খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ভূমিহীনদের তালিকা তৈরির কাজটি ইউনিয়ন ভুমি অফিস থেকে করা হয়েছে। তাছাড়া আপনার কারো তালিকা থাকলে আমাকে দেন পরবর্তীতে তাদের নামেও খাস জমি দেয়া হবে।

যাত্রাপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিসের ইউনিয়ন সহকারী ভুমি কর্মকর্তা শচীন্দ্রনাথ জানান, ভুমিহীনদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আমি করিনি। এটি উপজেলা ভূমি অফিস থেকে হেয়ারিংয়ের মাধ্যমে করা হয়েছে। আপনারা সেখানে যোগাযোগ করেন।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা ভুমি অফিসের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান জানান, যাদের নামে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে তাদের অনেকের নামে জমি থাকার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এআর