গাড়ি কেনার আগে জেনে নিন
বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২০
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » টিপস (অটোমোবাইল)

গাড়ি কেনার আগে জেনে নিন

Toyota_corrolaব্যস্ত ঢাকায় প্রতিদিনই ছুটতে হয় কাজের পিছে। সময় স্বল্পতা, কাজের ব্যস্ততা আর লোকাল বাসে যেমন ভিড়, তেমনি অসহ্য গরম, সেই সঙ্গে আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যাম। আর এসব ঝুটঝামেলা  থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে  একটি গাড়ি কেনার কথা ভাবতেই পারেন আপনি। অনেকে আবার সামর্থ্য হলে বাড়ির আগে কিনতে চান গাড়ি। তবে সেই সামর্থ্য অনুযায়ী অবশ্যই ভালো গাড়িটি কিনতে হবে আপনাকে।

আর তাই ভালো গাড়িটি কিনতে চাইলে খেয়াল রাখতে হবে বেশ কয়েকটি বিষয়ের দিকে। তাহলেই মিলবে সাধ্যের মধ্যে সবটুকু সুখ।

গাড়ি কেনার আগেই নির্ধারণ করুন আপনার বাজেট। বাজারে বিভিন্ন ব্রান্ডের বিভিন্ন দামের গাড়ি পাওয়া যায়। পাওয়া যায় সম্পূর্ণ নতুন ও রিকন্ডিশনড গাড়িও। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার সাধ্য অনুযায়ী বাজেট নির্ধারণ করুন। আপনার ওই বাজেটেই পেয়ে যেতে পারেন কাঙ্ক্ষিত গাড়ি।

বাজেট নির্ধারণের পরে বেছে নিন আপনার পছন্দের মডেলটি। মডেল নির্বাচনের ক্ষেত্রে গাড়ির রি-সেইল ভ্যালু নিশ্চিত হয়ে মডেল বাছাই করবেন।  কেননা আপনি যে গাড়িটি কিনবেন, তা পরে বিক্রি করলে ক্রেতা যাতে এতে আকৃষ্ট হয়। গাড়িটিতে অরিজিনাল রং রয়েছে কি না তা দেখে নিন। চেসিস নাম্বার, ইঞ্জিন নাম্বার, গাড়ি তৈরির সাল সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন।

গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যথাসম্ভব কম মাইলেজ দেখে কিনুন। তবে রিকন্ডিশন গাড়ি কেনার সময় কিছু ব্যাপার সব সময়ই মাথায় রাখতে হবে। কারণ এ ধরনের গাড়ি আমদানির সময়ই কিছু ত্রুটি থাকে। এগুলো শোরুমে আনার আগে মেরামত করা হয়ে থাকে।  তাই গাড়ির কি কি কাজ হয়েছে সম্ভব হলে জানার চেষ্টা করুন।

কতো সিসি গাড়ি আপনি কিনবেন সে বিষয়ে আপনার ধারণা থাকা আবশ্যক। বাংলাদেশে ৮০০ থেকে ১৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ি পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজনই বলে দিতে পারে গাড়িটি কতো সিসি হবে। যেমন আপনি প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য গাড়ি কিনলে তা ৮০০ সিসির মধ্যে রাখাই ভালো। আর মাঝে মাঝে লং ড্রাইভে যেতে চাইলে ১০০০ কিংবা তার বেশি সিসির গাড়ি কিনুন। কম সিসির গাড়ির চেয়ে বেশি সিসির গাড়ির জ্বালানি খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

গাড়ি কেনার সময় লক্ষ্য করবেন গাড়িটি কত সিলিন্ডার বিশিষ্ট। গাড়ির ইঞ্জিনের সিলিন্ডারের সংখ্যা যত বেশি হবে আপনার দৈনিক তেল খরচ আনুপাতিক হারে বেশি হবে। যদি আপনি ঘন ঘন লং ড্রাইভ করেন, তাহলে ছয় সিলিন্ডারের গাড়ি নিতে পারেন।  কেননা ছয় সিলিন্ডারের গাড়ি এক নাগাড়ে চালালে অনেক সময় ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে সিলিন্ডার হেড গ্যাসকেট জ্বলে যায় বা হেড ক্র্যাক করে। তখন আপনি বাকি চার বা পাঁচ সিলিন্ডার দিয়ে গাড়ি চালিয়ে নিরাপদে বাসায় বা ওয়ার্কশপে পৌছাতে পারবেন। সেটা চার সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে হলে গাড়ি থামিয়ে রাস্তার পাশেই বসে থাকতে হয় । তবে অল্প দুরত্বে চলাচলের জন্য এবং মাঝে সাঝে একটা দুইটা লং ড্রাইভ দেওয়ার জন্য চার সিলিন্ডারের গাড়িই ভালো।

রিকন্ডিশনড গাড়ির ক্ষেত্রে ইঞ্জিন কাভার খুলে দেখবেন কোথাও কোনো জায়গায় তেলে  ভেজা স্যাঁত স্যাঁতে কিনা অথবা পানি পড়ে শুকিয়ে যাবার দাগ আছে কিনা।  তেল এ ভেজা স্যাঁত স্যাঁতে হলে কোথাও থেকে অয়েল লিক করছে, যা গাড়ির জন্য ভালো না। আর পানি পড়ার অর্থ হচ্ছে ইঞ্জিন এর কুলিং ওয়াটার লিক, যা ইঞ্জিনের জন্য খারাপ।

ইঞ্জিনের অয়েল ফিলার ক্যাপ খুলে দেখবেন এর ভিতরের অংশে সাদা ক্রিমের মত বা পানির ছিটে ফোটা আছে কিনা। যদি থাকে তাহলে ধরে নেবেন ইঞ্জিনের হেড গ্যাসকেট পুড়ে গিয়েছে বা হেড ক্র্যাক করেছে, যা মোটেও আপনার গাড়ির জন্য ভালো নয়।

ইঞ্জিনের ডিপস্টিক বের করে দেখতে পারেন ইঞ্জিন অয়েলের কন্ডিশন কেমন। বেশি কালো হলে বা অয়েল এর ঘনত্ব পাতলা হলে বুঝবেন অনেকদিন তেল চেঞ্জ করানো হয়নি।

রেডিয়েটর ক্যাপ খুলে দেখুন ইঞ্জিনে সাধারণ পানি ব্যবহার করা হয়েছে, নাকি কুল্যান্ট । সাধারণ কলের পানি ব্যবহার করলে রেডিয়েটর এর পানির রঙ হবে লালচে ধরনের আর কুল্যান্ট থাকে সাধারণত নিলাভ ধরনের। রেডিয়েটর এর উপরের অংশে কোনো ফাঁটা বা ক্র্যাক আছে কিনা অথবা গাড়ির নিচে কোথাও ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ে কিনা, তাও ভাল করে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। গাড়ির সামনের সাশপেনশন কেমন সেটা দেখতে পারেন, নিচের ছবির হাত দিয়ে দেখানো অংশগুলোতে ফাঁটা বা এমনকি চুলের দাগ এর মত ক্র্যাক আছে কিনা তাও দেখতে হবে। এইখানে ক্র্যাক থাকার মানে হলো আপনাকে সাসপেনশন বদলাতে হবে নতুবা প্রচুর ঝাঁকি খাবে এবং দ্রুত চাকা ক্ষয় হবে।

এসএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ