মার্কিন সহায়তায় হামাস-হিজবুল্লাহ মোকাবিলার প্রস্তুতি ইসরাইলের

২০১৫ সালে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

গাজা উপতক্যায় হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরানকে মোকাবিলার জন্য বিগত সময়ের চেয়ে চলতি অর্থ বছরে ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে সাড়ে ১০ কোটি ডলার বেশি পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত সোমবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান জানিয়েছেন ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির উন্নয়নে তার দেশকে ৭০ কোটি ৫০ লাখ ডলার তহবিল দেওয়া হচ্ছে।

ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নয়নের মধ্য দিয়ে গাজা উপত্যকায় সক্রিয় হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানকে প্রতিহত করার শক্তি বাড়াবে তেল আবিব।

২০১৫ সালে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

২০১৬ সালে ‌ইসরাইলের জন্য ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার মূল্যের ১০ বছর মেয়াদী সহায়তা ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এটিই ইসরাইলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা তহবিলের চুক্তি। ইসরাইলকে ‘বিপজ্জনক প্রতিবেশীদের থেকে রক্ষার’ কথা বলে রেকর্ড পরিমাণ সামরিক সহায়তা দেওয়ার এই চুক্তিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র। ঘোষিত সহায়তার আওতায় চলতি বছরে সর্বোচ্চ অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে।

ব্রেকিং ইসরায়েল নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প ১৩০০ কোটি ডলারের বাজেট প্যাকেজে স্বাক্ষর করার পর লিবারম্যান প্রতিরক্ষা কর্মসূচি বাবদ বরাদ্দের পরিমাণ জানিয়েছেন। ওই বাজেটের আওতায় ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা বাবদ ৩১০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়া হবে।

এছাড়া ২০১৮ সালে যৌথ অ্যান্টি টানেলিং প্রযুক্তির উন্নয়নে ইসরাইলের জন্য ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৫০ লাখ ডলার বেশি।

লিবারম্যানের টুইটকে উদ্ধৃত করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা খাতে মার্কিন সহায়তার ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ পরিমাণ বরাদ্দ। লিবারম্যান বলেছেন, এ অর্থ আয়রন ডোম, ডেভিড’স স্লিং এবং অ্যারো থ্রি নামক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। ভবিষ্যত হুমকি ঠেকাতে বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের ধারাবাহিকতাও বজায় রাখা হবে।

জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন তহবিলে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ সক্ষমতার বিকাশ গাজা উপত্যকায় হামাসসহ বিভিন্ন সশস্ত্র প্রতিরোধ ঠেকাতে সহায়তা দেবে। একইসঙ্গে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পাশাপাশি ইরানের অত্যাধুনিক দীর্ঘ পাল্লার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সক্ষমতা অর্জন করবে ইসরাইল।

জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ভবিষ্যতে আকাশপথে হুমকি ঠেকাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। বর্ধিত বাজেট দিয়ে সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার আরও পরীক্ষা চালানো হবে।

টুইটার পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরাইলের ‘সেরা বন্ধু’ উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানান লিবারম্যান। ইসরাইলের আকাশকে প্রতিরক্ষা দিতে দেশটি সাড়ে ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থসূচক/এসবিটি