ভৈরবে মুক্তিযুদ্ধের বই পড়া ও মেধা যাচাই উৎসব
শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ভৈরবে মুক্তিযুদ্ধের বই পড়া ও মেধা যাচাই উৎসব

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ‘মুক্তির ইতিহাস অন্বেষণ’ শীর্ষক মুক্তিযুদ্ধের বই পড়া ও মেধা যাচাই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা আগানগর ইউনিয়নের আগানগর জিল্লুর রহমান স্কুল এন্ড কলেজে স্থানীয় মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কল্যাণ সংসদ দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন।

উৎসবে মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ বইটি ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যায়নরত ৪শ নিবন্ধনভুক্ত শিক্ষার্থীরা একযোগে পড়ে বই থেকে তৈরি করা প্রশ্নপত্রে ৩০ নাম্বারের পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরে খাতা মূল্যায়ন করে প্রতিটি শ্রেণি থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করা মেধাবীদের পুরস্কৃত করা হয়।

উৎসব উপলক্ষে দুপুর দুইটার দিকে জিল্লুর রহমান স্কুল এন্ড কলেজ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ। সংগঠনের সভাপতি আশরাফুল আলম সুজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিশু সংগঠক রফিকুল ইসলাম, মহিলা (অনার্স) কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ উদ্দিন আহমেদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জিল্লুর রহমান স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: শহীদুল্লাহ মিয়া, ইউপি চেয়ারম্যান মোমতাজ উদ্দিন, দৈনিক প্রথম আলোর ভৈরব অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদক মো: সুমন মোল্লা, এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার মোস্তাফিজ আমিন, প্রভাষক মো: সেলিম মিয়া, প্রধান শিক্ষক মো: মোক্তার হোসেন।

আলোচনা সভায় অতিথি বক্তারা বলেন- মুক্তিযেুদ্ধর চেতনা, দূর্নীতি আর জঙ্গিবাদের সাথে কোনোভাবেই আপোষ করা যাবে না। এই তিনটিই দেশ, জাতি ও উন্নয়নের জন্য হুমকি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুষ্ঠিত হলে জাতি হিসেবে আমরা বিশৃংখলায় পতিত হবো। দূর্নীতি আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বাঁধাগ্রস্ত করাসহ বিশ্ববাসির কাছে মর্যাদাহানী ঘটাবে। আর জঙ্গিবাদ আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের মূলচেতনা ধর্মনিরপেক্ষতা আর আবহমানকাল থেকে চলে আসা বাঙ্গালী সংস্কৃতির পরিপন্থী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ শরীফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা তার চেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে রাজাকারের আদর্শ ধারণ করতে পারে। দেশে এমন বহু নজীর আছে।  কিন্তু একজন রাজাকার কখনো তার নীতি থেকে বিচ্যুত হয়না। সে চিন্তা-চেতনায় আজও রাজাকার। তাই তাদের কাছ থেকে দেশ ও জাতি রক্ষায় আমাদের আরও বেশী সর্তক থাকতে হবে।

ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর বর্বরোচিত হামলার নিন্দা জানিয়ে এ সময় তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে শিল্প, সাহিত্য ও শিক্ষায় জাতি যে পরিবারটির প্রতি গভীরভাবে ঋণী, সেই পরিবারে একজন কৃতী পুরুষের ওপর এই হামলা পুরো জাতিকে মর্মাহত করেছে। করেছে অপমানিত। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

শহরের বাইরে প্রত্যন্ত এলাকায় নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে আগানগর মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কল্যাণ সংসদের এই আয়োজনকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে তিনি সংগঠনের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

মোহাম্মদ শেখ জানে আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সজীব। এ সময় অন্যান্যের মাঝে আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আব্দুল লতিফ, আব্দুল আওয়াল, এস.এম.নান্নু মিয়া প্রমুখ।

আলোচনার পর বইপড়া উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশিত হয়। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পর বই উৎসবে অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়া প্রতিযোগীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

জানা যায়, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস শিক্ষা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগটি গ্রহণ করেন। তারা প্রথমে এলাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের এই বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে ক্যাম্পিং করে। এরপর আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন করানো হয়। নিবন্ধনকৃত শিক্ষার্থীদের জিল্লুর রহমান স্কুল এন্ড কলেজ চত্বরে একত্রিত করে নির্ধারিত বইটি পড়তে দেওয়া হয়।

সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উৎসবে অংশ নেওয়া ৪০০ শিক্ষার্থী একযোগে বইটি পাঠ করে। পরে সংগঠন থেকে বিতরণ করা ৩০টি প্রশ্নের উত্তরপত্রে উত্তর লেখে। এ জন্য তাদের এক ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়। পরে উত্তরপত্র মূল্যায়নের পর প্রত্যেক শ্রেণি থেকে তিনজনকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।

অর্থসূচক/মোস্তাফিজ/এসবিটি

এই বিভাগের আরো সংবাদ