ArthoSuchak
শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হলেন আগ্রাসী বোল্টন

জেনারেল ম্যাকমাস্টারকে সরিয়ে ট্রাম্পের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পেলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ আমলের আগ্রাসী প্রতিরক্ষা নীতির সমর্থক ও জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জন বোল্টন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যে ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে এ পরিবর্তন আনলেন। সিনেটের অনুমোদন পেলে এপ্রিল থেকে সিআইএ’র পরিচালক মাইক পম্পেওকে নতুন পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্বে দেখা যাবে। সূত্র বিবিসি।

বিবিসি জানিয়েছে, ম্যাকমাস্টার হোয়াইট হাউসের পাট চুকানো সর্বশেষ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। যদিও বিদায়ী নিরাপত্তা উপদেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। টুইট বার্তায় ম্যাকমাস্টারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ট্রাম্প বলেন, সে অসাধারণ কাজ করেছে; সবসময়ই সে বন্ধু হিসেবে থাকবে।

উত্তর কোরিয়া ও ইরান আক্রমণের সমর্থক হিসেবে পরিচিত বোল্টন ফক্স নিউজকে বলেছেন, তার কাজ হচ্ছে প্রেসিডেন্টের জন্য সব ধরনের বিকল্পের মাত্রা প্রস্তুত রাখা। প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না।

ট্রাম্পের দপ্তরে এইচআর ম্যাকমাস্টারের স্থলাভিষিক্ত হলেন জন বোল্টন।

ট্রাম্পের ১৪ মাসের মেয়াদে এ নিয়ে তিনজন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হলেন। জন বোল্টন আগামী ৯ এপ্রিল থেকে দায়িত্ব নেবেন। ৬৯ বছর বয়সী বোল্টন কয়েক দশক ধরেই রিপাবলিকান ঘরানার বেশ প্রিয়। তিনি রোনাল্ড রিগান, সিনিয়র ও জুনিয়র বুশ প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

জর্জ ডব্লিউ বুশ তাকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মনোনীত করেন। সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে, এ ধারণা তৈরি করে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পট প্রস্তুতেও বোল্টনের ভূমিকা ছিল বলে ভাষ্য পর্যবেক্ষকদের। সাদ্দামের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার ওই ধারণা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হলেও বোল্টন সবসময়ই ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ভূমিকার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। ইরাক যুদ্ধের ঘোরবিরোধী ট্রাম্প যুদ্ধবাজ বোল্টনকে নিয়োগ দেওয়ায় বিস্মিত হয়েছেন রিপাবলিক ও ডেমোক্রেট সিনেটররাও।

ইরান এবং উত্তর কোরিয়া বিষয়ে মার্কিনের আগ্রাসী নীতি থাকা উচিত বলেও মনে করেন তিনি। পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনার সম্ভাবনার মধ্যে ম্যাকমাস্টারকে সরিয়ে বোল্টনের নিয়োগকে তাই সতর্ক দৃষ্টিতেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে পরিবর্তন নিয়ে চলতি মাসের শুরু থেকেই কানাঘুঁষা চলছিল; ম্যাকমাস্টার নিজেই পদ ছেড়ে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলে এক সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে। রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের জয়ে অভিনন্দন নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ম্যাকমাস্টারের মতানৈক্য ছিল বলেও ভাষ্য ওই সূত্রের।

নতুন উপদেষ্টা বোল্টন তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে।  চীনের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তার এ নিয়োগ বেইজিংয়েরও মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

অর্থসূচক/এসবিটি

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ