সাংবাদিকদের তথ্য না দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ এনবিআর'র
বৃহস্পতিবার, ২রা জুলাই, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

মামলায় আটকা ২৬ হাজার কোটি টাকা, কাজে আসছে না এডিআর

এনবিআর ভবন

এনবিআর ভবন

হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলায় ২৫ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকার রাজস্ব আটকে আছে। আদালতের বাইরে বিকল্প পদ্ধতিতে এসব মামলা নিষ্পত্তির যে উদ্যোগ নিয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তার অগ্রগতি হতাশাব্যঞ্জক। ২০১২ সালে কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত রাজস্ব খাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থায় মাত্র ৩৭৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। যা হাইকোর্টে বিচারাধীন মোট মামলার ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

এডিআর হচ্ছে আদালতের বাইরে এনবিআর ও করদাতাদের মধ্যকার বিদ্যমান বিরোধ নিষ্পত্তির একটি পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে একজন নিরপেক্ষ ফ্যাসিলিটেটর (মধ্যস্থতাকারী) দুটি পক্ষের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেবেন। উভয়পক্ষ এ রায় মানলে বিরোধটি নিষ্পত্তির পর্যায়ে চলে যাবে। আর কোনো একপক্ষের আপত্তি থাকলে তিনি বিষয়টি নিয়ে চাইলে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন। ফ্যাসিলিটেটরের রায় মানতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টে বিচারাধীন ২২ হাজার ৭৪৭টি মামলার কারণে ২৫ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় আটকে আছে। শুল্ক খাতে সবচেয়ে বেশি মামলা হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। আর ভ্যাট খাতে সবচেয়ে বেশি টাকার রাজস্ব আটকে আছে। এর মধ্যে এডিআরের মাধ্যমে মাত্র ৩৭৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। আদায় হয়েছে ১১৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

এসব মামলা এডিআরের মাধ্যমে নিষ্পত্তিতে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এর অংশ হিসেবে বিভাগ (উইং) ভিত্তিক আলাদা আলাদা ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলা পরিচালনার জন্য ৩ জন আইনজীবী নিয়োগের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলেই দ্রুত আইনজীবী নিয়োগ করে মামলার নিষ্পত্তির কাজ শুরু করা হবে।

আয়কর : এ খাতে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সদস্য কালিপদ হালদারকে। হাইকোর্টে বিচার প্রক্রিয়াধীন রেফারেল মামলার সংখ্যা ২ হাজার ৭১১টি। এর সঙ্গে জড়িত রাজস্বের পরিমাণ ৭ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। এডিআরে দাখিল করা ৩৯০টি মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৩০৫টি মামলা। আদায় হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা।

শুল্ক : হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলা সংখ্যা ১৭ হাজার ৪৭০টি। এর সঙ্গে জড়িত রাজস্বের পরিমাণ ৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। এডিআরের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তিতে আবেদন জমা পড়েছে ৩৪৮টি। এর বিপরীতে ৬৭টি মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এ খাতে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে শুল্কনীতির সদস্য এম ফরিদ উদ্দিনকে।

মূসক : এ খাতে সবচেয়ে কম মামলার বিপরীতে সর্বোচ্চ পরিমাণ রাজস্ব আটকে রয়েছে। এডিআরেও সবচেয়ে কম মামলা নিষ্পত্তির আবেদন করা হয়েছে এই মূসক খাতে। হাইকোর্টে বিচারাধীন ২ হাজার ৫৬৬টি মামলার বিপরীতে ১৩ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা রাজস্ব ঝুলে আছে। মাত্র ৫টি মামলা এডিআরে নিষ্পত্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর বিপরীতে আদায় করা হয়েছে ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মূসক গোয়েন্দার সদস্য জাহানারা সিদ্দিকীকে।

এ বিষয়ে মূসক খাতের ফোকাল পয়েন্ট জাহানারা সিদ্দিকী অর্থসূচককে বলেন, ‘এডিআরের মাধ্যমে বকেয়া কর আদায় অব্যাহত রয়েছে। আগামীতে এর সুফল পাওয়া যাবে।

এডিআর বিষয়ক সেলের পরিচালক কালিপদ হালদার বলেন, এডিআরের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলেও ব্যবসায়ীদের কাগজপত্র দূর্বলতায় তা ভালোভাবে সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। আবার অনেক ব্যবসায়ী আমাদের দ্বারস্ত হচ্ছেন না।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে এ বিষয়ে আরও জোরালো উদ্যোগ হয়েছে বলে জানান তিনি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ