আইপিওর নতুন পদ্ধতি চালু হলে আমাদের কি উপকার হবে?
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » আপনার জিজ্ঞাসা

আইপিওর নতুন পদ্ধতি চালু হলে আমাদের কি উপকার হবে?

ipo applicationকিশোরগঞ্জ সদর থেকে সুমন ইসলাম আইপিও’র নতুন আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তার কৌতুহল নতুন পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীদের কোনো লাভ হবে কি-না।

অর্থসূচক ডেস্ক: ধন্যবাদ সুমন সমসাময়িক ইস্যুতে প্রশ্ন করার জন্য। আসলে প্রস্তাবিত সংশোনীটি এখনও বিএসইসির চূড়ান্ত অনুমোদন পায় নি। সংস্থাটিও বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করেনি। তাই এখনই প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। তবে খসড়ার আলোকে কিছুটা ধারণা দেওয়া সম্ভব।

নতুন পদ্ধতি চালু হলে ব্যাংকের পরিবর্তে ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্টের (ডিপি) মাধ্যমে আইপিও’র আবেদন জমা নেওয়া হবে। এতে বিনিয়োগকারীরা কিছু বাড়তি সুবিধা পাবেন। বর্তমানে সাধারণত ৮০ থেকে ৯০ টি ব্যাংক শাখায় আবেদনপত্র জমা নেওয়া হয়। বিনিয়োগকারীর বিপরীতে শাখার সংখ্যা পর্যাপ্ত নয় বলে, প্রচণ্ড চাপ পড়ে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদনপত্র ও শেয়ারের টাকা জমা দিতে হয়। ডিপি ও তার শাখার সংখ্যা হবে কয়েকগুণ বেশি। ফলে আবেদন জমা দিতে গিয়ে এখনকার মত এত দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। বিনিয়োগকারীরা অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্য পাবেন।

বর্তমানে প্রতিটি আইপিও’র আবেদনের সঙ্গে আলাদাভাবে টাকা জমা দিতে হয়। লটারিতে অকৃতকার্য হলে রিফান্ড ওয়ারেন্টের মাধ্যমে টাকা ফেরত দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট দিনে হাতে হাতে ওয়ারেন্ট গ্রহণ করতে না পারলে সেটি পেতে অনেক সময় লেগে যায়।

অবশ্য অনলাইন ব্যাংক হিসাবের ক্ষেত্রে রিফান্ড ওয়ারেন্টের পরিবর্তে আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবে সরাসরি টাকা জমা করা হয়। কিন্তু বিনিয়োগকারী তার আবেদনে হিসাব নাম্বার লিখতে গিয়ে কোনো ভুল করলে টাকা পেতে সমস্যা হয়ে যায়। নতুন পদ্ধতিতে টাকা জমা থাকবে ডিপির কাছে সংরক্ষিত গ্রাহকের হিসাবে।তিনি যে কোম্পানির শেয়ারে আবেদন করবেন তার একটি লটের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ লক করে দেবে ডিপি। এর বাইরে হিসাবে যে টাকা থাকবে তা দিয়ে গ্রাহক শেয়ার কেনা-বেচা করতে পারবেন। চাইলে তা উত্তোলন করে নিতে পারবেন। কিন্তু লটারি না হওয়া পর্যন্ত লক করা অর্থ উত্তোলন করা যাবে না। তা দিয়ে অন্য কোনো কোম্পানির শেয়ারও কেনা যাবে না।

লটারিতে কৃতকার্য হলে ডিপি গ্রাহকের হিসাব থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ কোম্পানির হিসাবে জমা করে দেবে। এর বিপরীতে কোম্পানিও ওই বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবে শেয়ার জমা করবে। অন্যদিকে লটারিতে অকৃতকার্য হলে গ্রাহকের লক-ইন করা টাকার উপর থেকে লক-ইন তুলে নেওয়া হবে।

নতুন পদ্ধতিতে নগদ টাকা নিয়ে ব্যাংকে ব্যাংকে ছুটতে হবে না বলে টাকা হারানো, ছিনতাই, চুরি ইত্যাদির ঝুঁকি থাকবে না। বিনিয়োগকারী ডিপির কাছে পর্যাপ্ত টাকা জমা রাখলে তা থেকেই সে সব আবেদনের প্রয়োজন মেটাতে পারবে।

অন্যদিকে আবেদনপত্রের সঙ্গে কোম্পানির একাউন্টে টাকা জমা করতে হবে না বলে রিফান্ডেরও প্রয়োজন হবে না। এতে রিফান্ড পাওয়া সংক্রান্ত জটিলতা থেকে মুক্তি পাবেন বিনিয়োগকারীরা।

বর্তমান খসড়া অপরিবর্তিত থাকলে আরও কিছু বাড়তি সুবিধা পাবেন বিনিয়োগকারীরা। তাদেরকে প্রতি আইপিও’র জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে না। একবার করা আবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে শুধু বিনিয়োগকারী তার ডিপিকে নিশ্চিত করবেন তিনি কোন কোম্পানির আইপিওতে আবেদন করতে চান। আর তার হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা জমা থাকতে হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ