আবারও গণজাগরণ মঞ্চের অবস্থান
বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

আবারও শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের অবস্থান

Ganojagaron mancoএকাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাসহ সাজাপ্রাপ্ত সব যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর করার দাবিতে শাহবাগ মোড়ে আবারও আন্দোলন শুরু করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় স্থগিত করার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাত থেকে শাহবাগ মোড়ে এ অবস্থান নেয় তারা। যুদ্ধাপরাধীদের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে উপস্থিত জনতার স্লোগানে ভারী হয়ে উঠেছে শাহবাগ এলাকা।

জানা যায়, আজ দুপুরে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর না করা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ আদৌ আছে কি-না সে বিষয়ে শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করার পর বুধবার দুপুরে তিনি এ ঘোষণা দেন।

কাদের মোল্লার রায় পুনর্বিবেচনা বিষয়ক শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করার প্রতিক্রিয়ায় ডা. ইমরান দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানেই অবস্থান করবো। ফাঁসির পর রাজপথে বিজয় মিছিল করে ঘরে ফিরবো। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত রাজাকার কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরে প্রয়োজনে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এদিকে অবস্থান চলাকালে আজ দুপুর ৩টায় শাহবাগ মোড়ে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে।  এ হামলায় কেউ হতাহত হয় নি। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে মোঃ রাসেল (১৭) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় মঞ্চের নেতাকর্মীরা। তবে ককটেল বিস্ফোরণের পরপরই পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আন্দোলনকারীদের লাঠিহাতে শোডাউন দিতে দেখা গেছে। পরে সন্ধ্যায় এর প্রতিবাদে লাঠি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

মঙ্গলবার কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে এতে সন্তোষ প্রকাশ করে গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেয়। কিন্তু রাত এগারোটার দিকে এ রায় স্থগিত করা হয়েছে এমন খবর আসলে তারা বিক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা ‘ফাঁসি নিয়ে টালবাহানা/ সহ্য করা হবে না’, ‘একটাই দাবি/ ফাঁসি ফাঁসি’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। পরে শাহবাগ মোড়ে সারারাতব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

মঙ্গলবার রাতে জনতার উপস্থিতি কম থাকলেও বুধবার সকাল থেকে হরতাল ও অবরোধ উপেক্ষা করে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ শাহবাগে ভিড় জমাতে শুরু করেন। সময় গড়ানোর সাথে সাথে সব শ্রেণীর মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে প্রজন্ম চত্বর। স্লোগান, প্রতিবাদী গান আর কবিতায় আবারও মুখরিত হয় পুরো এলাকা।

অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ডা. ইমরান এইচ সরকার, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি বাপ্পা দিত্য বসু, সাধারণ-সম্পাদক তানভীর রুসমত, জাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি শামসুল ইসলাম সুমন, ব্লগার মাহমুদুর রহমান মুন্সীসহ গণজাগরণ মঞ্চের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং সব শ্রেণী পেশার সাধারণ জনগণ। এতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, উদীচীসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নিয়েছে।

আজ দুপুর ১২টার দিকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চ’ এর পক্ষ থেকে নৌপরিবহন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী শাহাজাহান খান শাহবাগে গিয়ে গণজাগরণের মঞ্চের কার্যক্রমের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই। এর জন্য প্রয়োজনে সকলে রাজপথে নেমে আন্দোলন করবো। আগের দিন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগে অবস্থান নেয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে সেখানে চোরাগোপ্তা হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার রাত ১১টায় কাঁটাবনের দিক থেকে শাহবাগ লক্ষ্য করে একটি ককটেলসদৃশ বস্তু ছুঁড়ে মারা হয়। তবে তা বিস্ফোরিত হয়নি। এর দু’ঘন্টা পর রাত সোয়া ১টায় গণজাগরণ মঞ্চের পাশে ৬টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এসব বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হয় নি।

মঙ্গলবার রাতে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করার প্রস্তুতি নেওয়ার পর আদালতের আদেশে তা বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্থগিত হয়। এ স্থগিতাদেশ জারির পর থেকেই কাদের মোল্লার ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত প্রজন্ম চত্বরে টানা অবস্থানের ঘোষণা দেয় গণজাগরণ মঞ্চ। মঞ্চের এ অবস্থানের মধ্যে বুধবার সকাল ১০টা থেকে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ থাকা না থাকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। বুধবার দুপুরে শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করে আদালত।

এই বিভাগের আরো সংবাদ