চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ক্ষোভ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের
বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ক্ষোভ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের

bb_buildingমেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কিছু কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের জন্য মঙ্গলবার কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন’ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের কাছে একটি স্বারকলিপি দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, সরকারের শেষ সময়ে মেয়াদোত্তীর্ণ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে একাংশ সম্ভাবনাময় কর্মকর্তার পদোন্নতি থেমে যাচ্ছে। আর অন্যদিকে এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে কিছু অপ্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি করারও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সেসব পদ থেকেও বাদ পড়ছে পদন্নোতির তালিকায় থাকা কর্মকর্তারা। ফলে দীর্ঘদিন থেকে পদবঞ্চিত ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।

স্বারকলিপিতে এ বেআইনি প্রক্রিয়া থামানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি করছে বলেও স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে আর সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্য গভর্নরের কাছে অনুরোধ করেন। যদি সঠিক কোন সিদ্ধান্ত না জানানো হয় তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে অসন্তোষ ও অস্থিরতা বাড়বে বলে স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ৪ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে ওই বৈঠকে ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পর্যায়ের প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে চাকরির সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তাদের একটি বিশেষ মহলের ইঙ্গিতে আবারও পদে পুনর্বহাল, পদোন্নতি ও পুনর্নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে কখনও ছিল না। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রিন্টিং বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়া উদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক দাশ গুপ্ত অসিম কুমার ও এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুকোমল সিংহ চৌধুরী প্রমুখ। এর বাইরেও বেশ কয়েক জনের নাম শোনা যাচ্ছে। প্রথম দফা সফল হলে দ্বিতীয় দফায় এদের নিয়োগের বিষয়টি ভাবছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা অর্থসূচককে বলেন, ১৯৭৭ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নিয়োগ পাই। দীর্ঘ এ সময়ে এমন অনিয়ম আর দেখিনি। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার ঐতিহ্য থেকে সরে গেছে। অতিমাত্রায় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ প্রক্রিয়ায় যাদের বয়স শেষ হয়ে যাওয়ার পরও নিয়োগের চিন্তা করছে এদের সবাই ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।

অপর এক কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, চাকরির বয়স প্রায় শেষ। আজও উল্লেখযোগ্য কোন পদোন্নতি পাইনি। বর্তমানে যুগ্ম পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছি। অথচ যারা পদোন্নতি, পুনঃনিয়োগ পাচ্ছে তারা আমাদেরই সমবয়সী।

তিনি আরও বলেন, এরা এক সময় আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতো না। আজ তারাই দলীয় পরিচয়ে পদোন্নতিসহ সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র  মাহফুজুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, আপাতত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরাও এ ব্যাপারে কোন চিন্তা করছি না। তবে যদি কোন নিয়োগ দিতেই হয় সেটা ব্যাংকের স্বার্থেই করা হবে বলে তিনি জানান।

এই বিভাগের আরো সংবাদ