প্রভাতী ও এশিয়া ইন্স্যুরেন্সকে বিমা দাবি পরিশোধে আইডিআরএ’র নির্দেশ

নানা অজুহাত দেখিয়েও গ্রাহকের বিমা দাবির দায় এড়াতে পারল না   প্রভাতী ও এশিয়া ইন্স্যুরেন্স। শেষ পর্যন্ত  আলাদা আলাদাভাবে দু’টি প্রতিষ্ঠানের বিমা দাবি অর্থ পরিশোধ করতেই হচ্ছে তাদের।
বুধবার মতিঝিলে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠান দু’টির বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক দু’টি অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে কোম্পানি দু’টিকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের দাবির অর্থ পরিশোধ করার নিদের্শ দেয় আইডিআরএ।

আইডিআরএ সূত্র জানায়, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিমা গ্রহীতা মানতাকা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের সিসি প্লেট গোডাউনটি গত ২০১০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার খবর জানিয়ে বিমা কোম্পানিকে চিঠি দিলেও তারা সার্ভেয়ার নিয়োগ করেনি।  ২০ সেপ্টেম্বর এ দুর্ঘটনার খবর জানিয়ে বিমা পুনরায় কোম্পানিকে চিঠি দেয় প্রতিষ্ঠানটি। পরে জরিপ পরিচালনার জন্য দু’টি সার্ভেয়ার কোম্পানি ইঞ্জিনিয়ারর্স সার্ভে এসোসিয়েট লিমিটেড এবং ফেভারিট সার্ভেয়ারসকে নিয়োগ করে। এ দু’টি সার্ভেয়ার কোম্পানি মোট ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে।
কিন্তু প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষের অভিযোগ কোম্পানি পলিসিতে ২য় শ্রেণির নির্মাণ কাঠামো বিশিষ্ট গোডাউনকে ১ম শ্রেণিভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এই অসত্য তথ্য দেওয়ার কারণ দেখিয়ে প্রভাতী কর্তৃপক্ষ বিমা দাবিকে নো-ক্লেইম হিসেবে ঘোষণা করে এবং টাকা দিতে গড়িমসি শুরু করে।
পরে বাধ্য হয়ে মানতাকা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড দাবিটি নিষ্পত্তির জন্য আইডিআরএ অভিযোগ দাখিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জুলাই দাবিটির বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান এম. শেফাক আহমেদ, তিনজন সদস্য নব গোপাল বণিক, মো. নূরূল ইসলাম মোল্যা ও মো. ফজলুল করিম।
আর প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতাউর রহমান মজুমদার, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ সালাম, ইঞ্জিনিয়ার্স সার্ভে এসোসিয়েট লিমিটেডের পক্ষে মো. আতিক উল্লাহ ভূঁইয়া ও ফেবারিট সার্ভেয়ারের পক্ষে কে এম শহিদুল ইসলাম ও বিমা গ্রহীতা মানতাকা প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের পক্ষে অহিদুর রহমান ও মাহফুজা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তিতর্ক পর্যালোচনার পর বিমা গ্রহীতা মানতাকা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, জনতা ব্যাংক লিমিটেড, বৈদেশিক বাণিজ্য শাখার মাধ্যমে বিমা পলিসি গ্রহণ করায় ভবনের শ্রেণি কাঠামো বিষয়ক তথ্যের ভুলের জন্য দায়ি নয় বলে সিদ্ধান্ত হয়। আর সার্ভেয়ারদের জরিপে ক্ষতি ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকার টাকা চেকের মাধ্যমে বিমা গ্রহীতাকে পরিশোধ করে দাবিটি নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ প্রদান করে আইডিআরএ।
একই দিনে, গত বছরের ২ এপ্রিল এশিয়া ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিমা গ্রহীতা সোনালী ফার্ণিচার মার্ট অগ্নিকান্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে যৌথ জরিপের জন্য ড্যানিয়েল সার্ভেয়ারকেও নিয়োগ দেওয়া হয়। জরিপকারী দু’টি প্রতিষ্ঠান অগিকান্ডে ২৪ লাখ ৮০ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদন দেয়। কিন্তু কোম্পানি ৪র্থ শ্রেণির নির্মাণ কাঠামো বিশিষ্ট দোকানকে বিমা পলিসিতে ২য় শ্রেণিভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলে অভিযোগ এশিয়া কর্তৃপক্ষের। এই অসত্য তথ্য দেয়ার অভিযোগে এশিয়া ইন্স্যুরেন্স বিমা দাবিটিকে নো-ক্লেইম হিসেবে ঘোষণা করে। পরে বিমা গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইডিআরএ আরেকটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
ওই শুনানি শেষে বিমা গ্রহীতা সোনালী ফার্ণিচার মার্ট শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে বিমা পলিসি গ্রহণ করায় ভবনের শ্রেণি কাঠামো বিষয়ক তথ্যের ভুলের জন্য দায়ি নয় এবং সার্ভেয়ারদের জরিপে উল্লেখিত টাকা চেকের মাধ্যমে বিমা গ্রহীতাকে পরিশোধ করে দাবিটি নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ প্রদান করে।