কৃষকদের খরচ বাড়বে বছরে সাড়ে ৫ লাখ কোটি রুপি

ভারতে গরু রক্ষা করতে গিয়ে কৃষকরা বিপাকে পড়বেন বলে সতর্ক করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রণালয়। অর্থমন্ত্রণালয়ের এক সমীক্ষার বরাত দিয়ে আজ শনিবার আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, এতদিন কৃষক সংগঠন ও অর্থনীতিবিদরা এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে আসলেও এ বারই সুকৌশলে বলা হয়েছে, গবাদি পশু জবাইয়ে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা টানা হলে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকরাই।

গত মে মাসের শেষের দিকেই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জবাই করার উদ্দেশ্যে গরু ও মহিষসহ আরও কয়েকটি গবাদিপশু বিক্রির ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। নিয়মে বলা হয়েছে কৃষিকাজের প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনও উদ্দেশ্যে গরু, ষাঁড়, গাড়ি টানা বলদ, হাল টানা বলদ, মহিষ, বকনা বাছুর ও উট বিক্রি করা যাবে না।

এদিকে অর্থমন্ত্রণালয়ের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, কর্মক্ষমতা হারানোর পরে গবাদি পশুর দামের উপরেও পশুপালকদের রুটিরুজি নির্ভর করে। এমনিতেই কৃষি থেকে আয় পড়তির দিকে।

সমীক্ষায় বলা হয়, কোনও ‘সামাজিক নীতি’-র জেরে পশুর মাংস বেচে আয় বন্ধ হলে এবং বুড়িয়ে যাওয়া গবাদি পশুকে বসিয়ে খাওয়াতে হলে, চাষি-পশুপালকদের আয় আরও কমবে। এই সব ‘সামাজিক নীতির’ ফলে সমাজে ক্ষতিই হবে।

খবরে বলা হয়েছে, আর্থিক সমীক্ষাটি তৈরি করেন মন্ত্রণালয়ের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। এরপর আজ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি তা সংসদে পেশ করেছেন।

এ বিষয়ে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক বিকাশ রাওয়াল জানান, বছরে ৩ কোটি ৭০ লাখ পুরুষ গরু-মহিষ জন্ম হয়। জবাই বন্ধ হলে এদের খাবারের পেছনে বছরে ৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি রুপি বাড়তি খরচ হবে কৃষকদের।

উল্লেখ, গত মে মাসের শেষের দিকেই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জবাই করার উদ্দেশ্যে গরু ও মহিষসহ আরও কয়েকটি গবাদিপশু বিক্রির ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে জুলাই মাসে সরকারের সেই নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব স্থগিত করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরে সরকার প্রস্তাবিত নতুন আইনটির কিছু ধারা পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দেয়।

গত মে মাসে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করলে সমালোচনার ঝড় ওঠে দেশটিতে। সমালোচকরা বলেন, সে দেশের প্রায় ১ লাখ কোটি রুপির মাংসের ব্যবসায় ধস নামবে এই নীতির ফলে। গোমাংসের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চাপে পড়বেন গৃহপালিত পশু অক্ষম হলে যারা বিক্রি করে দেন তারাও।

সরকারি ওই নির্দেশনায় বলা হয়, বাজারে গরু বা অন্য গবাদি পশু আনতে গেলে প্রয়োজনীয় আগাম অনুমতি নিতে হবে। যাতে কৃষি ও পশুপালন সংক্রান্ত উদ্দেশ্য উল্লেখ করলে তবেই ছাড় দেওয়া হবে। বিক্রেতা সঠিক পরিচয়পত্রে নিজেকে কৃষক প্রমাণ করতে পারলেই গরু বা মহিষ কিনতে পারবেন।

পাশাপাশি রাজ্যের সীমান্তের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো পশু বিক্রির বাজার থাকতে পারবে না বলেও নির্দেশনায় জানানো হয়।

টি