পোশাক কারখানার নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়তা তহবিল বাড়াবে ক্রেতা জোট

BGMEAপোশাক কারখানার অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রস্তাব করেছে আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স ফর ওয়ার্কার সেফটি। তাছাড়া ২০১৪ সালের জুলাই এর মধ্যে অ্যালায়েন্সের অন্তর্ভূক্ত কারখানার শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তাজনিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে জানানো হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় হোটেল ওয়েস্টিংয়ে ঢাকায় অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি সমন্বয় অফিসের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্থাটির পক্ষ থেকে একথা জানানো হয়।

পোশাক কারখানার অগ্নিনিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত কল্পে সরেজমিনে কাজ শুরু করতে অ্যালায়েন্স ফর ওয়ার্কার সেফটি ঢাকাতে তাদের দাপ্তারিক কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করল। ১৫ জন স্থানীয় কর্মকর্তাকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে যারা সরেজমিনে কার্যক্রম বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দেবে বলে জানানো হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশস্থ কানাডার রাষ্ট্রদূত হেদার ক্রুডেন, ঢাকায় অ্যালায়েন্সের সভাপতি জেফরি ক্রিলা, অ্যালায়েন্সের ঢাকা অফিসের মহাব্যবস্থাপক মেসবাহ রবিন, শ্রম ও কর্মসৃস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মিখাইল শিফার, আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশ পরিচালক বকী শ্রীনিভাসা রেড্ডি, বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম, বিকেএমইএ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মহাম্মাদ হাতেম ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মহাম্মাদ আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

কানাডার রাষ্ট্রদূত বলেন, তাজরীন ও রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর থেকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত একটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। আর অ্যালায়েন্স এই চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়ে কাজ করবে বলে মনে করেন তিনি। সে ক্ষেত্রে কানাডার সরকার পোশাকখাতে উন্নতি কল্পে একত্রে কাজ করতে প্রস্তুত। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পোশাকখাতের অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

জেফরি ক্রেলা বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকখাতকে একটি নতুন মানদণ্ডে দাঁড় করাতে অ্যালায়েন্স এগিয়ে এসেছে। অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের উপস্থিতি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, সংস্থাটির সদস্যরা ৫ বছরের প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিচ্ছে। তাছাড়া সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রদেয় অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ৫০ থেকে ১০০ মিলিয়ন কারার প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আর পরিদর্শনের মাধ্যমে সরকার ঝূঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোকে স্থানান্তর করার প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছে বলে দাবি করেন শ্রমসচিব। তিনি পোশাকখাতে আইএলওসহ অ্যালায়েন্সের ভূমিকার প্রসংশা করেন।

অতীতে পোশাক শিল্প অপরিকল্পিত থাকলেও এখন তা কম্প্লায়েন্স হচ্ছে দাবি করেন সভাপতি আতিকুল ইসলাম। তাছাড়া রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর পোশাক শিল্পের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে বলে জানান তিনি। অ্যালায়েন্সের আওতায় শ্রমিক, কর্মচারি ও মালিকদের প্রশিক্ষণ নেওয়া দরকার বলেও মনে করেন তিনি।