ArthoSuchak
রবিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ঘি বনাম মাখন

দুধের পরেই দুগ্ধজাত খাবারের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হল ঘি ও মাখন। তবে এগুলো কি সবার জন্য একই রকম ভালো , না শারীরিক অবস্থাভেদে পার্থক্য হতে পারে সে নিয়ে কিছুটা বিতর্ক সব সময়েই রয়েছে। তাই এই দুইটি খাবারের গুণাগুণ জানাচ্ছে অর্থসূচক-

ঘি
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতীয় রান্নাঘরে ঘিয়ের কদর বেড়ে গেছে। খাবারের স্বাদ- গন্ধ বৃদ্ধিতে ঘি এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী রান্নায় বহুদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাংলার বহু রান্নায়, মূলত গুরুপাকখাবারগুলোতেই ঘি ব্যবহৃত হয়ে খাদ্যরসিক বাঙালির রসনার তৃপ্তি ঘটিয়ে আসছে।

ঘি। ফাইল ছবি

এমনিতে বছরের পর বছর ধরে আমাদের ওজন বৃদ্ধির জন্য ঘিকে দায়ী করা হয়েছে। পরে এখন অবশ্য এ ধারণা পাল্টে গেছে। বর্তমানে ঘিকে এখন সর্বশ্রেষ্ঠ খাবারের একটি বলা হয়। তবে এটা সত্য, ঘি আমাদের অন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং চামড়া জন্য চমত্কার। ঘিকে স্বাস্থ্যকর হিসেবেই সারা বিশ্বের পুষ্টিবিদরা সুপারিশ করছে। কম চর্বি থাকাতে প্রতিদিন অল্প করে ঘি খাওয়া যেতে পারে। এমনকি শিশুরাও প্রতিদিনকার খাবারের সাথে ঘি খেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে শরীরে কোলেস্টেরল কমানোর জন্য এবং পর্যাপ্ত কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করার জন্য ঘি একটি ভাল উপাদান হতে পারে বলেছেন পুষ্টিবিদ ড. রুপালি দত্ত।

মাখন

পুষ্টির দিক থেকে ঘি না মাখন ভালো? বা এর স্বাদ-ই বা কেমন? স্বাদ আর পুষ্টিতে ভরা মাখন সকালের নাশতায় অনেকেই খেয়ে থাকেন। সেসব মাখন বাজার থেকে কিনে আনা হয়। কিন্তু বাজার থেকে কেনা মাখনে পর্যাপ্ত পুষ্টিগুণ নাও থাকতে পারে। তবে ঘরে বানানো মাখনেই বেশি স্বাস্থ্যকর। প্রতিদিনের দুধ থেকে মালাই বা দুধের সর আলাদা করে জমিয়ে রাখুন। নরমাল ফ্রিজে এই মালাই ২-৩ দিন রাখতে পারবেন। তবে ড্রিপ ফ্রিজে এটি ১০-১৫ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারবেন। এবার একটি ফুড প্রসেসর নিয়ে মালাই দিয়ে দিন। এর সাথে আধা কাপ পানি দিয়ে ব্লেন্ড করুন (একটি বড় বোলের এক বোল দুধের সর বা মালাইয়ের জন্য আধকাপ পানি)। ২ মিনিট ব্লেন্ড করুন।এভাবেই ঘরেই মাখন বানিয়ে নিতে পারেন।

আবার চাইলে যদি মাখন লবাণক্ত করতে চান, তবে এর সাথে এক চিমটি লবণ দিয়ে দিতে পারেন। এবার একটি পাত্রে মাখন ঢেলে নিন। মাখন হাত দিয়ে বল বানিয়ে বাড়তি পানি বের করে ফেলুন।

তবে বাজারে আপনি যে মাখনটি পান করেন তা হল দুধের প্রোটিন, এটি প্রক্রিয়াজাতকৃত এবং এতে লবন থাকে না।

ঘি আর মাখনের স্বাস্থ্য উপকারিতা

ঘি-তে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে এবং অন্যান্য উপাদানের চেয়ে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ই’-এর চমৎকার উৎস ঘি। তাছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম মাখনে ৭১৭ কিলো ক্যালরি শক্তি, ৫১ শতাংশ অপরিশোধিত চর্বি ও অন্যান্য উপাদান রয়েছে। অন্যদিকে একই পরিমাণ ঘি’য়ে ৯০০ কিলো ক্যালরি, ৬০ শতাংশ অপরিশোধিত চর্বি ও অন্যান্য উপাদান রয়েছে।

খাবারে স্বাদ বাড়াতে ঘি এবং মাখনের ব্যবহার

ঘি এবং মাখন এ দুটোরই রয়েছে আলাদা স্বাদ এবং ব্যবহার। তাছাড়া রান্না ও খাবার দিক থেকে ঘি এবং মাখনের রয়েছে বিচিত্র ব্যবহার। ভারতবর্ষে এক সময় প্রায় সব ধরনের রান্নায় ঘি ব্যবহার করা হত। যেমন ডাল, মাংস সহ নানান পদে। বিশেষ অনুষ্ঠানে পরোটা, সুজি এবং বিভিন্ন হালুয়াতে ব্যবহার করা হয়। এর কারণ ঘি উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা রাখে ।

সাদা সস বা ব্যাচামেলের মত দ্রুত সস তৈরির সময় সাধারণত মাখনের ব্যবহার হয়। এছাড়াও স্বাদ বৃদ্ধির জন্য মাখন সবজি, মাছ এবং মাংস রান্নাতেও ব্যবহার করা হয়। ঘি সরাসরি খাওয়া না গেল মাখন সরাসরি পাউরুটির সাথে বা স্যান্ডউইচের সাথে খাওয়া যায়।

অর্থসূচক/টি এম/ কে এম

এই বিভাগের আরো সংবাদ