বৃষ্টির দিনে ড্রাইভিংঃ প্রয়োজনীয় কিছু টিপস
শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বৃষ্টির দিনে ড্রাইভিংঃ প্রয়োজনীয় কিছু টিপস

বর্ষাকাল চলছে। বৃষ্টি এখন প্রায় প্রতিদিনের সঙ্গী। কখনো ঝিরঝিরে, কখনো মাঝারি কখনোবা তীব্র বর্ষণ। বৃষ্টির দিনগুলো সড়কে, যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশেষ অবস্থা সৃষ্টি করে।

Driving-Rain-1.jpgবৃষ্টির দিনে ড্রাইভিং (Driving) বা গাড়ি চালানোর জন্য পরিবেশ অনুকূল থাকে না। বৃষ্টিতে দৃষ্টিসীমা কমে যায়। অনেক কিছু স্পষ্ট দেখা যায় না। সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যায়। সড়ককে আঁকড়ে ধরে থাকার সক্ষমতা হারায় টায়ার। ব্রেকের ক্ষমতা হয়ে পড়ে দূর্বল। এসব কারণে দূর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।

প্রবল বর্ষণে অনেক সময় শহরের বিভিন্ন রাস্তা, এমনকি অনেক সময় মহাসড়কেও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ফলে রাস্তায় কোনো খানাখন্দ থাকলে তা দেখা যায় না। খুব সতর্ক না থাকলে পানির নিচে ডুবে থাকা গর্তে চাকা পরে যেতে পারে। এছাড়া পানি ঢুকে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকি ইঞ্জিন সম্পূর্ণভাবে বিকল হয়ে যেতে পারে।

তাই বৃষ্টির মৌসুমে ড্রাইভিং (Driving) বা গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে চাই বিশেষ সতর্কতা। মেনে চলা চাই কিছু নিয়মকানুন। তাতে ভ্রমণ হবে নিরাপদ। আর প্রিয় গাড়িটিও থাকবে ভালো। অর্থসূচক স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে আর ডেইলি এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক পত্রিকার সহায়তা নিয়ে আপনার জন্যে সাজিয়েছে কিছু টিপস।

Driving-Rain-2.jpg

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে নজর রাখুন

বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সব সময় একই মাত্রার বৃষ্টি হয় না। নিম্নচাপ বা লঘুচাপ তৈরি হলে, মৌসুমি বায়ুর সঞ্চালন বেড়ে গেলে বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে যায়। আগে থেকেই পূর্বাভাস জানা থাকলে আপনার প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হবে।

জরুরি না হলে গাড়ি বের না করাই ভালো

খুব জরুরি না হলে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি বের না করাই ভালো। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে, যেখানে বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়, সেখানে বৃষ্টিতে গাড়ি চালানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

ওয়াইপার, ব্রেক পরীক্ষা করে নিন

বৃষ্টিতে যদি গাড়ি বের করতেই হয়, তাহলে বের হবার আগে গাড়িটি ভালোভাবে চেক করে নিন। দেখে নিন সব যন্ত্রাংশ ঠিক আছে কি-না। বিশেষ করে হেডলাইট, ব্রেক ও ওয়াইপার খুবই মনোযোগী দিয়ে পরীক্ষা করুন। বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায় বলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পূর্ণকর্মক্ষম ব্রেক দরকার।

অন্যদিকে ওয়াইপার ভালোভাবে কাজ না করলে সামনের কাঁচ থেকে পানি ঠিকভাবে মোছা যাবে না। তাতে দেখতে সমস্যা হবে। ওয়াইপারের ব্লেড বেশি পুরনো বা ক্ষয় হয়ে গিয়ে থাকলে তা পাল্টে নিন।

গাড়ির টায়ারের অবস্থাও দেখে নেওয়া ভালো। গাড়ির টায়ার ক্ষয়ে গিয়ে থাকলে বৃষ্টির দিনে  সহজেই গাড়ি পিছলে যায়। এছাড়া টায়ারে সঠিক চাপ না থাকলে সড়ককে আকর্ষণ করার ক্ষমতা কমে যায়।

পর্যাপ্ত জ্বালানি নিয়ে নিন

বৃষ্টির দিনে গাড়ি নিয়ে বের হতে হলে পর্যাপ্ত জ্বালানি নিয়ে নিন। বৃষ্টির কারণে পথে আপনার বেশি সময় লাগতে পারে, বিকল্প পথে অনেক ঘুরে আসার প্রয়োজন হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকলে বিপদে পড়ে যেতে পারেন।

ভেবেচিন্তে সড়ক নির্বাচন করুন

বৃষ্টিতে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার আগে একটু ভেবেচিন্তে ঠিক করে নিন আপনি কোন সড়কটি ব্যবহার করবেন। আপনি যেখানে যাবেন, সেখানে যাওয়ার অনেকগুলো বিকল্প সড়ক থাকতে পারে। সব সড়কের অবস্থা একইরকম না-ও থাকতে পারে। কোনো কোনোটিতে হয়তো অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে। কোনোটিতে কখনোই পানি জমে না। আবার কোনো সড়ক হয়তো মসৃণ। কোনোটিতে খানাখন্দ আছে। তাই খোঁজখবর নিয়ে সবচেয়ে নিরাপদ সড়কটি ব্যবহার করাই ভালো।

CTG-Road

ভালো সড়কে যেতে যদি একটু বেশি দূরত্ব পাড়ি দিতে হয়, একটু বেশী সময় লাগে, তবু সে সড়কটিই ব্যবহার করা উচিত। কারণ খানাখন্দে পড়ে গেলে আপনার নিজের এবং গাড়ির- উভয়ের ক্ষতি হতে পারে। আবার পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়ক ব্যবহার করলে গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকে তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাতে অনেক দুর্ভোগে পড়তে পারেন। ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে অনেক টাকা দিয়ে নতুন ইঞ্জিন কেনা লাগতে পারে।

স্বল্প গতিতে গাড়ি চালান

বৃষ্টিতে যদি গাড়ি বের করতেই হয়, তাহলে স্বল্প গতিতে গাড়ি চালান। কারণ বৃষ্টিতে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দেয়। বৃষ্টির সময়ে দৃষ্টিসীমা কমে যায়। বেশি দূরের কিছু দেখা যায় না। তাই ঝুঁকি বেড়ে যায়। অন্য দিকে রাস্তা ভিজে পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ব্রেক কম কাজ করে। গাড়ি নিয়ন্ত্রণে আসতে একটু বেশি সময় নেয়। এমন পরিস্থিতিতে গাড়ির গতি বেশি থাকলে দূর্ঘটনার আশংকা বেড়ে যায়।

Driving-through-water

আমাদের দেশে একই সড়কে গাড়ির পাশাপাশি রিক্সা, ইজিবাইক, থ্রিহুইলার, ভ্যান চলে। ফুটপাত ধরে, কখনো কখনো মূল সড়কের কিনার ধরে পথচারি চলাচল করে। জোরে গাড়ি চালালে তাদের গায়ে রাস্তার নোংরা পানি ছিটকে পরতে পারে। এটি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

ওয়াইপার চালু রাখুন

বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি চালাতে হলে সারাক্ষণ ওয়াইপার চালু রাখা দরকার। তাতে সামনের কাঁচে পানি জমে আপনার দৃষ্টিকে ব্যাহত করতে পারবে না।

এয়ারকন্ডিশন চালিয়ে রাখুন

বৃষ্টিতে জানালার কাঁচ নামিয়ে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। তাতে গাড়ি ভিজে যাবে। আবার এয়ারকন্ডিশন না চালিয়ে কাঁচ তুলে দিলে গাড়ির সব কাঁচ ঘেমে ঘোলা হয়ে যেতে পারে।

বৃষ্টিতে বাইরের তাপমাত্রা অনেক কমে গেলেও গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা ততটা কমে না। তাপের এই ব্যবধানের কারণে গাড়ির ভেতরের দিকের কাঁচ ঘেমে যায়। বিন্দু বিন্দু ঘামের কারণে দৃষ্টি ব্যহত হয়। তাতে দূর্ঘটনার আশংকা বাড়ে। এয়ারকন্ডিশন চালু থাকলে ঘামের সমস্যা হয় না।

হেডলাইট জ্বালিয়ে রাখুন

বৃষ্টিতে গাড়ি হেডলাইট জ্বালিয়ে রাখা ভালো। কারণ বৃষ্টি আর কালো মেঘে অনেক সময় চারপাশ কিছুটা অন্ধকার হয়ে আসে। তাতে দেখতে সমস্যা হয়। দিনে বা রাতে-যখনই গাড়ি চালান না কেনো, হেডলাইট জ্বালিয়ে রাখলে এই সমস্যা এড়ানো যাবে।

এছাড়া হেডলাইট জ্বালিয়ে রাখলে অপর দিক থেকে আসা গাড়ির ড্রাইভার সহজেই আপনার গাড়িকে দেখতে পাবেন। ফলে তিনি প্রয়োজনীয় সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাবেন। আপনাকে পর্যাপ্ত জায়গা দেবেন।

তবে সব সময় হেডলাইট লো বিমে থাকাই ভালো। হাই বিমে বেশ কিছু সমস্যা হতে পারে। রাতে হাই বিম জ্বালালে জমে থাকা পানিতে প্রতিফলিত হয়ে দৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এছাড়া বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির ড্রাইভারের দেখতে সমস্যা হতে পারে। অপর পাশের গাড়িতে যদি হাই বিম জ্বালানো থাকে তাহলে আপনি হাই বিম জ্বালিয়েও স্বাভাবিকভাবে দেখতে পাবেন না। এমন অবস্থায় আপনার গাড়ির গতি কমিয়ে অতি ধীরে ওই এলাকা পার হওয়া ভালো।

Road-under-water

পানির গভীরতা নিশ্চিত না হয়ে সামনে এগুবেন না

সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকলে খুবই সতর্ক হয়ে যেতে হবে। সামনে পানির গভীরতা কতটুকু, বড় কোনো খানাখন্দ ও গর্ত আছে কি-না নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে একটা সহজ উপায় হতে পারে সামনের গাড়ির প্রতি লক্ষ্য রাখা। আগের গাড়িটি যদি নির্বিঘ্নে সামনে এগুতে পারে, তাহলে আপনি সেটিকেই অনুসরণ করুন।

সড়কের মাঝ বরাবর চলুন

বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়া সড়কে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব সড়কের মাঝখানে থাকুন। সাধারণত দুই পাশের চেয়ে মাঝখানে পানি কম থাকে।

সামনের গাড়ির সঙ্গে পর্যাপ্ত দূরত্ব রাখুন

বৃষ্টিতে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যায় বলে ব্রেক কম কাজ করে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে একটু বেশি সময় লাগে গাড়ি থামাতে বা নিয়ন্ত্রণে আনতে। তাই অন্য সময় সামনের গাড়ির সঙ্গে যতটা দূরত্ব রাখলে চলে, বৃষ্টির দিনে তারচেয়ে বেশি দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।

বেশি পানিতে গাড়ি চালানো উচিত নয়

কোনো সড়কে বেশি পানি থাকলে সেখানে গাড়ি না চালানোই ভালো। ব্রেক ভিজে গেলে অনেক সময় ঠিকভাবে কাজ করে না। এছাড়া অনেক সময় সাইলেন্সার দিয়ে পানি প্রবেশ করে ইঞ্জিনে চলে যেতে পারে। তাতে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়ে দুর্ভোগ ডেকে আনতে পারে। এমনকি ইঞ্জিন পুরোপুরি নষ্টও হয়ে যেতে পারে।

ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে মেকানিক ডাকুন

বেশি পানিতে গাড়ি চালালে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমন অবস্থা হলে গাড়ি বারবার স্টার্ট দেওয়ার চেষ্টা না করে মেকানিক ডাকা ভালো। কারণ ইঞ্জিনে পানি যাওয়ার পর সেটি স্টার্ট করার চেষ্টা করলে ইঞ্জিনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যেতে পারে। এমনকি সেটি মেরামতের অযোগ্য হয়ে যাওয়ারও শঙ্কা থাকে। তাই বিষয়টি মেকানিকে হাতে ছেড়ে দেওয়াই ভালো।

শুভ হোক আপনার যাত্রা!

এই বিভাগের আরো সংবাদ