পূর্বাচলে ১০০ ফিট খালের কাজ আগামী বছরেই শেষ হবে: মন্ত্রী
বৃহস্পতিবার, ২রা জুলাই, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

পূর্বাচলে ১০০ ফিট খালের কাজ আগামী বছরেই শেষ হবে: মন্ত্রী

পূর্বাচল  নতুন শহর- প্রকল্পকের মধ্য দিয়ে যাওয়া কুড়িল-পূর্বাচল লিংক রোডের দুই পাশে ১০০ ফিট খাল খননের কাজ ২০১৮ সালের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

শুক্রবার খাল খনন ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, যেহেতু সেনবাহিনী এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে, তাই আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, ২০১৮ সালের মধ্যেই এটি শেষ হবে।

তিনি বলেন, এখন যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে, কাজ শেষ হলে চমৎকার দৃশ্য ফুটে উঠবে। বুয়েটের ডিজাইনে রাজউকের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন চলছে।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, বিলম্বিত হওয়া প্রকল্পগুলো যেকোনোভাবে ২০১৮ সালের মধ্যে শেষ করতে আমি রাজউকের নতুন চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি।

পূর্তমন্ত্রী বলেন, হাতিরঝিলের পরে এটি হবে ঢাকার আরেকটি নান্দনিক এলাকা। এখানে মানুষ আসবে, ঘুরবে, দেখবে। এছাড়া খালের কাজ শেষ হলে ঢাকার জলাবদ্ধতাও কমবে বলে আশ্বাস দেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ।

এছাড়া ওই এলাকায় ১৪২ তলা আইকনিক টাওয়ারসহ আরও অনেক টাওয়ার হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ওই সব টাওয়ারের কোনোটি হবে ৬০, কোনটি ৮০, কোনটি ৫০ তলার।

এ জন্য এজন্য ১০০ একর জমি লিজের জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ৩ মাসের মধ্যে টেন্ডার অ্যাওয়ার্ড করবো। আমরা ৬ মাস সময় দিয়েছি তারা কাজ করে চিহ্নিত করবে কোথায় কত তলা টাওয়ার করা যাবে।

এদিকে আমরা ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্বাচলের প্রয়োজনীয় সব কাজ শেষ হবে। এর পর সেখানে যারা প্লট পেয়েছেন তারা ঘরবাড়ি করতে পারবেন বলেও জানান মন্ত্রী।

উল্লেখ, পূর্বাচলকে  ও পরিবেশবান্ধব করে তৈরি করার জন্যই  সড়কের দুই পাশে এই খাল খনন করা হচ্ছে।  রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অর্থায়নে প্রাথমিকভাবে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার দুইশ’ ছিয়াশি কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় হচ্ছে চার হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা।

গত ৮ জুলাই শনিবার পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কের ডুমনি এলাকায় এ খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন রাজউক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান।

প্রকল্প পরিকল্পনা অনুসারে খালের দুই পাশেই সাড়ে ছয় মিটার সার্ভিস সড়ক থাকবে। এরপর তিন মিটার প্রশস্ত হাঁটার পথের পর থাকবে ৩০ মিটার খাল। খালের পর আবার দুই মিটার হাঁটার পথ ও ছয় মিটার সার্ভিস রোড। সবার শেষে থাকবে দেড় মিটার করে হাঁটার পথ।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার খাল, প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়ক, ৩৯ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, চারটি ইউলুপ, খালের ওপর ১৩টি সেতু, চারটি এক্সপ্রেসওয়ে ফুটওভারব্রিজ এবং পাঁচটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া একটি পাম্প হাউজ, ১২টি ওয়াটার বাস স্টপ, ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার স্টর্ম স্যুয়ার লাইন নির্মাণ করার কথাও পরিবল্পনায় রয়েছে।

মন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় রাজউক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার আনিস, বুয়েটের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন, রাজউকের প্রকল্প পরিচালক নুরুল ইসলাম, খাল খনন প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিজাম উদ্দিন আহমেদ তার সঙ্গে ছিলেন।

টি

এই বিভাগের আরো সংবাদ