আব্দুল জব্বারের শারীরিক অবস্থার অবনতি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আব্দুল জব্বারের শারীরিক অবস্থার অবনতি

‘ওরে নীল দরিয়া আমায় দে রে দে ছাড়িয়া’, ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ অসংখ্য কালজয়ী গানে কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বারের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে।

কিডনি, হার্ট, প্রস্টেটসহ নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আড়াই মাস ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই কণ্ঠসৈনিক।

বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তার ছোট ভাই মাসুদ গণমাধ্যমকে জানান, তিনি এখন স্পষ্টভাবে কথা বলতে ও স্বাভাবিকভাবে একা হাঁটতে পারেন না। অন্যের সাহায্য নিয়ে তাকে হাঁটতে হয়। ঠিকমতো বসেও থাকতে পারেন না। গত ১৯ জুন চিকিৎসকরা বোর্ড মিটিং করেছেন। তারা তাকে বিদেশ নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন।’

এই কালজয়ী শিল্পীর উন্নত চিকিৎসার জন্য আনুমানিক ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু শিল্পী এবং তার পরিবারের পক্ষে এত টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। এরই মধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইলস, হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও টেলিকমিউনিকেশন পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে অসুস্থ শিল্পী আব্দুল জব্বারের হাতে অর্থ সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘বিদেশে গিয়ে চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। আমাদের পরিবারের জন্য তা বহন করা সম্ভব নয়। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছি।’

উল্লেখ্য, সরকার আব্দুল জব্বারের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে বলে কিছুদিন আগে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে এর কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে মাসুদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুই বছর আগে বিশ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দিয়েছিলেন। মাননীয় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর হাসপাতালে দেখতে এসেছিলেন। তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কোনো সাহায্য পাইনি। আমরা নিজেরাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেষ্টা করছি।’

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আব্দুল জব্বার হারমোনিয়াম নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন ক্যাম্পে গিয়ে গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করেন স্বাধীনতা পদক, একুশে পদকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পদকপ্রাপ্ত এই সংগীতশিল্পী। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে এই শিল্পীর গাওয়া বিভিন্ন গান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ও মনোবল বাড়িয়েছে। গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে গণসংগীত গেয়ে প্রাপ্ত ১২ লাখ টাকা তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে দান করেছিলেন।

অর্থসূচক/টি এম/কে এম

এই বিভাগের আরো সংবাদ