বালি সম্মেলনে বাংলাদেশের জন্য আশার বাণী নেই: সিপিডি
শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

বালি সম্মেলনে বাংলাদেশের জন্য আশার বাণী নেই: সিপিডি

cpd_dayইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নবম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন সফলভাবে শেষ হয়েছে। তবে অবাধ বাণিজ্য সুবিধা, খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য ‌শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রাপ্তির পরিমাণ কম বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

 

সোমবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সিপিডির কনফারেন্স রুমে আযোজিত ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বালি সম্মেলন বাংলাদেশের প্রাপ্তি’ বিষয়ক সেমিনারে এ কথা জানান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ সিপিডির গবেষণা প্রধান ড.ফাহমিদা খাতুন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন গবেষণা সহকারী ড. মোয়াজ্জেম হোসেন, মো. আলামিন এবং নুসরাত জাহান।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০০৫ সালে হংকংয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার অষ্টম সম্মেলনে শুল্ক মু্ক্ত প্রবেশাধিকারে বাংলাদেশ যে সুবিধা পেয়েছিল এবার তার চেয়ে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। কয়েকটি উন্নত দেশে শুল্ক মু্ক্ত প্রবেশাধিকারের সিদ্ধান্ত হলেও তার নিদিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ নেই। নেই কোন কোন পণ্যে শুল্ক মুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে তার সুস্পষ্ট ঘোষণা। আর এ বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলো স্বল্পউন্নত দেশগুলোকে কতোদিনের মধ্যে প্রদান করবে তারও কোন নির্দেশনা নেই।

আর বাংলাদেশ ২০০৫ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে শুল্ক মুক্ত প্রবেশাধীকারের সুযোগ পেয়ে আসার কারণে তা বাংলাদেশের জন্য বেশি কার্যকর নয়।

তিনি আরও বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যগুলো একমত হলেও তা বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য খুব বেশি উপকারে আসবে না। এতে ভারত আমেরিকাসহ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশগুলো তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে খাদ্য  মজুদ করতে পারবে। এ সুযোগ আমাদের থাকলেও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে মজুদ করার মতো খাদ্য আমাদের নেই। এছাড়া, খাদ্য সংকটের সময় উন্নত দেশগুলো খাদ্য রপ্তানি বন্ধ করে দিলে তা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বিপদ ডেকে নিয়ে আসবে। তবে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য সুবিধা হতো বলে মনে করেন তিনি।

ড. মোস্তাফিজ বলেন,সেবা খাতে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে তার কোন নিদিষ্ট রূপরেখা সম্মেলন থেকে দেওয়া হয়নি। তাই এখাতের সুবিধা গ্রহণ করতে বাংলাদেশকে তাদের সেক্টরভিত্তিক সম্ভবনাময় খাত গুলোকে তুলে এখাতের সুবিধা বাড়াতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশের প্রচুর হোমওয়ার্কের প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

মূলপ্রবন্ধ পাঠকালে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বালি সম্মেলনে মূলত দোহা সম্মেলনের অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো সমাধান হয়। এখানে বিশ্ব অবাধ বাণিজ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য শুল্ক মুক্ত প্রবেশাধিকার বিষয়ে সদস্য দেশগুলো একমত হয়। তা না হলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতো।

তিনি আরো বলেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্যে ৯৭ শতাংশ শুল্ক মুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়ে একমত হলেও এদেশগুলো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কোন নির্দেশনা পায়নি। তবে পণ্য আমদানি এবং রপ্তানিতে সীমানা, শুল্ক অফিস ও প্রশাসনিক জটিলতার যে সমস্যা ছিল তা অনেকাংশে কমে যাবে।

বালি সম্মেলনের ফল পেতে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ড. মোয়াজ্জেম বলেন, এবারের সম্মেলনে তুলার উপর যে সাবসিটি বৃদ্ধি করা হয়েছে তা বাংলাদেশের মতো তৈরি পোষাক উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য সমস্যা হতে পারে। তবে তা আফ্রিকার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য সুবিধা নিয়ে আসবে।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ