ভ্যাট লক্ষ্যমাত্রা পূরণে 'নজর' নতুন প্রতিষ্ঠানে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ভ্যাট লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ‘নজর’ নতুন প্রতিষ্ঠানে

নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নকে সামনে রেখে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট খাতে সর্বোচ্চ ৯১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার। কিন্তু ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’ দুই বছরের জন্য স্থগিত হওয়ায় ভ্যাটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সুপার শপে কেনাকাটা। ফাইল ছবি

সদ্য পাস হওয়া বাজেটে ভ্যাট আইন স্থগিত করলেও ভ্যাটের লক্ষ্যমাত্রায় কোনো ধরনের কাটছাট করা হয়নি। তার ওপর নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসহ বেশিরভাগ পণ্যে ভ্যাট অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।

ভ্যাট খাতের বিশাল আকৃতির এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) কোনো দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে নতুন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাজ শুরু করেছে এনবিআর। ভ্যাটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত দেশের প্রতিটি প্রান্তে ভ্যাট অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, ভ্যাটের বিশাল এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এবার ভ্যাট আওতার বাইরে থাকা নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে নজর দেওয়া হবে। ভ্যাট সংগ্রহে দেশের প্রতিটি প্রান্তে চিরুনি অভিযান চালানো হবে।

এনবিআরের হিসেবে, দেশে ৫০ লাখের বেশি ভ্যাট যোগ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৮ লাখ ৮৪ হাজার প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে। মাত্র ৩৪ হাজার প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন জমা দিচ্ছে।

গত ২৩ মার্চ থেকে অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন শুরু হয়। ২২ জুন পর্যন্ত ৫০ হাজার ১৭১ নিবন্ধন হয়েছে। এর মধ্যে টার্নওভার প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ২৭৯ ও ৪৮ হাজার ৮৯২ ভ্যাট নিবন্ধন। নতুন ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে ১৯ হাজার ৬৯৪টি ও পুনঃনিবন্ধন করেছে ৩০ হাজার ৪৭৭ প্রতিষ্ঠান।

Budget Muhit

জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

এনবিআর সূত্র জানায়, দিক-নির্দেশনা না থাকলেও ভ্যাট লক্ষ্যমাত্রা পূরণে রূপরেখা তৈরি করছে এনবিআর; জরিপ কার্যক্রম জোরদার হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ভ্যাট যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে খুঁজে বের করে নিবন্ধনের আওতায় আনা। বার্ষিক বিক্রয়ের পরিমাণ (টার্নওভার) নির্ধারণ এবং প্যাকেজ ভ্যাটের আওতাভুক্ত কি না- তা যাচাই করা হবে। রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত সব মার্কেট ও শপিং মলে অভিযান চালাবে ভ্যাট কর্মকর্তারা।

সূত্র আরও জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে দুই লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাট খাতের ৯১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যেখানে ২০১৬-১৭ অর্থবছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭২ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। পরে সংশোধন করে ৬৮ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা করা হয়। গত অর্থবছর ভ্যাট খাতে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার সাথে ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে অর্থাৎ অতিরিক্ত ২২ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা ধরা হয়।

বর্তমানে ২০টি সেবা খাতে সংকুচিত হারে ভ্যাট আদায় করা হয়। এর মধ্যে আবাসন খাতে দেড় থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ, নির্মাণ সংস্থা ৬ শতাংশ, আসবাবপত্র ৬ ও ৪ শতাংশ, জুয়েলারি ৫ শতাংশ, পরিবহন ঠিকাদার সাড়ে ৪ ও ১০ শতাংশ, বিদ্যুৎ ৫ শতাংশ, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল সাড়ে ৭ শতাংশ হিসাবে ভ্যাট আদায় হয়। অন্যদিকে গুঁড়া দুধ, বিস্কুট, কেক, চাটনি, জুস, নিউজপেপার, ইট, জেনারেটর, সয়াবিন তেলসহ ১৭৯টি পণ্যে ট্যারিফ ভ্যালুর আওতায় ভ্যাট আদায় করা হতো।

এনবিআরের একজন সদস্য অর্থসূচকে বলেন, নতুন আইন বাস্তবায়নকে টার্গেট করে ভ্যাটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই টার্গেট পূরণে একটি গাইডলাইন ছিল। আইন তো বাস্তবায়ন হয়নি। আমাদেরকে কোনো দিক-নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি। বিশাল এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ চ্যালেঞ্জ হবে। তবে আমরা রূপরেখা তৈরি করছি।

NBR

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)

তিনি বলেন, ভ্যাট যোগ্য নতুন প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করা ভ্যাট বিভাগের রুটিন ওয়ার্ক। এবার রুটিন ওয়ার্ককে স্থায়ী করে দেওয়া হচ্ছে। শুধু শহর নয়; গ্রামে পর্যায় পর্যন্ত ভ্যাট কর্মকর্তারা ভ্যাট যোগ্য প্রতিষ্ঠানে হানা দেবে।

এনবিআরের ওই সদস্য বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকি দেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে নজরদারি বাড়ানো হবে। অনেক প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ভ্যাটের দোহাই দিয়ে পার পেতে চায়- তাদের বিষয়েও কঠোর হবো। অডিটের পরিমাণ বাড়ানো হবে। মাঠ অফিসকে কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।

অর্থসূচক/রহমত/এসএম/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ