পুষ্টিতে ভরা মিষ্টি কুমড়া
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

পুষ্টিতে ভরা মিষ্টি কুমড়া

মিষ্টি কুমড়া বারোমাসি একটি পরিচিত সবজি। ভাজি, তরকারি ছাড়া ভর্তা করা করে খাওয়ারও প্রচলন রয়েছে। তবে অনেক দেশে ডেজার্ট, স্যুপ, সালাদেও এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ উজ্জ্বল বর্ণের সুস্বাদু সবজিটির সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ থাকা। এতো ভিটামিন এ’র খনি আর তেমন কোনো সবজিতে পাওয়া যায় না।

কুমড়ার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন ই মানবদেহকে ক্যান্সার ও আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। জেনে নিই মিষ্টি কুমড়ার পুষ্টিগুণ-

মিষ্টি কুমড়া। ফাইল ছবি

প্রতি ১০০ গ্রাম মিষ্টি কুমড়ায় আছে

আমিষ ১ দশমিক ৪ গ্রাম, শর্করা ৪ দশমিক ৫ গ্রাম, চর্বি ০ দশমিক ৫ গ্রাম, খনিজ লবণ ০ দশমিক ৭  গ্রাম, ভিটামিন বি ০ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ২৬ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৪৮ মিলিগ্রাম, কোলোস্টেরল দশমিক ০৬ মিলিগ্রাম, লোহা ০ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম ও বিটা ক্যারোটিন ৭২০০ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়াও বি কমপ্লেক্স, সি, ই, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, জিংক, ফ্লেভনয়েড পলি ফেনলিক, অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট উপাদান সমূহ যেমন লিউটিন, জ্যানথিন রয়েছে।

মিষ্টি কুমড়ার কিছু উপকারিতা:

চোখ ভালো রাখে

মিষ্টি কুমড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। বিটাক্যারোটিন সমৃদ্ধ এই সবজিটি তাই চোখের জন্য খুবই ভালো। বয়সজনিত রোগ বিশেষ করে রেটিনার বিভিন্ন অসুখ প্রতিরোধে মিষ্টি কুমড়া বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শুধু চোখের অসুখ নয়, ভিটামিন এ এর অভাবজনিত অন্যান্য রোগেও মিষ্টি কুমড়া উপকারী।

শরীর গঠন করে

গাজরের তুলনায় মিষ্টি কুমড়াতে অধিক পরিমাণে বিটাক্যারোটিন। গাজরে যেখানে ১৩ মিলিগ্রাম বিটাক্যারোটিন রয়েছে, মিষ্টি কুমড়াতে রয়েছে ৩৩ মিলিগ্রাম বিটাক্যারোটিন। বিভিন্ন দূষণ, স্ট্রেস ও খাবারে যে সব কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর উপাদান থাকে সেগুলোর কারণে ফ্রি রেডিকাল ড্যামেজ হতে শুরু করে। মিষ্টি কুমড়া ফ্রি রেডিকাল ড্যামেজ প্রতিরোধ করতে পারে।

কুমড়ার ফালি। ফাইল ছবি

ক্যান্সার হৃদ রোগ প্রতিরোধ করে

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ মিষ্টি কুমড়া ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোলেস্টেরল কম রাখতে সাহায্য করে। আর্টারির দেয়ালে চর্বির স্তর জমতে বাধা প্রদান করে। ফলে মিষ্টি কুমড়া নিয়মিত খেলে হৃদরোগও প্রতিরোধ করা যায়। তাছাড়া প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম যা হাইপারটেনশন এবং হৃদরোগ দূরে রাখে। এছাড়া মিষ্টি কুমড়ার বিভিন্ন উপাদান। প্রস্রাবের সমস্যা কমায় ও কিডনিতে পাথর হতে বাধা প্রদান করে।

হজম সহায়ক

মিষ্টি কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকায় তা সহজেই হজম হয়। হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে মিষ্টি কুমড়া ভূমিকা রাখে।

ত্বক উজ্বল করে

মিষ্টি কুমড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিংক ও আলফা হাইড্রোক্সাইড। জিংক ইমিউনিটি সিস্টেম ভালো রাখে ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়া বয়সের বলিরেখা মুছে ত্বক উজ্বল করতেও মিষ্টি কুমড়া সাহায্য করে।

দেহের জ্বালাপোড়া সমস্যা দূর করে

কুমড়ার ক্যারটিনয়েড এর জন্য রঙ উজ্জ্বল কমলা হয়ে থাকে এবং এটি দেহের জ্বালাপোড়া সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। এই সবজির বিটা ক্যারোটিন উপাদান মানবদেহের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে। আলফা ক্যারোটিন উপাদান দেহে টিউমার হওয়া থেকে রক্ষা করে।

ভাজি, তরকারি ছাড়া ভর্তা করা করে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।

ব্যায়াম করার পর

ব্যায়াম করার পর খাদ্য হিসেবে কুমড়া বেশ ভালো। এই খাবার মানবদেহে প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট এর যোগান দিয়ে থাকে। কুমড়া মানবদেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে তো রাখেই, পাশাপাশি দেহের সুস্থ পেশি তৈরিতেও সাহায্য করে। যারা সাধারণত অ্যাথলেটিক ট্রেনিং নিয়ে থাকেন, তাদের জন্য কুমড়ো বেশি করে খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি।

গর্ভবতীদের জন্য

গর্ভাবস্থায় মিষ্টি কুমড়া খাওয়া উচিত। কারণ এটি দেহে অনেক বেশি শক্তি যোগায় ও গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যের জন্য কুমড়া অনেক উপকারী খাদ্য। এটি পাশাপাশি হজম শক্তি বৃদ্ধি করে ও কুমড়ার আয়রন বাচ্চাকে অক্সিজেন দিতে সাহায্য করে ও মায়ের রক্তশূন্যতা রোধ করে।

উচ্চ রক্তচাপ কমায়

কুমড়াতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম উপাদান আছে, যা মানবশরীরে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে থাকে। তাছাড়া কুমড়োর বিভিন্ন উপাদান দেহের কিডনি, লিভার, হার্টকে সুস্থ রাখে। কুমড়োর ফাইবার দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রেখে দেহকে স্ট্রোক করার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।

অর্থসূচক/সাদিয়া খান/কে এম

এই বিভাগের আরো সংবাদ