ঈদ খাবারের স্বাদ বদলাতে ভর্তা-ভাজি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ঈদ খাবারের স্বাদ বদলাতে ভর্তা-ভাজি

ঈদের খাবারের তালিকায় রয়েছে মাংস-পোলাও-কোর্মার মতো নানা ভারি ভারি খাবার। নিজের ঘরেতো বটেই এখন অন্যদের বাসা-বাড়িতে বেড়াতে গেলেও একই অবস্থা হওয়ার কথা। কারণ ঈদের সাথে মাংসের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে রমজানের এক মাস রোজা রাখার হঠাৎ করে টানা মাংস-পোলাও  খাওয়াটা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো নাও হতে পারে। বিশেষ করে যাদের গ্যাস্ট্রিক, আলসার কিংবা এ ধরনের অসুস্থতা রয়েছে। আবার ডায়াবেটিস রোগীদেরও বেশি খাবার খাওয়া উচিত নয়।

আজ ঈদের দ্বিতীয় দিনে ভর্তা-ভাজির মতো ভিন্ন খাবারের আয়োজন করতে পারেন। এতে স্বাদে ভিন্নতা ও মুখে রুচি আসবে।

লাউ খোসা ভর্তা।

লাউয়ের খোসা চিংড়ি দিয়ে ভর্তা

উপকরণ: লাউ এর খোসা এক কাপ, ছোটো চিংড়ি  ১/৪ কাপ, পিঁয়াজ কুচি ১টি (মাঝারি), রসুন কুচি ২ কোয়া, কাঁচামরিচ কুচি ৭/৯টি, শুকনামরিচ ১টি, ধনেপাতা সামান্য, সরিষার তেল এবং লবণ।

প্রস্তুত প্রনালী: কড়াইতে অল্প তেল দিয়ে লাউয়ের খোসা ও চিংড়ি ভাজা ভাজা করে নিন, খেয়াল রাখবেন যেনো ভালো মতোন সেদ্ধ হয়। এবার শুকনা মরিচ, অন্যান্য উপকরণ (সরিষার তেল বাদে) ভেজে সব একসাথে পাটায় পিশে / ব্লেন্ড করে নিন। সরিষার তেল মাখিয়ে গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।

পটলের খোসা ভর্তা।

পটলের খোসা ভর্তা

উপকরণ: পটল এর খোসা এক কাপ, কালোজিরা ১ টে চামচ, পিঁয়াজ কুচি ১টি (মাঝারি), রসুন কুচি ২ কোয়া (ইচ্ছানুযায়ী), কাঁচামরিচ কুচি ৫/৬টি, শুকনামরিচ ১/২টি, ধনেপাতা সামান্য, সরিষার তেল এবং লবণ।

প্রস্তুত প্রনালী: কড়াইতে অল্প তেল দিয়ে পটলের খোসা ভাজা ভাজা করে নিন, খেয়াল রাখবেন যেনো ভালো মতো সেদ্ধ হয়। এবার শুকনা মরিচ, অন্যান্য উপকরণ (সরিষার তেল বাদে) সামান্য ভেজে সব একসাথে পাটায় পিশে / ব্লেন্ড করে নিন। সরিষার তেল মাখিয়ে গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।

ডাল ভর্তা।

ডাল ভর্তা

উপকরন:  মসুরের ডাল ১ কাপ, বড় রসুন কুচি ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ৪টি,  কাঁচা মরিচ ফালি ৪টি,  গুঁড়া হলুদ আধা চা চামচ,  ধনে পাতা, জিরাসহ পাঁচফোড়ন, লবণ ও সরিষার তেল পরিমান মত।

প্রস্তুত প্রনালী: মসুরের ডাল পানি দিয়ে ভাল করে ধুয়ে রসুন কুচি, মরিচ ফালি দিয়ে চুলায় দিতে হবে। ডাল সিদ্ধ হলে আধা চা-চামচ হলুদের গুঁড়া ও পরিমাণ মত লবণ দিয়ে ভাল করে ঘন্ট করে নিতে হবে। তারপর ডাল ফুটে উঠলে আর ১টি পেঁয়াজ গোল করে কেটে ডালের মধ্যে ছেড়ে দিন। আরও ২-৩ মিনিট চুলায় দিয়ে ডালের পাত্রটি নামিয়ে ফেলুন। এবার অন্য একটি পাত্র চুলায় দিয়ে পরিমান মত সয়াবিনের তেল দিয়ে গরম করে নিন। গরম তেলে ২-৩ কোয়া রসুন কুচি ও ১টি পেঁয়াজ কুচি দিয়ে বাদামি রঙ না হওয়া পর্যন্ত ভাজতে থাকুন। রসুন, পেঁয়াজ ভাজা হলে সামান্য জিরা-পাঁচফোড়ন তেলে ছেড়ে দিন। তারপর তেলের মধ্যে ডাল ঢেলে ১-২ মিনিট নাড়ুন এবং ধনিয়া পাতা কুচি ছিটিয়ে দিন। এবার চুলার আঁচ কমিয়ে পাত্রটি চুলা থেকে নামিয়ে রাখুন।

অল্প সরিষার তেল মাখিয়ে পরিবেশন করুন।

কই মাছ ভাজি।

মাছ ভাজি-ভুনা

উপকরণ: মাঝারি আকারের কই (যেকোনো মাছও নিতে পারেন) মাছ ৪টি , ১ টেবিল চামচ পিঁয়াজ বাটা, খাঁটি সরিষার তেল ৫-৬ টে চামচ, রসুন ও কাঁচা মরিচ বাটা ১ চা চামচ করে, জিরা বাটা ১/২ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ পরিমাণ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ পরিমাণ, লবণ পরিমাণ মতো, ধনে পাতা কুচি সামান্য, কাঁচা মরিচ ফালি ২/৪টি, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ।

প্রস্তুত প্রণালী: মাছ কেটে ভাল করে ধুয়ে নিন। মাছের মাঝ বরাবরে একটু করে চিরে দিতে পারেন, যেনো মসলা ঢুকতে পারে। লেবুর রস, লবণ, সামান্য হলুদ ও মরিচগুঁড়া এবং  সরিষার তেল দিয়ে মাখিয়ে ১০-২০ মিনিট মেরিনেট করে রাখতে হবে। ফ্রাইপ্যানে তেল দিয়ে তাতে কই মাছগুলো ভেজে নিন। তেল ও মসলা দিয়ে  ১ কাপ পানি দিয়ে তাতে ভাজা মাছগুলো দিতে হবে। কিছুক্ষণ পর একবার মাছ উল্টে দিয়ে ধনে পাতা ও কাঁচা মরিচ ফালি দিতে হবে। তেল ওপরে উঠে এলে চুলার আঁচ কমিয়ে ৫ মিনিট রেখে নামিয়ে ফেলতে হবে।

অর্থসূচক/সাদিয়া খান/কে এম

এই বিভাগের আরো সংবাদ