ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রামে যেখানে ঘুরতে পারেন
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রামে যেখানে ঘুরতে পারেন

ঈদে ঘরে ফিরে যাওয়ার মধ্যে মানুষের আনন্দ লুকিয়ে থাকে। তাই ঈদ এলেই শহুরে মানুষগুলো ছুটে চলে গ্রামের পানে। বাবা-মা এবং পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে। তাই গত কয়েকদিনে শহরের মানুষ নিজের ঘরে ফিরে যাওয়ায় অনেকটা ফাঁকা হয়েছে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। তবে অনেকে নানা কারণে থেকে গেছেন। যারা শহরেই থাকেন তারা ঈদের ছুটি ফাঁকা চট্টগ্রামের মানুষ হয়ে যান, হয়ে ওঠেন বড্ড ভিড়-কোলাহলহীন।

তাই নগরজীবনে ব্যস্ততার কারণে যারা পরিবারের সদস্যদের সময় দিতে পারেন না, তারা ঈদের এই ছুটিকে কাজে লাগাতে চান। ঘুরে আসতে চান শহর কিংবা শহরের একটু বাইরে বিনোদন স্পটগুলোতে। নগরীতে প্রায় সব এলাকাজুড়েই রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য ভ্রমণ স্পট। যার কোনটা প্রাকৃতিক, কোনটা কৃত্রিম আবার কোনটা ঐতিহাসিক আদলে নির্মিত। এসব থেকে বেছে নিতে পারেন আপনার জন্যে পছন্দের এবং উপযুক্ত ভ্রমণ স্থান।

পতেঙ্গা সি বিচ।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, নেভাল একাডেমি ও প্রজাপতি পার্ক: চট্টগ্রাম শহর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। অনেকে একে ‘গরীবের কক্সবাজার’ বলে থাকেন। এদিকে পতেঙ্গা সৈকত থেকে আধা কিমি দক্ষিণে লং ড্রাইভ ও ভাজা কাঁকড়া বিখ্যাত নেভাল একাডেমি। অনেকে একে ‘অভিজাতদের সৈকত’ও বলেন। অন্যদিকে নেভাল একাডেমি ও বিমান বন্দরের মাঝামাঝিতে রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র প্রজাপতি পার্ক। ‘বাটারফ্লাই পার্ক’ নামে যেটি অধিক পরিচিত। এখানে প্রায় ৬০ প্রজাতির প্রজাপতি রয়েছে। এটি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা খোলা থাকে। প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা।

কাট্টলি সমুদ্র সৈকত ও খেজুরতলা বিচ : উত্তর কাট্টলি বাজার থেকে পশ্চিমে কাট্টলি সৈকতে। অন্যদিকে হালিশহর এ. কে খান লিংক রোড থেকে কিলোমিটার খানেক এগোলেই দেখা মিলবে খেজুরতলা বিচের। এখানে ঝাউগাছের সাথে সমুদ্রের পানির অসাধারণ ঐকতান। এদিকে খেজুরতলা হয়ে আবার কাট্টলি সৈকতে যাওয়া যায়।

চট্টগ্রম ফয়েস লেক।

ফয়েস লেক, কনকর্ড সী ওয়ার্ল্ড এবং চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা: পাহাড়তলির ইউএসটিসির সামনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক মানসম্মত দেশের অন্যতম ইকোট্যুরিজম পার্ক ফয়েস লেক। এদিকে ফয়েস লেকের ভেতর থেকে স্পীড বোটে ২০ টাকায় পৌঁছে যেতে পারেন কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক কিংবা সী ওয়ার্ল্ডে বা বাইরে থেকে যেতে পারেন ফয়েস লেকে না ঢুকেই। এখানকার কৃত্রিম লেক, ঝুলন্ত সেতু, হানিমুন রিসোর্ট পর্যটকদের বেশ আকৃষ্ট করে। এখানকার প্রবেশমূল্য ২৭০ টাকা। অন্যদিকে ফয়েস লেকের উপকণ্ঠে রয়েছে চট্টগ্রামের বৃহত্তম ও একমাত্র চিড়িয়াখানা। যেখানে রয়েছে দেশি-বিদেশি হরেক প্রজাতির পশুপাখি ও বন্যপ্রাণি। এটিও প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা।

অভয়মিত্র ঘাট।

অভয়মিত্র ঘাট ও কর্ণফুলী নতুন ব্রিজ : নগরীর ফিরিঙ্গি বাজারে অবস্থিত নান্দনিকতার লীলাক্ষেত্র অভয়মিত্র ঘাট। যার অন্য নাম ‘চট্টগ্রামের হাতিরঝিল’। সম্প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এটি। অন্যদিকে কোতয়ালি মোড় থেকে কয়েক কিলোমিটার পূর্বে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেই শাহ আমানত সেতুর (নতুন ব্রিজ) অবস্থান। সন্ধ্যার দিকে এই ব্রিজের সৌন্দর্য অনেকটা থমসন ব্রিজে দাঁড়িয়ে লন্ডন দেখার মতো বলেই মনে করেন অনেকে।

ওয়্যার সিমেট্রি।

ওয়ার সিমেট্রি: চকবাজার চট্টেশ্বরী মোড় থেকে একটু এগিয়ে আর্ট কলেজের পাশে বাদশা মিয়া সড়কে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত সেনাদের সমাধিফলক ওয়ার সিমেট্রির অবস্থান। ৭৫৫ জন সৈনিকের সমাধি রয়েছে এখানে। কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেইভস কমিশনের তত্ত্বাবধানে চলে এই স্মৃতিসৌধটি। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ১২টা এবং দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এটি সবার জন্যে উন্মুক্ত।

বাটালি হিল।

বাটালি হিল, সি.আর.ভি: লালখান বাজার ও টাইগার পাস সড়কের মাঝামাঝি রাস্তার দুপাশের পাহাড় রাশিই মূলত বাটালি হিল নামে পরিচিত। পাহাড় কেটে এখানে তৈরি করা হয়েছে সিঁড়ি। বাটালি হিলের ২৮০ ফুট উঁচু পাহাড়ে উঠে পুরো চট্টগ্রাম নগরীকে অবলোকন করার দুর্লভ সুযোগ পাবেন এখানে। অন্যদিকে টাইগার পাসের দুই দিকে একটু এগোলেই রেলওয়ের বিশাল এলাকাজুড়ে সি.আর.ভি পার্ক। এটি সবার জন্যে উন্মুক্ত।

ডিসি হিল।

ডিসি হিল ও নজরুল স্কয়ার : যান্ত্রিক শহরের অন্যতম প্রশান্তিস্থল ডিসি হিল। ডিসির বাংলো বাড়ি, উঁচুনিচু পাহাড়, নির্মল বাতাস আর সবুজের সমারোহ মুহূর্তেই ভালো লাগা তৈরি করে দেবে। ডিসি হিল মুদ্রার আরেক পিঠ নজরুল স্কয়ার। নিরিবিলিতে প্রকৃতির কোলে বসে অবসর কাটাতে ডিসি হিলের বিকল্প খুব কমই চোখে পড়ে।

জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর।

জাতিতাত্ত্বিক যাদুঘর ও আগ্রাবাদ শিশুপার্ক: আগ্রাবাদের ব্যাংকপাড়ায় ন্যাশনাল ব্যাংকের বিপরীতে দেশের একমাত্র জাতিতাত্ত্বিক যাদুঘর। যেখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী এবং আদিবাসীদের জীবনপ্রণালী ও নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। এটি সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন খোলা থাকে। প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা। অন্যদিকে আগ্রাবাদের জাম্বুরি মাঠের অবস্থিত কর্ণফুলী শিশুপার্ক। এখানে শিশুদের জন্যে অসংখ্য রাইড রয়েছে। ডিজনিল্যান্ডের আদলে তৈরি এ পার্কটি শিশুদের জন্য খুবই বিখ্যাত। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানকার প্রবেশ মূল্য ৬০ টাকা।

জিয়া স্মৃতি যাদুঘর ও চট্টগ্রাম শিশুপার্ক : কাজির দেউরির এম.এ.আজিজ স্টেডিয়ামের বিপরীতে অবস্থিত জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স। এখানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উপর নানা স্মৃতি ও ডকুমেন্ট রয়েছে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য ১০ টাকা। আর জিয়া যাদুঘরের পাশেই চট্টগ্রাম শিশুপার্কের অবস্থান। শিশুদের জন্য নির্মিত হলেও এটি সববয়সী মানুষের বিনোদন মেটায়। এটিও প্রতিদিন খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য ৪০ টাকা।

মিনি বাংলাদেশ।

স্বাধীনতা কমপ্লেক্স ও মিনি বাংলাদেশ: কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের পাশেই বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের ঠিক বিপরীতে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স বা স্বাধীনতা কমপ্লেক্সের অবস্থান। দেশের সব ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শনকে এখানে ক্ষুদ্রাকৃতিতে প্রতিস্থাপন করায় অনেকে একে ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামেও অভিহিত করেন। এখানে ৭১ মিটার উঁচু একটি ঘূর্ণায়মান টাওয়ার রয়েছে। যার চূড়ায় রয়েছে একটি রেস্টুরেন্ট ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এখান থেকে নগরীর সান্ধ্যকালীন দৃশ্য অসাধারণ। এই টাওয়ারে উত্তোলন মূল্য ৮০ টাকা। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে এটি। মিনি বাংলাদেশে প্রবেশমূল্য ১০০ টাকা।

এছাড়া কর্ণফুলী প্যানরোমা জুম রেস্তোরাঁ, সাগরিকা নিঝুম পার্ক, শুকতারা পার্ক, কাপ্তাই হ্রদ, ভাটিয়ারী সানশাইন পয়েন্ট, ফিশিং লেক, গলফ ক্লাব, চন্দ্রনাথ মন্দির ও সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক, গরম পানির ঝর্ণা, ইত্যাদি স্থানে পরিবার নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন।

অর্থসূচক/দেবব্রত/কে এম

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ