সাধ্যের মধ্যে ঈদের কেনাকাটা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সাধ্যের মধ্যে ঈদের কেনাকাটা

দেইখ্যা লন তিনশ; বাইছ্যা লন তিনশ; একদাম তিনশ; যেটাই লন তিনশ; আগে আসলে আগে পাবেন তিনশ। রাজধানীর ফুটপাত ও অলি-গলিতে এমন কথা নতুন কিছু নয়। সারা বছরই ঢাকার প্রায় সব ব্যস্ত এলাকায় এসব শোনা যায়। গুলিস্তান, ফার্মগেট, মতিঝিল, মিরপুরের ফুটপাতে এভাবে হাক ডেকে পণ্য বিক্রি করেন এক দল মানুষ।

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অভিজাত মার্কেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজধানীর ফুটপাতগুলোতেও জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ফুটপাতের দোকানগুলোতে এখন উপচেপড়া ভিড়। স্বাদ আর সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে রাজধানীর ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।

Gulisthan Hocker (1)

গুলিস্তানের ফুটপাতে বসা হকারদের কাছ থেকে পছন্দ মতো পোশাক কিনতে ভিড়। ছবি: মহুবার রহমান

ক্রেতারা বলছেন, ফুটপাত থেকে সাধ্যের মধ্যে নিম্ন মধ্যবিত্তদের চাহিদা মতো সব পণ্য পাওয়া যায়। তাই ঈদের আনন্দ ও প্রয়োজনীয়তা মেটানো সম্ভব। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য অনেকটাই আশীর্বাদ স্বরূপ এই ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা।

তবে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিক্রি ভালো হলেও চাঁদাবাজি, উচ্ছেদ আর বৈরী আবহাওয়ার কারণে ব্যবসায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। আবার নিয়মিত বিক্রেতাদের পাশাপাশি ফুটপাতে পণ্য নিয়ে বসেছেন মৌসুমী হকাররাও। ফলে চাপ বেড়েছে ফুটপাতে।

কী নেই এই ফুটপাতে; শার্ট, প্যান্ট, জুতা, সালোয়ার, কামিজ, রং-বেরঙের থ্রিপিস, গেঞ্জি, পাজামা-পাঞ্জাবি, কসমেটিকস, টুপি, আতর সবকিছুই রয়েছে ফুটপাতের দোকানে। দামও রয়েছে নাগালের মধ্যেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা দম ফেলার সুযোগ পাচ্ছেন না। কথা বলারও সময় পাচ্ছেন না তারা। কোনো কোনো ফুটপাতে কথার ঝামেলা এড়াতে একদামে বেচাকেনা করতে দেখা গেছে। ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কারণে অনেক জায়গা ভিড় হচ্ছে। এতে কোথাও কোথাও হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জটলা।

Gulisthan Hocker (2)

ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পছন্দ মতো পোশাক কিনতে ভিড়। ছবি: মহুবার রহমান

নামি-দামী শপিং মলে কেনাকাটার ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্য না থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফুটপাতের দোকানে ছুটছেন নগরীর অনেক মানুষ। আদরের ছেলে-মেয়ে বা প্রিয়জনের জন্য ঈদের পোশাকসহ প্রয়োজনীয় পণ্য কিনছেন তারা।

শামসুন্নাহার নামের একজন ক্রেতা বলেন, বাসাবো থেকে মেয়েকে নিয়ে কেনাকাটা করতে গুলিস্তানে এসেছি। বেশিরভাগ সময় এখানের মার্কেটগুলো থেকে কেনাকাটা করি। ফুটপাতেও ভালো কিছু পাওয়া যায়। ফলে মার্কেট থেকে কেনার পাশাপাশি ফুটপাত থেকেও কিনি। বিলাসবহুল মার্কেট থেকে কেনার ইচ্ছে থাকলেও দাম বেশি হওয়ায় কিনতে পারি না। তাই ফুটপাতে ঘুরে-ফিরে বাজেটের মধ্যে প্রিয় পোশাকটি কেনার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, আজ ফুটপাতে এসেও হতাশ হয়েছি। পনেরো দিন আগে যে সব পোশাক দেড় থেকে দুইশ টাকায় পাওয়া যেত সেগুলোর দাম এখন আড়াই থেকে তিনশ টাকা বলছে।

বায়তুল মোকাররমের পাশের ফুটপাতের দোকানের ক্রেতা সোলায়মান বলেন, ছেলে-মেয়েদের জন্য কাপড় কিনতে এসেছি। এখানে কম দামে অপেক্ষাকৃত ভালো কাপড় পাওয়া যাচ্ছে।

ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা অর্থসূচককে জানান, ঈদ আসছে, তাই ক্রমান্বয়ে বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে। মার্কেট ভেদে ছেলেদের শার্ট ১৫০-৫০০ টাকায়, জিন্স প্যান্ট ৩৫০-৭৫০ টাকায়, টি-শার্ট ২৫০-৪০০ টাকা, মেয়েদের থ্রিপিস ৪৫০-১২০০ টাকা, শাড়ি ৪৫০-২০০০ টাকা, বাচ্চাদের থ্রি-কোয়ার্টার জিন্স প্যান্ট ৩০০ টাকা, গেঞ্জির সেট ২০০-৫০০ টাকা, ফ্রক ও টপস ২৫০-৫০০ টাকা, ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য হাতাকাটা গেঞ্জি ২০০-৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

Gulisthan Hocker (3)

ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পছন্দ মতো পোশাক কিনতে ভিড়। ছবি: মহুবার রহমান

মতিঝিল এলাকার শার্ট বিক্রেতা হাসান মোল্লা জানান, বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় এখানে সারাক্ষণই ভিড় লেগে থাকে; বিক্রিও ভালো। বিভিন্ন অফিসের বড় বড় কর্মকর্তারা এখানে আসেন; পছন্দ হলে কিনে নেন। এখন গার্মেন্টসসহ প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা বেতন-বোনাস পেয়েছে; ফলে ভিড় এবং বিক্রি বেড়েছে।

শিশু ও মেয়েদের কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন গুলিস্তান ফুটপাতে বসেছেন হকার মুরাদ। তিনি বলেন, মার্কেটের দোকানের ভাড়া গুনতে হয় অনেক বেশি। ফুটপাতে তেমনটি নয়। বিভিন্ন গার্মেন্টস থেকে লটে মাল কিনে এখানে বিক্রি করি; তাই দামও খুব বেশি রাখতে হয় না।

গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের ফুটপাতে দেড়শ টাকা হারে জুতা বিক্রি করছেন খায়রুল। নিজেকে মৌসুমী হকার পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে জুতা নিয়ে বসেছি। নিম্ন আয়ের মানুষরাই বেশি কিনছেন।

ফুটপাতের অনেক ব্যবসায়ী ভালো বিক্রির কথা বললেও কয়েকজন শোনালেন ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগ, বিক্রি হলেও পুলিশ ও চাঁদাবাজদের কারণে লাভ করা যাচ্ছে না। সেইসঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান তো আছেই। বৃষ্টি এলেও দোকানপাট গুটিয়ে বসে থাকতে হয়।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ