ভিড় থাকলেও বিক্রি কম
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ভিড় থাকলেও বিক্রি কম

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীতে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। রাজধানীর সব মার্কেটে এখন ক্রেতার ভিড়। অতিরিক্ত কথা বলার সময় নেই বিক্রেতাদের। তবে পছন্দ মতো পোশাক পাচ্ছে না বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। ঈদ পোশাক ডিজাইনেও নতুনত্ব নেই বলে জানিয়েছেন তারা। তাই আশানুরূপ বিক্রি না হওয়ায় মনও ভালো নেই বিক্রেতাদের।

রাজধানীর মার্কেটগুলোর দিকে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে, ২ দিন পরই ঈদ। ঈদের খুশি ভাগাভাগি করতে সাধ্যমতো কেনাকাটায় ব্যস্ত রাজধানীবাসী।

Bashundhara City (3)

বসুন্ধরা সিটির প্রায় প্রতিটি দোকানের সামনেই দেখা যাচ্ছে ভিড়।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে। প্রতিটি দোকানে এখন শেষ মুহূর্তে বিক্রিতে ব্যস্ত বিক্রয়কর্মীরা। জেন্টস ও লেডিস পোশাক ও জুতার দোকান- কোনোটিতেই এখন পা ফেলার জায়গা নেই। চশমা, ঘড়ি, স্বর্ণের দোকানগুলোতেও ভিড় রয়েছে।

মার্কেটের তৃতীয় তলার ফ্যাশান হাউজ রিচ ম্যানের ক্যাশ ইনচার্জ বদরুজ্জামান জানান, ক্রেতার উপস্থিতি ভালো। পছন্দের মাত্রাও বিভিন্ন ধরনের। কিন্তু এবারের ঈদে নতুন প্রোডাকশন কম। তাই ক্রেতা সমাগম হলেও তাদের চাহিদা মতো পোশাক দেওয়া কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাশান ডিজাইন কোম্পানি থেকে নতুন ডিজাইনের পোশাক প্রোডাকশন হচ্ছে না। ডিজাইনে নতুনত্ব না থাকায় ক্রেতাদের চাহিদাও মেটাতে পারছি না।

বসুন্ধরা সিটির বেশ কয়েকটি দোকানের বিক্রয়কর্মীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর ঈদের বিক্রি কম। দ্রব্য মূল্যের দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতিসহ মানুষের আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে যাওযায় বিক্রি কমেছে বলে মন্তব্য করেছেন তাদের কেউ কেউ।

ফ্যাশান বাজারের ব্র্যান্ড কোম্পানি মানিইয়াভার বাংলাদেশের সহকারী ম্যানেজার মেহেদি হাসান শাকিল বলেন, বর্তমান জীবন-জীবিকা অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সাচ্ছন্দবোধ করছে না। সে জন্যই মার্কেটে ক্রেতাদের সমাগম গতবারের তুলনায় কম।

Bashundhara City (2)

বসুন্ধরা সিটির প্রায় প্রতিটি দোকানের সামনেই দেখা যাচ্ছে ভিড়।

একই ধরনের কথা বললেন কালার্স ফ্যাশান হাউজের সহকারী ম্যানেজার জুয়েল রানা। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় চাহিদা অনেক কম। প্রতি বছর ১৫-১৭ রোজা পার হওয়ার পর থেকেই মূলত কেনাকাটার চাপ বাড়তে থাকে। এ সময় বসুন্ধরা সিটিতে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। কিন্তু এবার তা হয়নি।

কিছুটা আশার কথা জানালেন জুতা বিক্রেতারা। তাদের মতে, জুতার চাহিদা অনেক বেড়েছে। লোটো জুতা কোম্পানির বসুন্ধরা শাখার ম্যানেজার মো. ইয়াসিন আহমেদ অর্থসূচককে বলেন, ঈদের কেনাকাটার জন্য ক্রেতাদের ভিড় অনেক বেশি। রমজানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ভালো বিক্রি হয়েছে।

তিনি বলেন, ঈদে মূলত জুতার কেনাকাটা একটু দেরিতেই শুরু হয়। সবাই শার্ট, পাঞ্জাবীসহ সব কেনাকাটা শেষে জুতার কেনাকাটা করে। সেই হিসেবে জুতার কেনাকাটা ভালোই হচ্ছে।

পোশাকের ভিন্নতা নিয়ে অভিযোগ করছেন অধিকাংশ ক্রেতা। মো. জয়নাল আবেদিন নামে একজন বলেন, পোশাকে তেমন নতুনত্ব নেই। সেই তুলনায় ঈদ উপলক্ষে দামও একটু বেশি।

অনেকেই অভিযোগ করছেন ঈদ উপলক্ষে সব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মো. আলাউদ্দিন আহমেদ নামে একজন ক্রেতা বলেন, সব সময় এই মার্কেট থেকেই কেনাকাটা করি। তবে এবার ঈদ উপলক্ষে সব ধরনের পোশাক ও জুতার দাম একটু বেশি। অন্যান্য মার্কেটের তুলনায় বসুন্ধরা সিটিতে প্রায় সব কিছুর দামে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ