চট্টগ্রাম কাস্টমসের ৩৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

চট্টগ্রাম কাস্টমসের ৩৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়

২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-মে মেয়াদে চট্টগ্রাম কাস্টমসকে ৩৫ হাজার ৫৫৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর বিপরীতে ৩৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৮৮৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বা ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ কম।

কাস্টমসে প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকের কম লোকবল নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি প্রায় অর্ধশতাধিক পণ্যের আমদানি কমে যাওয়াসহ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম প্রতিরোধে ব্যর্থতা ও বকেয়া রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।

চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমসকে ৩৯ হাজার ৬২২ কোটি ৭ লাখ টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে এনবিআর। এই সাড়ে ১১ মাসে চট্টগ্রাম কাস্টমস গত অর্থবছর থেকে ৩ হাজার ৮১৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বেশি আদায় করেছে। তবে বাকি ১৫ দিনে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করা যাবে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস সংশ্লিষ্টরা।

Chittagong port

চট্টগ্রাম বন্দর। ফাইল ছবি

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৯ হাজার ৬২২ কোটি ৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে মে পর্যন্ত মোট ১১ মাসে রাজস্ব আদায় করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। চলতি মাসের ১৪ জুন পর্যন্ত ১৪ দিনে আদায় হয়েছে ১ হাজার ৪৪৯ কোটি ২ লাখ টাকা। সেই হিসেবে সাড়ে ১১ মাসে আদায় হয়েছে ৩৫ হাজার ১১৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকার রাজস্ব। বাকি ১৬ দিনে চট্টগ্রাম কাস্টমসকে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে আদায় করতে হবে আরো ৪ হাজার ৫০৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরে জুলাইতে ২ হাজার ৩৪০ কোটি ৮৬ লাখ টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছিল ২ হাজার ৩২৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এছাড়া আগস্টে ৩ হাজার ৯০ লাখ টাকা, সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ৪৭৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, অক্টোবরে ২ হাজার ৮২৫ কোটি ২০ লাখ টাকা, নভেম্বরে ৩ হাজার ২৫৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, ডিসেম্বরে ৩ হাজার ২২৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, জানুয়ারিতে ৩ হাজার ৪৭৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৩ হাজার ২৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা, মার্চে ৩ হাজার ২০৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা, এপ্রিলে ৩ হাজার ৩১৯ কোটি ১৫ ও মে মাসে মাসে ৩ হাজার ৫২৮ কোটি ২০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। সর্বশেষ চলতি মাসের জুন মাসের ৪ হাজার ৬৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ১৪ তারিখ পর্যন্ত কাস্টমস আদায় করেছে ১ হাজার ৪৪৯ কোটি ২ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম বন্দরে মাল খালাসের অপেক্ষায় জাহাজ। ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম কাস্টমসের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিলো ২৭ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৩ হাজার ১২১ কোটি ১১ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ৩১ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় করেছিল চট্টগ্রাম কাস্টমস। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১ হাজার ৮২১ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ কম।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার এএফএম আবদুল্লাহ খান বলেন, গত কয়েক অর্থবছর থেকে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের পরিমান প্রায় ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। রাজস্ব বোর্ড অর্থবছরের শুরুতে  লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে থাকে। আমরা দেশের রাজস্ব আদায়ে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা থাকে সেটা পূরণ করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। তাছাড়া বিভিন্ন পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায় কমে গেছে। আশা করি অচিরেই আমরা রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সমর্থ হবো।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চট্টগ্রাম কাস্টমসের শুল্ক, ভ্যাট এবং সম্পূরক শুল্ক এই ৩ খাতে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে থাকে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত ১১ মাসে শুল্ক খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার ৪০১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা সেখানে চট্টগ্রাম কাস্টমস আদায় করতে পেরেছে ১২ হাজার ৮৬০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১ হাজার ৫৪১ কোটি ১৪ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ কম।

ভ্যাট থেকে ১১ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ হাজার ৪৩৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৬ হাজার ৫৩৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। অর্থাৎ এ খাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বা দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।

Chittagong_port

চট্টগ্রাম বন্দর। ফাইল ছবি

সম্পূরক শুল্ক খাতে গত ১১ মাসে ৪ হাজার ৭১৬ কোটি ৯৯ টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪ হাজার ২৭২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আদায় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। অর্থাৎ এ খাতে রাজস্ব আদায় হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৪৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বা ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ কম আদায় হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির কারণ সম্পর্কে কাস্টমস সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় অর্ধশতাধিক পণ্যের আমদানি কমে যাওয়াসহ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম প্রতিরোধে ব্যর্থতা ও বকেয়া রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি। সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিন, পিস্টন ইঞ্জিন (৫০সিসি-২৫০সিসি) মোটর সাইকেল, পিস্টন ইঞ্জিন মোটর কার, লৌহার তৈরি পাইপ ও টিউব, সিমি প্রোডাক্ট আয়রন, ট্রান্সমিশন যন্ত্র, গ্যাস লাইনে ব্যবহৃত পাইপ ইত্যাদি পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ঘাটতি হয়েছে।

তাছাড়া চট্টগ্রাম কাস্টমসে প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকের কম লোকবল নিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা কাজ করছেন। অনেককেই একের অধিক বিভাগের কাজ করতে হয়।

এজন্য এআইআর শাখায় কাজের গতি বাড়ানো, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং লোকবল সংকট দূর করতে পারলে কাস্টমস থেকে লক্ষ্যমাত্রা আদায় সম্ভব বলেও জানান তারা।

অর্থসূচক/দেবব্রত/কে এম

এই বিভাগের আরো সংবাদ