ঈদে শিশুদের নিয়ে ভ্রমণ, বাড়বে পারিবারিক বন্ধন
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ঈদে শিশুদের নিয়ে ভ্রমণ, বাড়বে পারিবারিক বন্ধন

ঈদের ছুটির সময়টাতে অনেকে শিকড়ের টানে নিজের বাবা-মার সাথে ঈদ করতে চলে যান। আবার ঈদ করে হয়তো দু-একদিনের মধ্যেই কর্মস্থলের দিকে রওনা হতে হয়। তবে ছুটির সময়টা পুরোপুরি কাজে লাগাতে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে পরিবারের সবাই মিলে কাছে বা দূরে কোথাও ভ্রমণে যাওয়া যায়। অনেকেরই বিভিন্ন কারণে ঢাকায় ঈদ করতে হয়। তারাও কাছে পিঠে কোথাও ঘুরে আসতে পারেন। আর যদি সময়, যোগাযোগ ও খরচ নিয়ে সমস্যা না থাকে তাহলে একটু দূরে কোথাও থেকে ঘুরে আসতে পারেন। এই ব্যস্ত সময়ে পরিবারের ছোটদের জন্য ভ্রমণ অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

ব্যস্ত সময়ে সবাই বেশ ব্যস্ত জীবন যাপনের কারণে পরিবারের সবাইকে সমানভাবে সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে বাচ্চারাও সেরকম সময় বাবা-মায়েদের কাছ থেকে পায় না। ফলে পরিবারের সাথে এক ধরনে্র দূরত্ব তৈরি হতে হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াটাও অসম্ভব কিছু নয়। সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন ঘটনা, সামাজিক বন্ধনের অধঃপতনের সংবাদ আমরা কমবেশি সবাই গনমাধ্যমের কল্যাণে জানছি, কিছু কিছু হয়তো আমাদের জীবননেও ঘটে যাচ্ছে। এর সমাধান হিসেবে মনোবিজ্ঞানীরা বাচ্চাদেরকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া, ওদের সঙ্গে ছুটি কাটানো, ওদের মানসিকতা বোঝা, ওদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ভ্রমণ আদর্শ বলে জানাচ্ছেন। বেড়াতে নিয়ে যাওয়া বাচ্চাদের জন্য বেশ একটা থেরাপির মতো কাজ করে থাকে বলেও তারা জানান।

প্রকৃতি থেকেই অনেক কিছু শিখবার ও জানবার আছে। শিশুরা যত তাড়াতাড়ি প্রকৃতিকে চিনতে শিখবে, ততই ওদের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য ভাল। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা ওদের অনুভূতিতে আরও সক্রিয় করে তুলবে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যে শিশুদের সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির সংযোগ স্থাপিত হয়, তাদের মধ্যে বড় হয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বেছে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন সমুদ্র সৈকত থেকে। ছবি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় বেশির ভাগ বাচ্চারাই এখন ট্যাব, ভিডিও গেমের মধ্যে প্রতি দিনের আনন্দ খুঁজে নেয়। বাইরে খেলার অভ্যাস কমে যাওয়ায় সূর্যের আলো, খোলা হাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় তারা। ফলে ত্বকে ভিটামিন ডি উৎপন্ন হয় না। এক্ষেত্রে সমুদ্রের কাছাকাছি কোথাও ছুটি কাটাতে যাওয়া বেশ উত্তম। এতে আলো হাওয়া শরীরে লাগানোর সুযোগ পায় বাচ্চারা। যা তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য জরুরি। তাছাড়া সময় আবহাওয়া ভালো থাকলে সবুজ পাহাড়, পাহাড়বেষ্টিত এলাকা থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।

সমুদ্র আমাদের ইন্দ্রিয়দের সক্রিয় করে তোলে। ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অনুভব করে বাচ্চারা অনেক কিছু শিখতে পারে। বালি, জল, হাওয়া, ঝিনুক সবকিছুর আলাদা স্পর্শ, আলাদা শব্দ, আলাদা গন্ধ ওদের স্নায়ুকে উন্নত করে।

শুধুই আনন্দ লাভ নয়, দেখেও অনেক জ্ঞান লাভ করে শিশুরা। সমুদ্র শুধু উপভোগ করাই নয়, জলজ জীবন সম্পর্কেও এতে ওদের ধারণা তৈরি হবে। জলজ প্রাণীদের চিনতে শিখবে। আমাদের নিজস্ব জগতের বাইরেও একটা জগত রয়েছে, আমরা একে বলি বাস্তুতন্ত্র বা অপরের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকলে ওদের কাছে তা জানার নতুন জানালা খুলে দেয়।

Hill Track

কিংবা ঘুরে আসতে পারেন পাহাড় থেকেও। ছবি পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে তোলা।

তাছাড়া ভ্রমণের মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ে, ভাই-বোনদের মাঝে ভ্রাতৃত্বও বৃদ্ধি পায়। একসাথে সময় কাটানোর ফলে প্রত্যেকের মধ্যে সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হয়।

ছুটির মধ্য দিয়েই আমরা ধারাবাহিক দৈনন্দিন রুটিন থেকে বের হয়ে আলাদা জীবনের পথে আসতে পারি। তাই একঘেঁয়েমি দূর করতে ভ্রমণ ছোট শিশুদের পাশাপাশি বড়দের জীবনেও বৈচিত্রতা নিয়ে আসে।

ব্যস্ত জীবনে কর্মজীবী ব্যস্ত পিতা-মাতার সাথে সন্তানদেরো ব্যস্ত জীবন-যাপনের কারণে পারিবারিক যোগাযোগ তেমন একটা হয় না। এর ফলে শিশুরা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে একসাথে ছুটি কাটানোর অভিজ্ঞতা পরিবারের বন্ধন মজবুত করতে সাহায্য করে।

তথ্যঃ সংগৃহীত।

অর্থসূচক/সাদিয়া খান/কে এম

এই বিভাগের আরো সংবাদ