আজ রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আজ রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী

‘বৈশাখি মেঘ ঢেকেছে আকাশ,/ পালকের পাখি নীড়ে ফিরে যায়/ ভাষাহীন এই নির্বাক চোখ আর কতোদিন?/ নীল অভিমান পুড়ে একা আর কতোটা জীবন? কতোটা জীবন!!’

একাকীত্বের হাহাকার বুকে নিয়ে কলম ধরা কবিদের মধ্যে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ তরুণদের ‘প্রতিবাদী রোমান্টিক’ কবি হিসেবেই এখনও সাদরে সমাদৃত। এই কবি ও গীতিকারের জন্ম হয়েছিল ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর, বাগেরহাট জেলার মোংলার মিঠেখালিতে। আশির দশকের দিকে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠে যে ক’জন কবি বাংলাদেশী শ্রোতাদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি তাদের মধ্যে রুদ্র অন্যতম। তার জনপ্রিয় কবিতার মধ্যে অন্যতম ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’। এই কবির স্মরণে তার জন্মভূমিতে গড়ে উঠেছে ‘রুদ্র স্মৃতি সংসদ’।

কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। ফাইল ছবি

ঢাকা ওয়েস্ট এ্যান্ড হাইস্কুল থেকে ১৯৭৪ সালে এস এস সি এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৭৬ সালে এইচ এস সি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৮০ সালে সম্মানসহ বি এ এবং ১৯৮৩ সালে এম এ ডিগ্রি লাভ।

তার মানুষের মানচিত্র (১৯৮৪)। রুদ্র’র অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ছোবল (১৯৮৬), গল্প (১৯৮৭), দিয়েছিলে সকল আকাশ (১৯৮৮), মৌলিক মুখোশ (১৯৯০) ও একগ্লাস অন্ধকার (১৯৯২) উল্লেখযোগ্য। তিনি প্রধানত কবি হলেও কাব্যচর্চার পাশাপাশি সঙ্গীত, নাটক, ছোটগল্প এবং প্রবন্ধ রচনাতেও সমান উৎসাহী ছিলেন। তার লেখা ‘ভালো আছি ভালো থেকো/আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানটি আজও সব প্রজন্মের কাছে সমান জনপ্রিয়। তার সাহিত্য-সাধনা ছিল দেশ, মানুষ ও মনুষ্যত্বের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ।

১৯৮১ সালের ২৯ জানুয়ারি বহুল আলোচিত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে বিয়ে করেন। ১৯৮৮ সালে তাদের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে। ১৯৯১ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

কবি ও গীতিকার রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ।

আজ ২১ জুন, হাহাকার-একাকীত্ব-প্রতিবাদী-রোমান্টিক কবির মৃত্যুদিবস। জীবনানন্দ লিখেছিলেন ‘সবাই কবি নয়/কেউ কেউ কবি’; আর কেউ কেউদের ভিড়েই রুদ্ররা হয়ে যান তারুণ্যের প্রতিনিধি, প্রেম ও দ্রোহের প্রতিবাদ নিয়ে লেখেন-

‘হাত বাড়ালেই মুঠো ভরে যায় প্রেমে
অথচ আমার ব্যাপক বিরহভূমি
ছুটে যেতে চাই– পথ যায় পায়ে থেমে
ঢেকে দাও চোখ আঙুলের নখে তুমি।’

অর্থসূচক/টি এম/কে এম

এই বিভাগের আরো সংবাদ