'ব্যাংক খাতে সংস্কার জরুরি'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘ব্যাংক খাতে সংস্কার জরুরি’

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও সুশাসনের অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাতে সংস্কার জরুরি বলেও মত দিয়েছেন তারা। আজ মঙ্গলবার দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) আয়োজিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর আলোচনা সভায় এ মতামত উপস্থাপন করা হয়।

আজ মঙ্গলবার দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) আয়োজিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর আলোচনা সভায় এ মতামত উপস্থাপন অনুষ্ঠানে সিপিডির সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান। ছবি মহুবার রহমান

সভায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ব্যাংকে আবগারি শুল্কতে বৈষম্য হয়েছে। ১ লাখ টাকার জন্য কেটে নেওয়া হবে ৮০০ টাকা বা দশমিক ৮ শতাংশ। আর ৫ কোটির জন্য কেটে নেওয়া হবে ১৫ হাজার টাকা বা দশমিক ০৫ শতাংশ। এখানে দশমিক ৮ শতাংশ করে কাটলে ৫ কোটিতে ৪ লাখ টাকা আসতো। শুধু ছোট অংকের গ্রাহকদের বেশি দিতে হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে সংস্কার খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে সেটা না করে এই খাত থেকে যারা চুরি করছে; তাদের জন্য পূনঃঅর্থায়ন করা হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এবারের বাজেট বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ হবে। বাজেটের আকার বাড়তে পারে তবে বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়েনি। ১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট ধরা হয়েছে। তবে এখানে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেখানো হয়নি বরং ১০ টাকার পরিকল্পনা ৫০ টাকা করা হয়েছে। সেখানে বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ছে না। আবার একটা প্রকল্পে বাজেট ব্যয় ৩ থেকে ৪ বার রিভিউ করা হচ্ছে। সেখানে সুশাসনের চরম দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ড. খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক নিয়ে ১৬ কোটি মানুষের চিৎকার অর্থমন্ত্রী শুনতে পান না। প্রধানমন্ত্রী না বলা পর্যন্ত এই আওয়াজ তার কানে পৌঁছায়নি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের যে পাহাড় তৈরি হয়েছে; তা পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। বেসরকারি ব্যাংকে ৫ শতাংশ হলেও সরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশের উপরে। এমন করে কোনো দেশের ব্যাংক খাত টিকে থাকতে পারে না।

এর অর্থ কি সরকার নিজেই লুটপাট করতে চায় প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, যদি তাই হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে। সাধারণের পকেট কেটে আবার ব্যাংকের পকেট ভরে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন অবস্থায় যদি ব্যাংক খাতে সংস্কার না করা হয়, তবে অনেক ব্যাংকের দেউলিয়াত্ব ঠেকানো যাবে না।

আইসিএমএবির সাবেক সভাপতি ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান বলেন, এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন নিয়ে কিছুই নেই। যে দেশের অর্থনীতি যত বড়; সেই দেশের পুঁজিবাজার তত শক্তিশালী। তবে এখানে ভিন্ন চিত্র।

তিনি বলেন, করপোরেট ট্যাক্স অনেক বেশি। যা কমানোর কোনো উদ্যোগ নেই। যদি ট্যাক্সের বেইজ বাড়াতে হয়; তাহলে করপোরেট ট্যাক্স কমাতে হবে।

এছাড়া আর্থিক খাতের সংস্কার হচ্ছে না বলেই এই খাতের সমস্যা থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি রুপালি চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাশিত নয়। এখানে কোনো ট্যাক্স সুবিধা দেওয়া হয়নি। বিদেশি বিনিয়োগে সুবিধা না দিয়ে বৈষম্য করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একই জাতীয় শিল্পে স্থানীয় পণ্যে শুল্ক সুবিধা দিয়ে বিদেশি পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে বলে মনে করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মো. আব্দুর রহমান খান অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আইসিএমএবি সভাপতি জামাল আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

অর্থসূচক/ মাহমুদ/এস

এই বিভাগের আরো সংবাদ