আমিরে বিধ্বস্ত ভারত, ৬ উইকেটে ৭২ রান
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আমিরে বিধ্বস্ত ভারত, ৬ উইকেটে ৭২ রান

শুরুতেই ভারতের শিবিরে আঘাত হেনেছে পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির। প্রথম বলেই রোহিত শর্মাকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়েছেন। অবশ্য প্রথম ধাক্কা কাটানোর চেষ্টা করতে মাঠে নেমেছিলেন বিরাট কোহলি। কিন্তু তিনি শেষ রক্ষা করতে পারলেন না। নিজের পরবর্তী ওভারে সেই আমিরই বিরাটকে বিদায় করেছেন। তার বলে ফের প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন শেখর ধাওয়ানও। একে একে ৩টি উইকেট হাতিয়ে নিয়েছেন পাকিস্তানি এ পেসার।

এরপরই একটু স্বস্তি আনতে চেয়েছিলেন যুবরাজ ও ধোনি। কিন্তু তাও হয়নি। কোনোভাবে যেন কোহলিদের মেরুদন্ড সোজা করতে দেয়নি সরফরাজরা। যুবরাজের পর ধোনিও ফিরেছেন।

এ পরিস্থিতিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ভারত-পাকিস্তানের ফাইনাল ম্যাচে এখন টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। শেষ খবর পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে ৭২ রান সংগ্রহ করেছে ভারত।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বড় ধরনের টার্গেট বেঁধে দেয় পাকিস্তান। মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়াল ৩৩৮ রান। ১০৬ বল খেলে ১১৪ রান করেন ফাখর জামান। ৫৯ রান করে রান আউট হয়ে যান আজহার আলি। ৩৭ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ হাফিজ। ২১ বলে ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন ইমাদ ওয়াসিম। ৫২ বলে ৪৬ রান করেন বাবর আজম।

দারুণ সূচনা করেছিলেন দুই পাকিস্তানি ওপেনার আজহার আলি এবং ফখর জামান। যদিও ৩ রানে থাকতে ফখর জামান নো বলের সৌজন্যে জীবন পেয়েছিলেন। এছাড়া পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের বিপদে ফেলার মত বলই করতে পারেনি ভারতীয় বোলাররা।শুরু থেকে যেভাবে পাকিস্তান ব্যাট করছিল তাতে টস হেরে ফিল্ডিং নেয়াটা কী ভুল হলো বিরাট কোহলির জন্য! ভারতীয়রা হয়তো এখন এ হিসাব-নিকাশই শুরু করে দিয়েছিল। কারণ খেলা প্রায় ২০-২২ ওভার পার হওয়ার পরও পাকিস্তানের একটি উইকেটও ফেলতে পারেনি ভারতীয় বোলাররা। ওপেনিং জুটিতে চিড় ধরাতে পারেনি।

টান টান উত্তেজনাপূর্ণ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির হাই ভোল্টে ফাইনালে আজহার আলি এবং ফখর জামানের ব্যাটে ২০ ওভার শেষে পাকিস্তানের রান ওঠে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১১৪। দুই ওপেনারই পৌঁছে যান হাফ সেঞ্চুরির মাইলফলকে। এরপরই ২৩তম ওভারে এসে ভাঙে পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি।

দলীয় ১২৮ রানে এক ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন পাকিস্তানের ওপেনার আজহার আলি। দারুণ এক জুটি গড়ে যখন দুই ওপেনার পাকিস্তানকে বড় একটি স্কোরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, যখন ভারতীয় বোলাররা দুই ওপেনারের জুটিতে ভাঙন ধরানোর মতো বলই করতে পারছিলেন না, তখন যেন ইচ্ছা করেই উইকেটটা ছুড়ে দিয়ে আসলেন আজহার।

রবিচন্দ্র অশ্বিনের করা দলীয় ২৩তম ওভারের শেষ বলে, স্কয়ার লেগে ঠেলে দিয়েই একটি রানের জন্য দৌড় দেন আজহার। বল ফিল্ডার জসপ্রিত বুমরাহর হাতে। এ কারণে ফখর জামান কোনো সাড়া দিলেন না। আজহার আলি ততক্ষণে পৌঁছে গেলেন নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে। বুমরাহ বল ধরেই ফেরত পাঠালেন ধোনির হাতে। মুহূর্তেই ভেঙে গেলো উইকেট। ৭১ বলে ৫৯ রান করে আউট হয়ে গেলেন আজহার আলি। ভাঙলো পাকিস্তানের দৃঢ়তাপূর্ণ ওপেনিং জুটি।

এর পরই যেন জ্বলে ওঠেন ফখর জামান। ফাইনালের মত বড় মঞ্চ, তার ওপর ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল। টান টান উত্তেজনা আর স্নায়ুর চাপে যেখানে অনেক বড় বড় খেলোয়াড়েরই ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে মাত্রই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাম লেখানো এক বাম হাতি ওপেনিং ব্যাটসম্যান, ফাখর জামান কিনা দেখালেন দারুণ সাহসের। বুকের ছাতি কতটা চওড়া হলে ভারত-পাকিস্তান ফাইনালে সেঞ্চুরি করা যায়! নতুন ক্রিকেটার ফাখর জামান সেটাই দেখিয়ে দিলেন।

শুরুতে একটা জীবন পেয়েছিলে। মাত্র তিন রানে নো বলের সৌজন্যে বেঁচে গিয়েছিলেন। এরপর ভারতীয় বোলারদের সামনে নিজের ব্যাটকে পরিণত করেছিলেন রীতিমত তলোয়ারে। ভুবনেশ্বর কুমার, হার্দিক পান্ডিয়া, জসপ্রিত বুমরাহ কিংবা রবিচন্দ্র অশ্বিনদের একের পর এক মাঠের বাইরে আছড়ে ফেললেন। তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।

৬০ বলে পূরণ করেছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। অবশেষে ইনিংসটাকে পৌঁছান তিন অংকের ম্যাজিক ফিগারে। মাত্র ৯২ বলে পৌঁছান সেঞ্চুরির মাইলফলকে। প্রথম পঞ্চাশ করতে যেখানে লাগিয়েছিলেন ৬০ বল, দ্বিতীয় পঞ্চাশ পূরণ করতে সেখানে লাগালেন মাত্র ৩২ বল। সেঞ্চুরির পর ফাখর জামানের ব্যাট আরও চওড়া হয়ে উঠছিল। ১০৫ বলে খেলেন ১১৪ রানের ইনিংস। ১০৬ বলে গিয়ে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বলটা তুলে দেন আকাশে। পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা রবীন্দ্র জাদেজা সেই বলটিকে তালুবন্দী করে নিলে সমাপ্তি ঘটে মারমার-কাটকাট ব্যাটিংয়ে ফাখর জামানের ১১৪ রানের। দলীয় ২০০ রানে পতন ঘটে পাকিস্তানের দ্বিতীয় উইকেটের।

এরপর আউট হন বাবর আজম ৪৬ রানে এবং শোয়েব মালিক ১২ রানে। এছাড়া পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ভারতীয় বোলাররা আর কোনো প্রভাবই বিস্তার করতে পারেনি। ভুবনেশ্বর কুমার, হার্দিক পান্ডিয়া এবং কেদার যাদব নেন ১টি করে উইকেট।

এস

এই বিভাগের আরো সংবাদ