বন্যার প্রভাব সদরঘাটের শরীফ মার্কেটে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বন্যার প্রভাব সদরঘাটের শরীফ মার্কেটে

আমাদের সংস্কৃতিতে উৎসব মানেই কিছুটা নতুনত্ব। বাঙালি পুরুষের যেকোনো উৎসবের বৈশিষ্ট্য নতুন পাঞ্চাবি; সঙ্গে সাদা বা রঙিন পায়জামা। আর বাঙালির ধর্মীয় উৎসবে পায়জামা-পাঞ্জাবি ঐহিত্যের অংশ। তাই ঈদ-পূজা-পার্বনে এই পোষাকের চাহিদা বাড়ে।

দেশের পাঞ্চাবি-পায়জামার বাজার বলতেই এক নামে পরিচিত সদরঘাটের শরীফ মার্কেট। প্রতি বছর ঈদ-পূজা-পার্বনে এই মার্কেটের দোকানগুলোতে পা ফেলার জায়গা থাকে না। সাধারণত রমজান শুরুর আগে ওই মার্কেটের ব্যবসা শুরু হয়; চলে পুরো মাস। কিন্তু এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। মার্কেটে নেই ক্রেতার ভিড়। বিক্রি একেবারেই কম। এর জন্য বন্যাকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

Sharif Market (1)

সদরঘাটের শরীফ মার্কেটে ক্রেতাকে পাঞ্চাবি দেখাচ্ছেন এক বিক্রেতা। ছবি: মহুবার রহমান

দোকান মালিকরা বলছেন, দেশের যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় চট্টগ্রামে বেশি পাঞ্চাবি বিক্রি হয়। এবার সেখানে বন্যায় অনেক দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্লাবিত এলাকায় ব্যবসা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে।

তারা আরও বলেন, ঢাকায় অনেক মার্কেট হয়েছে। ছোট দোকানিরা তুলনামূলক কাছের মার্কেট থেকে পণ্য কিনছেন। যানজট পেরিয়ে সদরঘাটে আসতে হয় না। আবার দেশি পাঞ্জাবির চাহিদাও কমছে।

শরীফ মার্কেটের দোয়েল গার্মেন্টসের স্বত্ত্বাধীকারী হামিদুর রহমান রতন বলেন, এবার রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই; তবে ব্যবসায়িক অনশ্চিয়তা দূর হচ্ছে না। ফলে আগের তুলনায় কম পণ্য মজুদ করছেন ব্যবসায়ীরা। গত বছর বাকিতে বিক্রির বিলও পাওয়া যায়নি।

Sharif Market (2)

সদরঘাটের শরীফ মার্কেটে ক্রেতাকে পাঞ্চাবি দেখাচ্ছেন এক বিক্রেতা। ছবি: মহুবার রহমান

তিনি আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় বিক্রি অনেক কম। গত বছর প্রতিদিন ২-৩ লাখ টাকার পাঞ্জাবি বিক্রি হয়েছিল। এবার তা ৫০ থেকে ৬০ হাজারে নেমে এসেছে। দেশি পাঞ্জাবির চাহিদা কমেছে। ভারতীয় পাঞ্জাবির চাহিদা বেড়েছে।

হামিদুর রহমান রতন বলেন, গত বছর ৭ লাখ টাকার পাঞ্জাবি রপ্তানি করেছিলাম। এবার আমার রপ্তানি আয় ২ লাখে নেমে এসেছে।

শিকদার গার্মেন্টসের বিক্রেতা সায়দুল ইসলাম জানান, এবার প্রত্যাশিত বিক্রি হয়নি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং মার্কেট বেশি হওয়ায় ক্রেতা কমেছে। এছাড়া রপ্তানিও গত বছরের তুলনায় কমেছে।

Sharif Market (3)

সদরঘাটের শরীফ মার্কেটে ক্রেতাকে পাঞ্চাবি দেখাচ্ছেন এক বিক্রেতা। ছবি: মহুবার রহমান

নিউ জুয়েল গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপক বলেন, চট্টগ্রামের খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর অনেক পাঞ্চাবি কিনেন। তাদের অনেকের দোকান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এবার আমাদের ব্যবসা কমেছে।

বাংলাদেশে তৈরি হওয়া পাঞ্জাবি প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, দুবাই, বাহরাইন, নাইজেরিয়া, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় প্রতিটি দেশে পাঞ্জাবি রপ্তানি হচ্ছে। প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এই পাঞ্জাবি কিনে ওই দেশগুলোর মার্কেটে বিক্রি করেন।

অর্থসূচক/মাহমুদ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ