দৌড় বা সাঁতার, কোনটি সুবিধাজনক!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

দৌড় বা সাঁতার, কোনটি সুবিধাজনক!

শরীরের বাড়তি চর্বি কিংবা ফিট থাকা, সবগুলোতেই শারীরিক পরিশ্রম বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পরিশ্রম ছাড়া ফিট থাকা সম্ভব নয়। তবে অনুশীলনের মধ্যে সাঁতার কাটা কিংবা দৌড়, জনপ্রিয় এই দুটি ব্যবস্থার মাধ্যমেই আপনি যথেষ্ট ক্যালরি পোড়াতে পারবেন। তাই কোনটা আপনার জন্য সুবিধাজনক তা উপযুক্ত পরিবেশ ও সময় প্রাপ্যতার দিকে লক্ষ্য রেখেই বেছে নিতে হবে। এ দুটি পরিশ্রমই আপনার শরীরের ওজন কমানো, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু বাধা-নিষেধ বা সীমাবদ্ধতা তো থেকেই যায়। দৌড় কিংবা সাঁতারে উপযোগিতা বেশি বা কম তা নিয়েই আজকের বিষয়।

দৌড় অনুশীলন শারিরীক সক্ষমতার উপরও নির্ভর করে।

সাধারণত দৌড়ানোর ক্ষেত্রে প্রথমভাগে শরীরের নিম্নাংশের পেশীগুলো (যেমন পা, হাঁটু ইত্যাদি) বেশি সক্রিয় হয়। এর জন্য বিশেষ কোন দক্ষতার প্রয়োজন পড়েনা, ছোটবেলা থেকেই আমরা কমবেশি দৌড়-ঝাঁপে অভ্যস্ত। এবং পরবর্তীতে শরীরের উপরের অংশের পেশীগুলো সচল হয়। সাঁতারের ক্ষেত্র আমাদের শরীরের উপরের দিকের পেশী বাহু, ঘাড় এ পেশী গুলো প্রথমে সচল হয়। যদি আপনার ওজন আনুমানিক ৭০ কেজি হয়, তাহলে ৩০ মিনিট দৌড়ালে প্রায় ৩৭২ ক্যালরি ক্ষয় হয়। আবার ১২ কিমি পথ দ্রুত হাঁটলে ৪৬৫ ক্যালরি ক্ষয় হয়। তবে দৌড়ের সীমাবদ্ধতা হলো শারিরীক সক্ষমতায়।  তবে যাদের শরীরের বিভিন্ন মাংশপেশী, হাড়ে বিশেষ করে অস্থিসন্ধিতে সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে দৌড়ানোকে আদর্শ বলা যায় না।

সাঁতার, বলা হয়ে থাকে সাঁতার হচ্ছে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যায়াম। কারণ এই অনুশীলনের মাধ্যমে আমাদের শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই একত্রে একটি ছন্দে চালিত হয়। যদি কোনো প্রত্যঙ্গে কোনোপ্রকার সমস্যাও থেকে থাকে তাহলেও কোনো প্রকার ছন্দপতন ঘটে না। তবে সাঁতরানোর দক্ষতা অর্জনের জন্য নিয়মিত জলাশয়ে যেতে হবে। আপনার ওজন যদি আনুমানিক ৭০ কেজি হয় তাহলে ৩০ মিনিট সাঁতারে ৪০৯ ক্যালরি ক্ষয় হয়। তবে হৃদরোগে আক্রান্ত কিংবা ফুসফুসের সমস্যা থাকলে সাঁতারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নইলে বুকে পানির চাপে কোনো অঘটন ঘটতে পারে।

সবচেয়ে আদর্শ ব্যায়ামের মধ্যে সাঁতারকে উপরের তালিকায় রাখা হয়।

দৌড় এবং সাঁতার, উভয় পদ্ধতিতেই ক্যালরি ক্ষয় করা সম্ভব। তাই প্রশ্ন জাগতে পারে সাঁতার আর দৌড়ানোর মধ্যে কোনটি উত্তম।

দৌড়ানোর সুফল
১. আমাদের হাড় ও মাংশপেশীকে সুদৃঢ় করে ।
২. হাঁটু, শরীরের নিচের অংশের অস্থিসন্ধিগুলোকে শক্তিশালী করে।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৪. শরীরের শক্তি বাড়ায়।
৫. মানসিক বৃদ্ধি ও সু্সংগঠিত করে।
৬. শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখে।

সাঁতারের অন্যান্য সুবিধা
১. শরীরের সকল সংযোগ শিথিল করে এবং কর্মশক্তি বাড়ায়।
২. সকল পেশীকে উজ্জীবিত করে। হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
৩. শরীরের ভারসাম্য ও সমন্বয় সাধন করে।
৪.  ফুসফুসের স্বাভাবিকতা বজায় রাখে।
৫. আর্থারাইটিসে আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রেও সহায়তা করে। এছাড়া বার্ধক্য রোধে পানির একটা স্বতন্ত্র ভূমিকা রয়েছে।

তাই নিজেদের শারিরীক অবস্থা,  অনুশীলনের পরিবেশ ও পরিস্থিতি এবং সময়কে গুরুত্ব দিয়ে উপযুক্ত পন্থা বেছে নেওয়াটাই উত্তম।

সূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস

অর্থসূচক/টি এম/কে এম

এই বিভাগের আরো সংবাদ