সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বিশ্বের কিছু মসজিদ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বিশ্বের কিছু মসজিদ

মিনার, গম্বুজ ও নানান নকশার ভিত্তিতে সারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় দেখা মেলে নান্দনিক সব মসজিদের। মসজিদগুলো যে শুধু দেখতেই সুন্দর তা-ই নয়, বরং বহু পুরানো সব ইতিহাস ও স্থাপত্যশিল্পের সাক্ষী হিসেবেও সমৃদ্ধ। সারা বিশ্বে এরকম আরও অনেক মসজিদই রয়েছে।

দৃষ্টিনন্দন কিছু মসজিদ নিয়েই আজকের অর্থসূচকের আয়োজন-

গ্রেট মস্ক অব সামারা, ইরাক

১। গ্রেট মস্ক অব সামারা, ইরাক
ইরাকের উত্তর দিকের একটি নগরের নাম সামারা। বাগদাদ থেকে ১২৫ কিলোমিটার দূরে তাইগ্রিস নদীর পাড়ে সামারার অবস্থান। আর এই সামারাতেই রয়েছে এক সময়ের বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম মসজিদ ‘গ্রেট মস্ক অব সামারা’। এর বিশেষত্ব হলো শামুকের মতো দেখতে মিনার, যার নাম ‘মালাউইয়া’। সর্পিল পথের ৫২ মিটার উঁচু এই মিনারটি প্রস্থে ৩৩ মিটার। বোমার আঘাতে, ২০০৫ সালের ১ এপ্রিল মালাউইয়া মিনার ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

শেখ জায়েদ মসজিদ, আবু ধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত

২। শেখ জায়েদ মসজিদ, আবু ধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবু ধাবিতে অবস্থিত এই মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে আরব আমিরাত এর প্রয়াত রাষ্ট্র প্রধান শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাইয়ানের নামানুসারে। মসজিদের ভেতর আছে পৃথিবীর বৃহত্তম ঝাড়বাতি, গালিচা ও মার্বেল মোজাইক। মসজিদের চার কোণে ফুলের নকশা করা চারটি মিনারে রয়েছে এবং এগুলোর উচ্চতা ৩৫১ ফুট। এছাড়াও ছোট-বড় সব মিলিয়ে রয়েছে সাত আকারের ৮২টি গম্বুজ। মসজিদটির আঙিনায় মার্বেল মোজাইকটি ১৭ হাজার বর্গমিটার। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আয়তনের মার্বেল মোজাইক। এখানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারে। জুম্মাবার ও ঈদের সময় সর্বমোট দেড় থেকে দুই লাখ মানুষ নামাজ এখানে আদায় করেন।

সুলতান আহমেদ মস্ক, ইস্তানবুল, তুরস্ক

৩। সুলতান আহমেদ মস্ক, ইস্তানবুল, তুরস্ক
ওসমানী সুলতান প্রথম আহমদের নির্মাণ করা এই মসজিদটি ‘ব্লু  মস্ক’ নামেও পরিচিত। মসজিদের ভেতরের পুরো দেয়াল নীল টাইলস দিয়ে ঘেরা বলেই ইউরোপীয়দের কাছে এই মসজিদ ‘ব্লু  মস্ক’ নামে পরিচিত। ৮টি গম্বুজ ও ৬টি মিনারের এই মসজিদটি একটি কমপ্লেক্স, যেখানে সুলতান আহমেদের মাজার, মাদ্রাসা ও একটি সরাইখানা রয়েছে । এই মসজিদের একটি বিশেষত্ব হলো যে, ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে পোশাক নিয়ে কিছু বিধি-নিষেধ রয়েছে। তাই মসজিদে ঢুকতে হলে আপনাকে পুরোদস্তুর ইসলামিক পোশাক পরে নিতে হবে।

মসজিদ-ই জামেহ, ইসফাহান, ইরান

৪। মসজিদ-ই জামেহ, ইসফাহান, ইরান
৭৭১ খ্রিষ্টাব্দে তৈরি করা এই মসজিদটি গম্বুজ দিয়ে বানানো ইরানের প্রথম মসজিদ। জুম্মাবারের নামাজ আদায় করার জন্য বানানো হয়েছিলো এটি। ৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা আল মোতাযাম-ই আব্বাসী মসজিদটি ভেঙে পুনরায় একই জায়গায় কেবলামুখী করে মসজিদটি আবার নির্মাণ করেন। নানান সময়ে ও নানান ঢঙে এই মসজিদটির পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের সাথে জড়িয়ে আছে ইরানের বিভিন্ন শাসক ও স্থাপত্যশিল্পের ইতিহাস। উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ইটের তৈরি দুটি মিনারের জন্য মসজিদটি বেশ জনপ্রিয়। উত্তরের গম্বুজটি ‘তাজ আল-মূলক’ ও দক্ষিণের গম্বুজটি ‘নিজাম আল-মূলক’ নামে পরিচিত। দুটি গম্বুজ তৈরি করেছেন ভিন্ন দুজন মানুষ, যাদের নামেই নামকরণ করা হয়েছে গম্বুজ দুটি।

লা মেজকিতা, কর্ডোভা, স্পেন

৫। লা মেজকিতা, কর্ডোভা, স্পেন
ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত এই মসজিদটি এতটাই সুন্দর ও এর ইসলামিক ঐতিহ্য এতটাই সমৃদ্ধ যে, মহাকবি ইকবাল মুগ্ধ হয়ে মসজিদটি নিয়ে সাতটি কবিতা লিখেছেন। ৭৮৪-৭৮৬ সালে নির্মিত এই মসজিদটি তৈরির প্রায় পাঁচশত বছর পর এখানে মুসলিমরা নামাজ আদায় করতে সক্ষম হয়েছিলো। মসজিদটি দ্য মস্ক ‘ক্যাথিড্রাল অব কর্ডোভা’ নামেও পরিচিত। কারণ রাজা ফার্ডিনান্ড ও রানী ইসাবেলার আমলে মুসলমানদের পরাজয় করে স্পেন দখল করার পর মসজিদটিকে গির্জায় রূপান্তরিত করা হয়। যদিও সবাই এই স্থাপত্যশিল্পটিকে এখনও মসজিদ হিসেবেই গণনা করে।

জামে হাসানাল বলখিয়া মসজিদ, ব্রুনাই

৬। জামে হাসানাল বলখিয়া মসজিদ, ব্রুনাই
১৯৯৪ সালে তৈরি করা এই মসজিদটির নামকরণ করা হয় সুলতান হাসানাল বলখিয়া মু’জাদিন ওয়াদ্দুলাহ এর নামে। মসজিদটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় সুলতানের জন্মদিনের ঠিক আগের রাতে। সে বছর সুলতানের সিংহাসন আরোহণের ২৫ বছর সম্পন্ন হয়েছিলো। এই উপলক্ষেই সুলতান ব্রুনাই এর বাসিন্দাদের এই মসজিদটি উপহার দেন। বিশাল আয়তনের এই মসজিদে একসাথে ত্রিশ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারেন।

তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট

অর্থসূচক/টি এম/কে এম

এই বিভাগের আরো সংবাদ