ঊর্ধ্বমুখী চালের বাজার; বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ঊর্ধ্বমুখী চালের বাজার; বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

খুলনার খুচরা বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৫২ টাকায় বিক্রি হওয়া মিনিকেট চাল আজকের বাজারে ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ৬-৭ টাকা বেড়ে বালাম চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৫৬ টাকায়। এভাবে গত এক সপ্তাহের মধ্যে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

আজ শুক্রবার সকালে খুলনার বিভিন্ন পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কালোজিরা চাল ৮২ টাকা; মিনিকেট চাল ৫৫ টাকা; বালাম চাল ৪৯ টাকা; স্বর্ণা চাল ৪৫ টাকা; বাসমতি চাল ৬১ টাকা; নাজিরশাইল ৫৭ টাকা; ভাইটেল ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

Rice (3)

বিভিন্ন ধরনের চাল।

এক সপ্তাহ আগে পাইকারিতে প্রতি কেজি কালোজিরা চাল ৬২ টাকা; মিনিকেট চাল ৪২ টাকা; বালাম চাল ৩২ টাকা; স্বর্ণা চাল ৪৫ টাকা; বাসমতি চাল ৫৭ টাকা; নাজিরশাইল ৫৬ টাকা; ভাইটেল ৫১ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। এর আগের সপ্তাহে অর্থাৎ রোজার শুরুর দিকে পাইকারিতে সব ধরনের চালের দাম আরও কম ছিল।

ক্রমান্বয়ে চালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে হাওরে অকাল বন্যা ও প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু ক্ষেত্রে নতুন করে শুল্ক নির্ধারণে বিষয়টি উল্লেখ করছেন ব্যবসায়ীরা। পাইকারদের মতে, হাওরের অকাল বন্যার পর থেকে মিল মালিকরা চালের দাম বাড়াচ্ছেন। ফলে আমরা দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছি।

খুলনার বড় বাজারের মেসার্স মুরাদ ট্রেডিংয়ের ম্যানেজার জিয়াউল হক বলেন, চালের দাম বাড়ানো বা কমানোর কোনো ক্ষমতা আমাদের নেই। মিল মালিকদের কাছ থেকে যে দামে কিনি- তাতে অল্প লাভ করে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে চাল বিক্রি করি।

অন্যদিকে তালতলা মসজিদ রোডের জাকির স্টোরের মালিক জাকির বলেন, গত এক সপ্তাহের মধ্যে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা হারে বেড়েছে। পাইকারদের থেকে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে বলে বেশি দামেই চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের পকেট ভারী করতেই গুদামজাত করার পর দাম বাড়িয়ে চালসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য বিক্রি করে।

তবে চালের দাম কমানো ইঙ্গিত দিয়েছেন মেসার্স মুরাদ ট্রেডিংয়ের ম্যানেজার জিয়াউল হক। তিনি বলেন, চাল আমদানির জন্য এসলি খোলা হয়েছে। আমদানির পর চালের দাম কমবে।

বেশ কয়েকদিন ধরে ক্রমান্বয়ে চালের দাম বাড়তে থাকায় অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষেরা। চড়া দামে চাল কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

রিক্সা চালক মাসুম জানান, দৈনিক পরিশ্রম করে প্রায় ৪০০ টাকা পাই। কিন্তু বর্তমানে প্রায় সব কিছুর দাম বেশি। তাই দৈনিক আয়ের অর্থ দিয়ে একদিনের বাজার করাও সম্ভব হয় না। বরং অন্যের কাছ থেকে কর্য করতে হচ্ছে।

এম. রহমান খান নামের একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, চালের উচ্চমূল্যের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষও।

অর্থসূচক/শিউলী/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ