টেকসই খাদ্য ও কৃষি উন্নয়নে ‘সফল’ এর দ্বিতীয় ধাপ শুরু
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

টেকসই খাদ্য ও কৃষি উন্নয়নে ‘সফল’ এর দ্বিতীয় ধাপ শুরু

প্রথম পর্যায়ের সফল সমাপ্তির পর বিশ্বের বৃহত্তম সাসটেইনেবিলিটি সংগঠন সলিডারিডাড তাদের সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার, ফুড সিকিউরিটি এন্ড লিংকেজেস (সফল) প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের সুচনা করেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট কনভেনশন হলে এই সুচনা হয়।

এতে সরকারি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, সলিডারিডাড-এর উন্নয়ন সহযোগী, সাপ্লাই ও ভ্যালু চেইনে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সফলের উপকারভোগী কলারোয়ার শিখা রাণী

নেদারল্যান্ডস দুতাবাসের সহায়তা নিয়ে বাস্তবায়িত সফল প্রকল্পের প্রথম পর্বটি কৃষি, দুগ্ধ ও সবজি খাতে ১০২০টি উৎপাদনকারী দল প্লাটফর্ম তৈরি করেছে। সেইসঙ্গে এই প্রকল্পে লিড ফামার, কমিউনিটি পুষ্টি স্বেচ্ছাসেবক ও কমিউনিটি প্রাণীসম্পদ সেবাদাতাসহ স্থানীয় পর্যায়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সেবাদাতা তৈরি হয়েছে।

প্রকল্পটি মানসম্মত খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে ৫৮ হাজার কৃষক পরিবারকে সহায়তা জুগিয়েছে, যারা খামারের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আত্মকর্মসংস্থানভিত্তিক উদ্যোগে আত্মনিয়োগ করেছেন।

প্রকল্প পরিচালকরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় পর্বটি ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে, যেটি নিরাপদ ও স্থায়িত্বশীল খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনে টেকসই উন্নয়ন করবে। যার ফলে ১ লাখের বেশি গ্রামীণ পরিবার উপকৃত হবে। নতুন এই পর্বে মৎস্য, দুগ্ধ ও সবজি এবং ফলের পাশাপাশি নতুন পণ্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে সয়াবিন; যেটি নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় ২৫ হাজার পরিবারকে সহায়তা জোগাবে।

বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেন এই প্রকল্পের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় অবদান রাখছে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে সফল-এর মডেল অনুসরণের জন্য তিনি সরকারি, বেসরকারি ও ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্ল্যান্ট প্রটেকশন উইং-এর পরিচালক কৃষিবিদ অমিতাভ দাস বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ক্ষুদ্রচাষীদের উদ্যোগ-সক্ষমতা উন্নয়ন ও কৃষি সাপ্লাই চেইনকে শক্তিশালীকরণের ক্ষেত্রে সফলের অবদানের প্রশংসা করেন।

সোশ্যাল সেক্টর ম্যানেজমেন্ট ফাউন্ডেশন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এ এম জাকির হোসেন বলেন, সফল এলাকায় ৫ বছরের নিচে শিশুদের মধ্যে খর্বাকৃতির হার ২৫% যা জাতীয় হারের তুলনায় ১১ শতাংশ কম। তিনি বলেন, বাল্য বিবাহ, অপ্রাপ্তয়স্কদের গভধারণ, পুনঃপুনঃ গভধারণ, অপুষ্টি ইত্যাদি হচ্ছে টেকসই স্বাস্থ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্যতম সমস্যা।

খুলনার ডুমুরিয়া থেকে আগত সফল লিড ফামার জনাব এস এম আব্দুস সাত্তার বলেন, সফলের কারণে খুলনা অঞ্চলে প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন ও দুগ্ধ উৎপাদনে বিপ্লব এসেছে। তিনি পশুর জাত উন্নয়ন, উচ্চফলনশীল ঘাস চাষ, স্বাস্থ্যসম্মত গোশালা নির্মানসহ সফল-এর বিভিন্ন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে আগত লিড ফার্মার শিখা রাণী সব্জী ও ফল চাষে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি যেমন ফেরোমন ট্র্যাপ, কেঁচো সার, মেহগনি চুন ইত্যাদি ব্যবহারের মাধ্যমে সফল প্রকল্পের কৃষকেরা সব্জী ও ফলচাষে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছেন বলে জানান।

নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটারি মি. লরেন্ট উমান্স সফল-এর দ্বিতীয় পর্বের লঞ্চিং ঘোষণা করেন। তিনি সফল-এর উপকারভোগী ও উন্নয়ন অংশীদারসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

রহিমআফরোজ সুপারস্টোরস লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান জনাব নিয়াজ রহিম, সলিডারিডাড সাউথ এন্ড সাউথইস্ট ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শতদ্রু চট্টোপাধ্যায় সলিডারিডাড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ম্যানেজার সেলিম রেজা হাসান প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এস

এই বিভাগের আরো সংবাদ