আয়নার মজার কিছু তথ্য
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আয়নার মজার কিছু তথ্য

আয়না, প্রতিদিনকার প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। আজকের সময়ে আয়নায় মুখ দেখেই আমাদের অনেকের দিনের শুরু। তবে সেটির উৎপত্তির ইতিহাস কিন্তু অনেক প্রাচীন, প্রায় ২ হাজার বছরের পুরনো। তখন চকচকে ধাতু কিংবা স্থির জলের উপর মুখ দেখার প্রচলন ছিল। তবে অষ্টাদশ শতকে- ‘জাস্টিস ভন লাইবিগ’ নামে একজন জার্মান রসায়নবিদ ১৮৩৫ সালে স্বচ্ছ কাঁচের এক পাশে টিন ও পারদের এক ধরণের প্রলেপ দেওয়ার একটি কৌশল আবিষ্কার করেন। আগে অভিজাতদের থাকলেও এই কৌশলের কারণে আয়না সাধারণ মানুষদের হাতের নাগালে চলে আসে। পরবর্তীতে আরও বড় পরিসরে এবং বাণিজ্যিকভাবে আয়না উৎপাদনের জন্য এই পদ্ধতিটিকে অবলম্বন করা হয়। ধীরে ধীরে সময়ের সাথে সাথে আজকের আধুনিক আয়নার রূপ আমরা দেখতে পাই।

প্রাচীনকালের আবিষ্কৃত ধাতব আয়না

পৃথিবীর সবচেয়ে যে পুরনো আয়নাটি সেটি পাওয়া যায় আনাতোলিয়ার ধ্বংসাবশেষ থেকে, এই জায়গাটি বর্তমান তুরস্কে। মিসর, মেসোপটেমিয়ার পর চীন দেশেও আদি আয়নার উৎপত্তির চিহ্ন পাওয়া যায়।

আয়না চিরকালই মানুষকে কৌতূহলী করেছে, এজন্যই এই আয়না নিয়ে প্রচলিত আছে নান রূপকথা, অভিশাপ এবং কুসংস্কারের কাহিনী, আছে চমকপ্রদ কিছু কথাও। আসুন জেনে নেই এমনই কিছু তথ্য-

ফুলের নকশায় তৈরি ঘর সাজানোর আয়না

• প্রাচীন রোমে এই বিশ্বাস প্রচলিত ছিল যে, আপনি যদি বাড়ির পুরনো কোনো আয়না ভেঙ্গে ফেলেন তাহলে পরবর্তী অন্তত ৭ বছর পর্যন্ত আপনার দুর্ভাগ্য কাটবে না।
• রোমানরা এটাও বিশ্বাস করতো পুরনো কোনো আয়না ভেঙ্গে যাওয়া মানে আপনি আপনার ভেতরে থাকা পবিত্র আত্মাকেই নষ্ট করে ফেলেছেন।
•  গ্রিক দেবতা জিউসের অনুসারীরা বাড়িতে কারো মৃত্যু হলে সবসময় সেই বাড়িতে থাকা আয়নাগুলি ঢেকে রাখতো, তাদের বিশ্বাস ছিল মৃতদেহ থেকে পবিত্র আত্মাকে বন্দি করে রাখার ক্ষমতা আছে আয়নার। আর একবার যদি মৃত ব্যক্তির আত্মা আটকা পড়ে, তাহলে কিছুতেই সেটি আর পরলোকে যেতে পারবে না!

এই আয়নাগুলি দেখতে ঠিক জানালার মতো

• আয়না আপনাকে নিয়ে যেতে পারে হ্যালুসিনেশনের দুনিয়ায়। নিজে নিজেই এই পরীক্ষাটি করতে পারেন। একটা অন্ধকার ঘরে বড় আয়নার সামনে দাঁড়ান, তবে শুধুমাত্র হাতে একটা মোমবাতি এমনভাবে ধরে রাখুন যেন আপনার মুখের ওপর পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো পড়ে। এবার আয়না থেকে ১ মিটারের ব্যবধানে দাঁড়ান এবং একটানা অন্তত মিনিট দশেক নিজের চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকুন। নিজেকে ছাড়া আর কিছু কি দেখতে পেলেন!
• আয়না শুধুমাত্র অবয়ব বা ছবি-ই নয়, শব্দও প্রতিফলিত করে। এই ধরণের আয়নাগুলিকে বলা হয় “অ্যাকুয়িস্টিক মিরর”। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনে এই আয়নাগুলি শত্রুপক্ষের বিমানের শব্দতরঙ্গ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হত।
• আয়নায় আমরা নিজেকে দেখে চিনতে পারবো- এটা তো খুব স্বাভাবিক ব্যাপার, তাই না? কিন্তু কারো কারো কাছে এই সহজ জিনিসটি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, মানে তারা আয়নায় নিজেকে দেখলে চিনতে পারে না! বাচ্চাদের কথাই ধরা যাক, ছোট বাচ্চারা তো তাদের ২৪ মাস বা ২ বছর বয়সের আগ পর্যন্ত বুঝতেই পারে না আয়নায় কাকে দেখছে!

কিছু বন্যপ্রাণী আয়নায় নিজেকে চিনে নিতে ব্যর্থ হয়!

• এই ‘নিজেকে আয়নায় চিনতে পারা’র পরীক্ষাটি বিজ্ঞানীরা পরবর্তীতে চালিয়েছিলেন পশুপাখিদের ওপরও, যেখানে প্রথমবারেই পাশ করতে ব্যর্থ হয় গরিলা। তবে কেউ কেউ আবার উতরে গেছে পরীক্ষা দিয়ে, এদের মধ্যে আছে বেবুন, শিম্পাঞ্জী, কয়েক প্রকারের পাখি এবং ডলফিনেরা!

তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট

অর্থসূচক/টি এম/কে এম

এই বিভাগের আরো সংবাদ