বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে আগাম টিকেট
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে আগাম টিকেট

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৭টা থেকে টিকেট বিক্রি শুরু হলেও বৃষ্টির কারণে টিকেট প্রার্থীদের ভিড় তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে টিকেট প্রার্থী কম থাকলেও টিকেটের দাম ঠিকই বাড়তি রাখা হচ্ছে।

আজ সোমবার গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখান থেকে দক্ষিণ ও উত্তর বঙ্গের উদ্দেশ্যে যেসব গাড়ি ছেড়ে যায় তার সবগুলোই আগাম টিকেট দিতে শুরু করেছে। তবে টিকেটের দাম স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক শতাংশ বেশি রাখা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গগামী বেশিরভাগ কোম্পানির বাসের টিকেটে ৩০ শতাংশের কাছাকাছি বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে টিকেট প্রতি। দক্ষিণের গাড়ির টিকেটেও রাখা হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়তি দাম।

হানিফ পরিবহনের কাউন্টারের সামনে কথা হয় রাফসান আহমেদের সঙ্গে। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। যশোরের টিকেট কিনেছেন তিনি। রাফসান অর্থসূচককে বলেন, অনেক কষ্ট করে টিকেট পেয়েছি। তবে দাম অন্য সময়ের তুলনায় একটু বেশিই নিচ্ছে।

তিনি বলেন, অন্য সময়ে যশোরের টিকেট ৪৮০ টাকা রাখা হলেও ঈদের সময় ৬২০ টাকা রাখা হচ্ছে।

গোল্ডেন লাইন পরিবহনের সামনে কথা হয় ফরিদপুরের টিকেট নেওয়া সাফাত আদনানের সঙ্গে। তিনি বলেন, টিকেটের মূল্য অন্য সময়ে ৩৫০ টাকা রাখা হয়। কিন্তু প্রতি বছরই ঈদের সময় বাড়তি দাম রাখা হয়। আজও ৪৭০ টাকা দিয়ে টিকেট কিনতে হয়েছে।

ঠাকুরগাও যাবেন, দারুল ইসলাম। অন্যসময় যখন টিকেটের দাম গুণতে হয় জন প্রতি ৬০০ টাকা সেখানে আজ তাকে টিকেট কিনতে হয়েছে ৮২০ টাকা করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাখালী, সায়দাবাদ ও গুলিস্তানের কিছু বাসও টিকেটের বাড়তি দাম আদায় করছে।

সরকার নির্ধারিত সড়ক পথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগীয় শহরের জনপ্রতি গাড়ি ভাড়া ৪৮০ টাকা হলেও আগাম টিকেটের দাম রাখা হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬২০ টাকা।

বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে দূরপাল্লার বাস সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিআরটিএর সঙ্গে বৈঠক করেই ভাড়া বেশি রাখা হচ্ছে।

সোহাগ পরিবহনের গাবতলীর কাউন্টার মাষ্টার মঈন উদ্দিন বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে টিকেটের মূল্য বেশি নেওয়ার অভিযোগ সত্য। আমাদেরে কাছে বিআরটিএর চার্ট আছে। আমরা সে অনুযায়ীই ভাড়া নিচ্ছি।

বিআরটিএর সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে বাড়তি ভাড়ার এ চার্ট তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে তার এই দাবি অস্বীকার করেছেন এসব অনিয়ম দুর্নীতির ব্যাপারে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) পরিচালক (ইনফোর্সমেন্ট) নাজমুল আহসান মজুমদার। তিনি অর্থসূচককে বলেন, দামের ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে কোনো বাস মালিকদের কোনো বৈঠক হয়নি। একটা বৈঠক হয়েছিল সেটা অন্য বিষয়ে।

তিনি বলেন, টিকেটের দাম বাড়তি রাখার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে হানিফের কাউন্টার কর্মকর্তা শরীয়তুল্লাহ মিন্টু বলেন, আমরাও কিছু বেশি দাম নিচ্ছি। অন্য সময়ে আসা-যাওয়ার ট্রিপে যাত্রী পূর্ণ থাকায় বিআরটিএর বেঁধে দেওয়া দাম থেকে কিছুটা কম নিতে পারি। ফিরতি পথের কথা চিন্তা করে এখন কম নেওয়া সম্ভব না।

তিনি বলেন, বগুড়ায় বিআরটিএর ভাড়া ৫২০ টাকা, সেখানে অন্য সময়ে আমরা নিই ৪৫০ টাকা। ডাবল ট্রিপে যাত্রী পূর্ণ থাকায় সেটা নিতে পারি। কিন্তু ঈদের সময়ে ফিরতি ট্রিপে যাত্রী অল্প কয়েকজন থাকায় সেখানে কম নেওয়া সম্ভব হয় না।

তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ খান বলেন,  অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বেআইনি। এটি  বন্ধে প্রতিটি কাউন্টারে ভাড়ার তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বাস মালিক সমিতির পর্যবেক্ষণ দল সর্বদা টার্মিনালে তদারক করবে।

বিআরটিএর যুগ্মসচিব মুহাম্মদ শওকত আলী জানান, বিআরটিএ আগামী ২২ জুন থেকে অভিযান পরিচালনা করবে। তবে অগ্রীম টিকেটের দাম যদি কেউ বেশি রাখে তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ঈদে বিভিন্ন যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে রাজধানীর সায়দাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী এলাকায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হবে। এই টিম যাত্রী ভোগান্তি আছে কি না, তা দেখভাল করবে।

তবে আজ সোমবার ঈদের অগ্রীম টিকেট বিক্রির প্রথম দিনে গাবতলী এলাকায় এই ভিজিলেন্স টিমের কোনো উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/টি

এই বিভাগের আরো সংবাদ