ভৈরবে ৪২ দিন পর কবর থেকে ব্যবসায়ীর লাশ উত্তোলন
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ভৈরবে ৪২ দিন পর কবর থেকে ব্যবসায়ীর লাশ উত্তোলন

ভৈরবে দাফনের ৪২দিন পর এক ব্যবসায়ীর লাশ উত্তোলন করেছে পুলিশ। ট্রেনের নীচে কাটা পড়ে নিহত উত্তর ভৈরবপুর এলাকার মরহুম নজরুল ইসলামের ছেলে মো: হাবিবুর রহমানের (৪২) লাশ আদালতের নির্দেশে আজ সোমবার পৌর কবরস্থান থেকে উত্তোলন করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হাবিবুর রহমান দীর্ঘ দিন চট্রগ্রামে মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসা করতেন। পরিবার নিয়ে তিনি সেখানেই থাকতেন। গত ১ মে তিনি ব্যবসায়ীক কাজে চট্রগ্রাম থেকে একটি আন্তঃনগর ট্রেনের খ বগির ৪৪ নাম্বার সিটে বসে চাঁদপুর যাচ্ছিলেন।

ভৈরবে ৪২ দিন পর কবর থেকে ব্যবসায়ীর লাশ উত্তোলন

কিন্তু পরে তার পরিবার ট্টগ্রাম পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারে- তিনি ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন। ঘটনার পর থেকে নিহতের ভাই এডভোকেট আয়ূব হোসেন প্রায় দুই সপ্তাহ খোঁজ খবর নিয়ে তার হত্যার রহস্য উন্মোচন করেন।

পরে নিহতের ভাই অ্যাড. আয়ূব হোসেন গত ১৭ মে চট্রগ্রাম জুডিশিয়াল আদালতে অভিযোগ করেন, গত ১ মে রেলওয়ের ১১জন পুলিশসহ মোট ১৯জন মিলে তার ভাইয়ের ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতে তাকে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করে। ঘটনার সময় হাবিবুর রহমান চট্রগ্রাম থেকে মেঘনা আন্তঃনগর ট্রেনে চড়ে চাঁদপুর যাচ্ছিলেন। ওইদিন ট্রেনটি চট্রগ্রামের সীতাকুন্ড রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছলে রেলওয়ে পুলিশ যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি শুরু করে। এসময় হাবিবুর রহমানের ব্যাগে পুলিশ দেশী-বিদেশী টাকা দেখে তাকে বাথরুমের কাছে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তার টাকার ব্যাগটি পুলিশ জোর করে নিতে চাইলে তিনি বাঁধা দেন। এসময় পুলিশ তাকে মারধর করে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

পরে পুলিশ প্রচার করে তিনি ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তার লাশ তড়িঘড়ি করে ময়না তদন্ত ছাড়াই পুলিশ তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে বলে বাদী অভিযোগ করেন। তারপর তার ভাই মামলার বাদী দুই সপ্তাহ খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন রেলওয়ে পুলিশ ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতেই তাঁকে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করে।

হাবীবুর রহমান

এই হত্যার সঙ্গে ১১ জন রেলওয়ে পুলিশসহ ১৯ জন জড়িত রয়েছে বলে বাদী অভিযোগ করেছেন। তার মধ্য চট্রগ্রাম রেলওয়ে ওসিসহ সীতাকুন্ড রেলওয়ে ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, কনস্ট্যাবল মিথিল, জাকির, চট্রগ্রাম রেলওয়ে থানার এটিএসআই মশিউর রহমান, চাদঁপুর রেলওয়ে থানার এটিএসআই দুলাল চন্দ্র সাহাসহ স্টেশন মাস্টার প্রহল্লাদ চন্দ্র, এসআই আবদুর রউফ, মেঘনা ট্রেনের গার্ড এসএ ঘোষসহ মোট ১৯ জনকে মামলায় আসামী করা হয়।

আদালতে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিচারক মামলাটি পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দেন। পিবিআইর পুলিশ পরিদর্শক মামলার তদন্তকারী অফিসার জাহাঙ্গীর আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত গত ২৫ মে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন।

এ আদেশের প্রক্ষিতে আজ সোমবার তার লাশ ময়না তদন্তের জন্য ভৈরব পৌর কবরস্থান থেকে উত্তোলন করা হয়। লাশ উত্তোলন করার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) চিত্রা শিকারী, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক আসাদুল হক আসাদ, বাদী এড, আয়ূব হোসেনসহ ভৈরব থানার পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

মোস্তাফিজ/এস

এই বিভাগের আরো সংবাদ