আবগারি শুল্ক বসিয়ে অন্যায় করিনি: অর্থ প্রতিমন্ত্রী
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আবগারি শুল্ক বসিয়ে অন্যায় করিনি: অর্থ প্রতিমন্ত্রী

রং টাইমে বেশি স্মার্টনেস ও স্বচ্ছতা আনতে ব্যাংক আমানতে বাড়তি আবগারি শুল্ক বসিয়ে আমরা বিতর্কিত হয়ে গেছি। তবে আবগারি শুল্ক নিয়ে উর্ধ্বতন মহলে নাড়াছাড়া হচ্ছে। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এ তথ্য জানিয়েছেন।

আজ রোববার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার গ্রুপের কনফারেন্স রুমে ডেইলি সান আয়োজিত ‘নতুন ভ্যাট হার: ব্যবসায়ী ও ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

রোববার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার গ্রুপের কনফারেন্স রুমে ডেইলি সান আয়োজিত ‘নতুন ভ্যাট হার: ব্যবসায়ী ও ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা হয়। ছবি মহুবার রহমান

আবগারি শুল্ক সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আবগারি শুল্ক নিষিদ্ধ পণ্যে বসানো হয় জানা ছিল না। ব্যাংক হিসেবে আবগারি শুল্ক ১৯৪৭ থেকে রয়েছে। আগে কম ছিল, এখন একটু বেড়েছে। আগে ৫ হাজার টাকার অ্যাকাউন্ট থেকেও ৫০০ টাকা কাটা হতো; ২ কোটি টাকার একাউন্ট থেকেও ৫০০ টাকা কাটা হতো; খুবই অস্বচ্ছ। যার অ্যাকাউন্ট সেও জানতো না।

তিনি বলেন, এ বাজেটে আমরা বেশি স্মার্ট ও অস্বচ্ছতা দূর করতে গিয়ে বির্তকিত হয়ে গেছি। ১ লাখ টাকার নিচে ৮০% অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আমরা বলেছি এসব অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো আবগারি শুল্ক কাটা যাবে না। আমরা বেশি টাকার ওপর আবগারি শুল্ক বসিয়েছি। আমরা মনে করি আমরা এতে কোনো অন্যায় করিনি।

প্রসঙ্গত, প্রস্তাবিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর বাড়তি হারে আবগারি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবে বলা হয়, বছরের যে কোনো সময় ব্যাংক হিসাবে এক লাখ টাকার বেশি স্থিতি থাকলে আবগারি শুল্ক বিদ্যমান ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করা হবে।

পাশাপাশি ১০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ টাকার বদলে ২ হাজার ৫০০ টাকা, ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৭ হাজার ৫০০ টাকার বদলে ১২ হাজার টাকা এবং ৫ কোটি টাকার বেশি লেনদেনে ১৫ হাজার টাকার বদলে ২৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক আরোপ করা হবে।

এ প্রস্তাবের পরই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কিন্তু এ সমালোচনার মুখেও পিছু হঠছে না সরকার। অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাড়তি আবগারি শুল্ক কমানোর পরিকল্পনা নেই সরকার।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন ভ্যাট আইন ও হার নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে তা থেকে বুঝা যায়- বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। ধীরে ধীরে আলোচনার মাধ্যমে এ আইন নিয়ে কুয়াশা, ধোঁয়াশা কেটে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এ মুহূর্তে ১৬০টি দেশে ভ্যাট রয়েছে। আমরা তো বিশ্বের বাইরে নয়। উচ্চ ও নিম্ন আয়ের দেশেও ভ্যাট রয়েছে। প্রতিবেশি দেশ ভারত ভ্যাট চালু করছে। বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাপট হচ্ছে ভ্যাট প্রয়োজনীয় ও জনপ্রিয় নয়। সার্বিক দিক থেকে ভ্যাট অর্থনীতিতে কষ্টের জায়গা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্য সম্পূর্ণ ভ্যাট আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ভ্যাটের সাথে যেহেতু ভোটের সম্পর্ক রয়েছে সেহেতু আমরা রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি হিসেবে এ অব্যাহতি দিয়ে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি।

তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ভুটান ও ভারতে যদি ভ্যাট আরোপ ও বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে কেন আমরা করতে পারবো না। আমরা যেহেতু দীর্ঘদিন এ আইন নিয়ে আলোচনা করেছি সেহেতু আমরা তা বাস্তবায়ন করতে পারবো, কোন সমস্যা হবে না।

ভ্যাট হার ১৫% নিয়ে একজন অর্থনীতিবিদের তোলা প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে গড় ভ্যাট হার ১৪.৮০%। আমরা তো তার কাছাকাছি ১৫% করেছি। বিশ্ব ভ্যাটের চেয়ে আমাদের তো বেশি না, কাছাকাছি রয়েছি।

ভ্যাট বিষয়ে আইএমএফ এর ভূমিকা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইএমএফ আমাদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেয়নি। তারা উপদেষ্টা হিসেবে বিশ্বের যেসব দেশ ভ্যাট বাস্তবায়ন করেছে সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে।

ভ্যাট আইন সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেহেতু আমরা প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি, প্রবৃদ্ধি ৬% থেকে ১৫% নিয়ে যাচ্ছি; মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করছি, তাই আমরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি তাতে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করতে পারবো।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে যে উদ্দেশ্য নিয়ে ভ্যাট আইন করা হয়েছে, সে আইনকে আমরা মোটেও মন্দ আইন বলছি না। নতুন আইনের সংস্কার ৫ বছর কেন প্রয়োজন হলেও একবছর পর পর করা হবে। যদি এক বছর দেখা যায় এ আইনে কোনো সমস্যা দেখা দিচ্ছে সংসদে তুলে তা সংস্কার করা হবে।

তিনি বলেন, কারো ক্ষতি করার জন্য নতুন ভ্যাট আইন করা হয়নি। নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বস্তি দেয়া, সঠিকভাবে ভ্যাট আদায় ও ভ্যাট ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করতে এ আইন করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এতে সহযোগিতা করবে বলে আশা করি। এ আইন বাস্তবায়নে অনেক ঘাটতি থাকবে, আগামী ২ বছরের মধ্যে এ আইনে আমরা একটা সম্মানজনক অবস্থায় আসতে পারবো।

ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে আরও সময় দেওয়া দরকার- ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের এমন প্রস্তাবের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ সরকারের চেয়ে ব্যবসাবান্ধব সরকার কমই আছে। নতুন আইন বাস্তবায়নে আর সময় দেয়া যাবে না।

ডেইলি সানের সম্পাদক ইনামুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, ডিসিসিআই এর প্রথম সহ সভাপতি কামরুল ইসলাম, বার্ডস এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ প্রমুখ।

অর্থসূচক/রহমত/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ