প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে জনসম্পৃক্ততা দরকার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে জনসম্পৃক্ততা দরকার

বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা গেলে গুণগত মান ভালো হবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম-দুর্নীতির পরিমাণও কমে আসবে।

সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় নাগরিক-সম্পৃক্ততা সৃষ্টিতে সহায়তার জন্য গঠিত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি কমিটি (পাবলিক প্রাইভেট স্টেকহোল্ডারস্ কমিটি-পিপিএসসি) এর ১২তম সভায় এমন অভিমত ওঠে এসেছে।আজ বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

Grameen-Road

একটি গ্রামীণ সড়কের নির্মাণ কাজ

সভায় বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) বিভাগের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, সরকার পরীক্ষামূলকভাবে অনেকগুলো প্রকল্পে জনগণকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এ উদ্দেশ্যে একটি আইনী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জনসচেতনতার অভাব প্রকল্পের গুণগত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যে জনগণের টাকায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেটি তারা জানেই না। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে কি-না, মানসম্মত নির্মাণ উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তাদের কোনো আগ্রহ থাকে না। চোখের সামনে অনিয়ম হলেও তা ঠেকাতে উদ্যোগী হয় না।

তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মন্দ টাকা ও অশুভ শক্তির প্রভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

আইএমইডি সচিব বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি একটি বাস্তবতা। তবু আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে।

সভায় বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের প্রতিনিধিরা প্রকল্প বাস্তবায়ন মনিটরিংয়ের লক্ষ্যে নাগরিক কমিটি গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তবে এর জন্য একটি কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরী বলেও তারা অভিমত দেন।

তারা বলেন, স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ ভাবমূর্তিসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত এমন ব্যক্তিদের কমিটিতে না রাখাই ভালো।

অন্যদিকে কমিটি কোনো পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ পাঠালে সেটি যাতে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়, অভিযোগের সত্যতা থাকলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে। এটি নিশ্চিত না হলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন মনিটরিং এ কমিটির সদস্যদের আগ্রহ থাকবে না।

সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের মহাপরিচালক মো. ফারুক হোসেন বলেন, সরকারি কেনাকাটা অনলাইনভিত্তিক হওয়ার পর এখানে অনেক স্বচ্ছতা এসেছে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু সমস্যা রয়েই গেছে। সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা আর টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান এসব সমস্যার সমাধান করতেই হবে।

সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সাধারণ সম্পাদক ও অনলাইন পত্রিকা অর্থসূচকের সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা না গেলে, উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হলে প্রকল্পের মানসম্পন্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বেশীরভাগ ঠিকাদার যেনতেনভাবে কাজ শেষ করতে চায়। কেউ কেউ আবার কাজ শেষ না করেই বিল তুলে নেয়। নানা অজুহাতে প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিলম্বিত করে। অনেক ঠিকাদার কাজ পাওয়ার পর নিজে তা বাস্তাবায়ন করে না; অন্যের কাছে বেচে দেয়। এভাবে কোনো কোনো প্রকল্প তিন/চার হাত বদল হয়ে বাস্তবায়নে আসে। প্রত্যেক পক্ষই নিজের মুনাফাটা নিশ্চিত করতে চায়। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দের অর্ধেক টাকাও ব্যয় করা হয়ে উঠে না।

তিনি আরও বলেন, নাগরিক কমিটি গঠন করে জনগণের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে প্রকল্পের বাস্তবায়ন মনিটরিং করলে কিছুটা সুফল পাওয়া যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে ফল পেতে হলে প্রকল্পের বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করতে হবে, এসব তথ্য জানা না থাকলে মনিটরিং করা যাবে না। কমিটির পর্যবেক্ষণ বা সুপারিশের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এটি না হলে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারি অফিস ও ঠিকাদার-কেউই কমিটির সুপারিশের পরোয়া করবে না।

সভায় বক্তারা সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব, অভিযোগ বিবেচনায় নেওয়া, কাজের জবাবদিহীতা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

সভায় অভিমত তুলে ধরেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান, গবেষক ড. মির্জা হাসান, বিশ্বব্যাংকের এএনএম মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ড. কাজী আলী তৌফিক,  ব্র্যাকের পরিচালক আহমেদ নাজমুল হোসেইন, বাংলাদেশ নির্মাণ শিল্প সমিতির প্রকৌশলী এস এম খুরশিদুল আলম প্রমুখ।

সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় জন-অংশগ্রহণ সৃষ্টি এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ-সম্পদের উত্তম ব্যবহার নিশ্চিত এবং কাজ ও সেবার মান উন্নত করার লক্ষ্যে ২০১৬ সনে পরিকল্পনামন্ত্রীর নেতৃত্বে পিপিএসসি পুনর্গঠন করা হয়।

এ কমিটিতে শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞ সংগঠন, বেসরকারি উন্নয়ন ও গবেষণা সংস্থা এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) ক্রয় প্রক্রিয়ায় নাগরিক সম্পৃক্ততার উপায় উদ্ভাবনে সরকারকে কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ